খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

দুমকীতে শিশু হত্যার অভিযোগ

জমাজমির বিরোধে দুমকীতে পেটে লাথি দিয়ে গর্ভজাত সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম || স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
জমাজমির বিরোধে দুমকীতে পেটে লাথি দিয়ে গর্ভজাত সন্তানকে হত্যার অভিযোগ

জমাজমির বিরোধে পটুয়াখালীর দুমকীতে রুমা বেগম(৩০) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার(১০ মার্চ) সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে মিয়া বাড়ি এলাকায় ওই গৃহবধূর ভাসুর জামাল হোসেন মৃত. শিশুটির লাশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

জামাল হোসেনের অভিযোগ, বিরোধপূর্ন জমিতে স্থানীয় সাবিদ আলী গংয়ের লোকজন মঙ্গলবার(৮মার্চ) সকালে মাটি কাটেন। এসময় তারা বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষ বশির আকন ও তার স্ত্রী সাবিহা আক্তার কচি তার ভাই কামালকে মারধর করেন। ভুক্তভোগী রুমা এর প্রতিবাদ করলে বশির আকনের স্ত্রী সাবিহা আক্তার কচি সাত মাসের অন্তঃসত্তা রুমা বেগমকে চড় থাপ্পড় ও পেটে লাথি মারেন। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পটুয়াখালীতেই একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে বাচ্চার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসক এবং বুধবার(৯ মার্চ) রাতে সিজারের মাধ্যমে মৃত. শিশুটিকে বের করে আনা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বিবাদমান জমিতে পিলার উঠিয়ে ফেলেন চান মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন। পরে প্রতিপক্ষ সাবেদ আলী আকন গং এ কাজে বাঁধা দিলে উভয় পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এতে উপস্থিত ছিলেন চান মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, ছোট ভাই লাবু মিয়া, জামালের স্ত্রী আসমা বেগম, চান মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও কামালের অন্তঃসত্তা স্ত্রী রুমা বেগম। অপর দিকে সাবেদ আলী আকনের ভাতিজা বিপ্লব আকন, ছেলে বশির আকন, বশির আকনের স্ত্রী সাবিহা আক্তার কচি উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুলতান হাওলাদারের স্ত্রী রাশেদা বেগমের ভাষ্য, দূর থেকে তিনি মারামারি দেখেছেন। তবে কে কাকে মেরেছেন তা বলতে পারছেন না তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বশির আকন বলেন, জমাজমি নিয়ে আমাদের দু’পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। উক্ত মামলায় জিততে ও আমাদের হেনস্তা করতে এ মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে তারা(চান মিয়া সিকদার গং)।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন একুশে বার্তাকে জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তার জানা আছে কিন্তু মারামারির ঘটনা তিনি জানেন না।

দুর্গাপুরে বাড়িঘরে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা, সর্বোচ্চ বিচার দাবি

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে বাড়িঘরে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা, সর্বোচ্চ বিচার দাবি

