থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলার ধরে হেনস্তার শিকার সাংবাদিককে
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাফর ইকবাল।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে চিরিরবন্দর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
লিখিত অভিযোগ ও সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার সকালে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে জিডি করতে থানায় গেলে প্রথমে তিনি কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিমের কাছে যান। সেখান থেকে তাকে ডিউটি অফিসার মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়। পরে ডিউটি অফিসার আবার তাকে কম্পিউটার অপারেটরের কাছেই ফিরে যেতে বলেন। এভাবে কয়েক দফা ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তিনি বিরক্ত হয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন।
এ সময় ডিউটি অফিসার তার প্রেস আইডি কার্ড দেখতে চান। আইডি কার্ড দেখানো হলে সেটি নিয়ে অফিসারের কক্ষে রেখে দেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিবকে ফোনে অবহিত করেন এবং হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ জানান।
এরপর এএসআই আশরাফুল ও এসআই জহুরুল হক ঘটনাস্থলে আসেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আখতারুজ্জামান এসে সাংবাদিক জাফর ইকবালের শার্টের কলার ধরে তাকে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।
একজন সংবাদকর্মী হয়েও থানায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে এমন আচরণের শিকার হয়ে তিনি চরম অপমান ও লাঞ্ছনার মুখে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি তিনি সহকর্মী সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। তাদের পরামর্শেই জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম বলেন, “খবর পেয়ে আমি চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

