দুর্গাপুরে বাড়িঘরে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা, সর্বোচ্চ বিচার দাবি
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বাড়িঘরে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ভাদুয়া গ্রামে গত ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামী আব্দুল হাকিম, আব্দুল মন্নান,লালচান, জিয়াউর রহমান, মিনকুল সহ অভিযুক্ত ১১জন অত্যন্ত কলহপ্রিয়, দাঙ্গাবাজ, দুর্লোভী ও ক্ষতিকারক লোক। তারা ন্যায় অন্যায়ের কোন পরোয়া করে না। তাদের মধ্যে আব্দুল মনান্ন,জিয়াউর রহমান,মিনকুল ইসলাম প্রায় সময়ই তাদের বাড়িতে উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজায়, যার ফলে নামাজের সময়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, হামলার ঘটনার আগের দিন এশার নামাজের সময়ে মিনকুল ইসলাম তাদের বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন। এসময় নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিবেশী হেলেনা খাতুন, মিনকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে নামাজের সময়ে সাউন্ড বক্স বাজানোর জন্য নিষেধ করলে মিনকুল ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তখন আশপাশের লোকজন এসে বিষয়টি ফয়সালা করে দেয়। তবে মিনকুল অপরাপর আসামীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ঘটনার জের ধরে পরদিন সকালে আসামীরা নিজ নিজ হাতে দা, চাইনিজ কুড়াল, কাঠের রুল, লাঠি ইত্যাদি ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হেলেনা খাতুন ও তার শাশুড়ি ফাতেমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় জিয়াউর রহমান তার হাতে থাকা রাম দা দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে হেলেনা খাতুনের স্বামী উরমত আলীর মাথার বাম পার্শ্বে উপর অংশে কুপ দিয়ে গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। এসময় উরমত বারান্দায় লুটিয়ে পড়লে আব্দুল হাকিম তার হাতে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথার ডান পার্শ্বে উপর
অংশে কুপ দিয়ে গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান বলেন, এই মামলার আসামী মিলন মিয়া তার হাতে ধারালো চাকু দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে উরমত আলীর গলায় ফেস দিতে উদ্যত হলে তিনি বাম হাতে ফিরালে চাকুর ফেস লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাম হাতের কব্জির উপর অংশে লেগে মারাত্মক কাঁটা রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় হেলেনা খাতুন তার স্বামীকে রক্ষা করতে চাইলে আব্দুল হাকিম,লালচান ও আলমগীর হোসেন চুলের মুঠি ও পড়নের কাপড় ধরে টানা হেচড়া করে কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, ঘটনার একপর্যায়ে আসামীগণ তাদের হাতে থাকা দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে বসতঘরের ক্ষতিসাধন করে। এই ঘটনায় ডাক-চিৎকার ও হৈহল্লা শুনে আশপাশের লোকজন চলে এলে আসামীগণ পালিয়ে যায়। এসময় তারা খুন করার হুমকি দিয়ে যায়।
এই হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম উরমত আলী,হেলেনা খাতুন ও হাসি আক্তার বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুঠোফোনে উরমত আলী বলেন, আমি ও আমার পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই। এই হামলা খুব ন্যাক্কারজনক। আমি স্থানীয় প্রশাসন সহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি বর্তমানে প্রাণ শঙ্কায় আছি।
ভাদুয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলেন, আব্দুল মন্নান, মিনকুল,লালচান খুবই বাজে প্রকৃতির লোক। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে অন্যদের ফাঁসিয়ে দেয়। এছাড়া উচ্চশব্দে রাতদিন গান বাজিয়ে এলাকার মানুষদের ডিস্টার্ব করে। তাদের কারণে ঠিকমতো নামাজ-কালাম পড়া যায়না। তারা ধর্ম-কর্ম মানে না। এলাকাবাসী তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিহীত চাই।
দুর্গাপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