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বাড়িঘরে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ভাদুয়া গ্রামে গত ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামী আব্দুল হাকিম, আব্দুল মন্নান,লালচান, জিয়াউর রহমান, মিনকুল সহ অভিযুক্ত ১১জন অত্যন্ত কলহপ্রিয়, দাঙ্গাবাজ, দুর্লোভী ও ক্ষতিকারক লোক। তারা ন্যায় অন্যায়ের কোন পরোয়া করে না। তাদের মধ্যে আব্দুল মনান্ন,জিয়াউর রহমান,মিনকুল ইসলাম প্রায় সময়ই তাদের বাড়িতে উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজায়, যার ফলে নামাজের সময়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, হামলার ঘটনার আগের দিন এশার নামাজের সময়ে মিনকুল ইসলাম তাদের বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন। এসময় নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিবেশী হেলেনা খাতুন, মিনকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে নামাজের সময়ে সাউন্ড বক্স বাজানোর জন্য নিষেধ করলে মিনকুল ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তখন আশপাশের লোকজন এসে বিষয়টি ফয়সালা করে দেয়। তবে মিনকুল অপরাপর আসামীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ঘটনার জের ধরে পরদিন সকালে আসামীরা নিজ নিজ হাতে দা, চাইনিজ কুড়াল, কাঠের রুল, লাঠি ইত্যাদি ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হেলেনা খাতুন ও তার শাশুড়ি ফাতেমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় জিয়াউর রহমান তার হাতে থাকা রাম দা দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে হেলেনা খাতুনের স্বামী উরমত আলীর মাথার বাম পার্শ্বে উপর অংশে কুপ দিয়ে গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। এসময় উরমত বারান্দায় লুটিয়ে পড়লে আব্দুল হাকিম তার হাতে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথার ডান পার্শ্বে উপর
অংশে কুপ দিয়ে গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান বলেন, এই মামলার আসামী মিলন মিয়া তার হাতে ধারালো চাকু দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে উরমত আলীর গলায় ফেস দিতে উদ্যত হলে তিনি বাম হাতে ফিরালে চাকুর ফেস লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাম হাতের কব্জির উপর অংশে লেগে মারাত্মক কাঁটা রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় হেলেনা খাতুন তার স্বামীকে রক্ষা করতে চাইলে আব্দুল হাকিম,লালচান ও আলমগীর হোসেন চুলের মুঠি ও পড়নের কাপড় ধরে টানা হেচড়া করে কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, ঘটনার একপর্যায়ে আসামীগণ তাদের হাতে থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে বসতঘরের ক্ষতিসাধন করে। এই ঘটনায় ডাক-চিৎকার ও হৈহল্লা শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে আসামীগণ পালিয়ে যায়। এসময় তারা খুন করার হুমকি দিয়ে যায়।

এই হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম উরমত আলী,হেলেনা খাতুন ও হাসি আক্তার বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুঠোফোনে উরমত আলী বলেন, আমি ও আমার পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। এই হামলা খুব ন্যাক্কারজনক। আমি স্থানীয় প্রশাসন সহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি বর্তমানে প্রাণ শঙ্কায় আছি।

ভাদুয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলেন, আব্দুল মন্নান, মিনকুল,লালচান খুবই বাজে প্রকৃতির লোক। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে অন্যদের ফাঁসিয়ে দেয়। এছাড়া উচ্চশব্দে রাতদিন গান বাজিয়ে এলাকার মানুষদের ডিস্টার্ব করে। তাদের কারণে ঠিকমতো নামাজ-কালাম পড়া যায়না। তারা ধর্ম-কর্ম মানে না। এলাকাবাসী তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিহীত চাই।

