খুঁজুন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অফিস সহায়ক মোমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

মোঃ মাহবু বুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অফিস সহায়ক মোমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অফিস সহায়ক মোমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়, মোমিন নিজেকে কখনও নায়েব, কখনও সহকারী নায়েব পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতি নামজারিতে ১০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত আদায়, মিস কেসের প্রতিবেদনের জন্য ঘুষ গ্রহণ, সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভূমি উন্নয়ন কর এবং হোল্ডিং খোলার ক্ষেত্রে দুর্নীতি, এমনকি সরকারি খতিয়ান বইয়ের ফটোকপি বিক্রির মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া—এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ বিভিন্ন দপ্তরে ২১ জন স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী গোলজার হোসেন বলেন, মোমিন অফিস প্রধান সেজে জনগণের হয়রানি করে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন।

ঘুড়কা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনসুর উদ্দিন জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং মোমিনের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনেছেন।

রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ খাদিজা খাতুন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মতামত দিতে পারবেন না।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) লিটুস লরেন্স চিরান জানান, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে মোমিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।

মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান জানান, একই এলাকার মৃত বাবন খাঁর ছেলে জাভেদ খাঁ ও তার ছেলে সুজন খাঁ দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানি করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তার কাছে নগদ চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে এবং ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় ১১ মার্চ দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় জাভেদ খাঁর নির্দেশে সুজন খাঁ, ইমরান খান, রোমান খান, নাছিমা বেগম, মুনি বেগমসহ আরও ১০–১২ জন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির উঠানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান বলেন, হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। পরে লোহার রড দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার মেয়ে ইসমিতা খান মমির চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও বলেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

মাসুদ হোসেন খান বর্তমানে এশিয়ান টেলিভিশনের মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও দায়িত্বে রয়েছেন

ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার মাদক ও চোরাচালান মালামাল আটক

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার মাদক ও চোরাচালান মালামাল আটক

দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামাল আটক করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)।
১০ ও ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিরামপুর বিশেষ ক্যাম্প, কাটলা বিশেষ ক্যাম্প, মনিপুর বিওপি ও দাইনুর বিওপি পৃথক পৃথকভাবে মোট ৬টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩,৬৭০ পিস বাংলাদেশি মদ তৈরির বড়ি, ২৮৭ বোতল বাংলাদেশি যৌন উত্তেজক সিরাপ, ২৪ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২০৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ, ৯০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।
আটককৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামালের সিজার মূল্য ৯,১০,৫০০ (নয় লক্ষ দশ হাজার পাঁচশত) টাকা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ও চোরাচালানের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।