দুর্গাপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক :বসতভিটার শেষ সাড়ে সাত শতক জমিটুকু বিক্রি করার সময় মহেন্দ্র নাথ রায়ের বুকটা কেঁপেছিল ঠিকই, কিন্তু সান্ত¡না ছিল একটাই মাতৃহীন ছোট মেয়েটা সুখে থাকবে। তিন লাখ টাকা যৌতুকের মধ্যে আড়াই লাখ শোধ করেছিলেন বিয়ের আসরেই। ভেবেছিলেন, বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য বুঝি স্বজনেরা কোনোদিন হিংস্র হয়ে উঠবে না। কিন্তু সেই ৫০ হাজার টাকাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ১৭ বছরের রাধা রাণীর প্রাণ। রাধার গর্ভে থাকা চার মাসের অনাগত সন্তানটিও পৃথিবী দেখার আগেই পিষ্ট হলো যৌতুকের নির্মম বলিষ্ঠতায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় রাঘবপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাধার বাবার বাড়ি পীরগঞ্জের জয়কুর গ্রামে সেই বিক্রি করে দেওয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক জীর্ণ দশা। টিনের চাল আর চাটাইয়ের বেড়ার ঘরে অভাবের ছাপ স্পষ্ট। মহেন্দ্র নাথ এক ঘরে থাকতেন, পাশের ঘরে থাকত তাঁর আদরের রাধা। সেই ঘর আজ শূন্য।
রাধার বাবা মহেন্দ্র নাথ বলছিলেন, ‘মৃত্যুর মাত্র দুইদিন আগে স্বামী মিঠুনকে নিয়ে রাধা এসেছিল ওই বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য। আমি বলেছিলাম, বাবা আমি তো নিঃস্ব, একটু সময় দাও, দুই-তিন মাস পর ব্যবস্থা করে দিব। বসতভিটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়েছি, এখন আমার জমিও নেই, মেয়েটাও রইল না।’
গত বছরের আগস্ট মাসে পীরগঞ্জের রাঘবপুর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক মিঠুন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় রাধার। তখন সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কাগজে-কলমে ১৮ দেখানো হলেও রাধার বয়স ছিল তখন মাত্র ১৬। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
রাধার বড় ভাই সুভাষ চন্দ্র রায় ও ভাবি মানতা রাণীর অভিযোগ, বাকি টাকার জন্য রাধাকে প্রায়ই মারধর করা হতো, এমনকি দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হতো। একথা জানলে বাবার কষ্ট বাড়বে, তাই শান্ত স্বভাবের মেয়েটি মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৩ এপ্রিল সোমবার সকালে রাঘবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রাধার নিথর দেহ। তাঁর স্বামীর পরিবার থেকে জানানো হয়, গলায় ফাঁস দিয়ে রাঁধা মারা গেছেন।
রাধার বাবার পরিবারের অভিযোগ আরও গুরুত্বর। পুলিশ লাশ উদ্ধারের করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাউকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে লাশ সৎকার করে ফেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ভাই সুভাষ চন্দ্র রায়ের আক্ষেপ, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশ সৎকারের সময় আমাদের জানানো পর্যন্ত হয়নি, আমরা শেষবারের মতো ওর মুখটাও দেখতে পারলাম না।’
রাধার মৃত্যুতে জয়পুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে শোকের মাতম। প্রতিবেশীরা জানান, ৯ বছর বয়সে মা কালোনি বালাকে হারানো রাধা ছিল অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র। গ্রামের কারো সঙ্গে কোনোদিন উচ্চস্বরে কথা বলেনি সে। সেই মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে এ কথা গ্রামবাসী বিশ্বাস করতে পারছে না। তাদের দাবি, গর্ভবতী একটি মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
মেয়ে হারানোর শোক নিয়ে বাবা মহেন্দ্র নাথ গিয়েছিলেন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে যৌতুকের জন্য নির্যাতনে তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলার মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। মেয়ের বিচার চেয়ে দিশেহারা এই বৃদ্ধ বাবার বলেন, ‘মেয়ে হত্যার বিচার কার কাছে চাইব? যৌতুকের জন্য মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ।’
পীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে শুক্রবার ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন ফোনে বলেন, ‘এবিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। যদি রাধার পরিবার মামলা দিতে চায়। পুলিশ অবশ্যই মামলা নিবে। মামলা নিতে কোনো বাধা নেই।’

বোদায় সংসার নিয়ে টানাপড়েন: স্বামীর অস্বীকৃতিতে অনশনে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
বোদায় সংসার নিয়ে টানাপড়েন: স্বামীর অস্বীকৃতিতে অনশনে স্ত্রী

বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের মাঝগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে সংসার করলেও এখন স্বামী তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করায় অনশনে বসেছেন স্মৃতি আক্তার নামের এক নারী। স্মৃতি আক্তার ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুর ইউনিয়নের মুন্সিহাটের রুহুল আমিনের মেয়ে। সে ছোটো থেকে মামার বাড়ি বোদা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ছিলো। মাহফুজ মাঝগ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে চাকরি করার সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের পরিণতিতে প্রায় তিন বছর আগে তারা বিয়ে করেন এবং সংসার করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের হওয়ার পর প্রায় ৩ বছর তারা ভালোভাবে সংসার করছিলো। গত ৬ মাস থেকে স্মৃতি আক্তারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সম্প্রতি বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর জের ধরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে স্মৃতি স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
স্মৃতির অভিযোগ, ৩ বছর ভালোভাবে সংসার করেছিলাম। গত ৬ মাস থেকে আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ বিষয়ে মাহফুজের মুঠোফোন নম্বর ০১৯৯৭৮৬৯০৭৯ এ ফোন করলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত স্মৃতি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।