খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

কচাকাটায় ধর্ষণ চেষ্টায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মীমাংসিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কচাকাটায় ধর্ষণ চেষ্টায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মীমাংসিত

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আলী টসা নামের ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (৩০ মার্চ) বিকেলে প্রস্তাবিত কচাকাটা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পদ্মারচর মন্ডলপাড়া গ্রামে।

এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কথা উপেক্ষা করে ভোর রাতে তড়িৎ গতিতে শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম, স্থানীয় জোরদার কাশেম, স্থানীয় মৌলভী ও ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মোল্লার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার বিকালে মেয়েটি অভিযুক্ত আলী টসার দোকানে ডিম আনতে যান। এসময় ওই বৃদ্ধা মেয়েটির হাত ধরে টানাটানি করলে মেয়েটি চিৎকার দেয়। পরে এ ঘটনাটি শালিশী বৈঠকে মিমাংসা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয় । আমরা জানি আলী টসা পাগল প্রকৃতির। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রংপুরে থাকায় শালিশের তারিখটি পেছানোর কথা বলা হলেও পরে তাড়াহুড়া করে ঈদের পরের দিন বুধবার ভোর ৫ টার দিকে বিচার কাজ শেষ করেন ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল করিম, স্থানীয় জোরদার কাশেম, স্থানীয় মৌলভী ও ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মোল্লা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, পদ্মারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জন সম্মুখে বিচার করবেন বলে কথা হয়েছিলো, পরে ঈদের পরের দিন এলাকাবাসী সবাই স্কুল মাঠে যায় ওখানে স্থানীয় মহৎ ব্যক্তিবর্গ জানান, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান না থাকার অভিযোগে সেদিনের বিচার পরের দিন বুধবার দুপুর ২ ঘটিকায় সেই বিদ্যালয়ের মাঠে করবেন । কিন্তু দুপুর ২ টায় বিচার কাজ না করে সেদিনের ভোর রাতে চুপি চুপি বিচার শেষ করে দেন মাতব্বররা।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় মাতব্বরদের হামলায় ৩ যুবক আহত হন। আহতরা হলেন, মোঃ কামরুল, মোঃ লুৎফর ও মোঃ জাহিদুল। তারা জানান, একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে কৌশলে ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিচারের দাবি করেছিলাম, যার কারণে মেম্বারদের লোকজন আমাদের মারধর করেছে।

শালিশী বৈঠকের বিষয়ে জানতে মেয়ের বাবা মোগল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, মেয়েটির সাথে রেফের ঘটনা ঘটেনি। তার শরীরে এমন কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই আমরা স্থানীয়রা বসে বিষয়টি মিমাংশা করে দিয়েছি।

নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, আমি রংপুরে অবস্থান করছি। অভিযুক্ত আলী মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তাদের আত্মীয়। আমি মিমাংসার বিষয়টি পেছাতে বলেছি, তারা আমার কথা শোনেনি।

অভিযুক্ত আলী টসা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম বলেন, এটি একটি দুর্গম এলাকা। মেয়েটির সাথো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি, মূলত এটা ইভটিজিং। আমরা মেয়ের বাবাকে বলেছি অভিযোগ দিতে মেয়ের বাবা অভিযোগ দেয়নি। পরে শুনেছি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও–২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন  বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তুলা

MD JAMIL HASAN
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও–২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন  বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তুলা

ঠাকুরগাঁও–২ (বালিয়াডাঙ্গী–হরিপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্বতন্ত্র প্রার্থী শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচিত এই আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন।রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

মো. জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামগ্রিক নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর ডা. আব্দুস সালাম এর অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার করবে এবং ভোটের হিসাবেও দলটি সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে। এই আসনে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী থাকলেন ৭ জন।

নেত্রকোণায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুদন্ড

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যুদন্ড

Oplus_131072

নেত্রকোণায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী রুক্কু মিয়াকে (৩৮) কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে (৩৭) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জেলা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবিনা আক্তার (৩২) জেলার পূর্বধলা উপজেলার কৈলাটি গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নিহত রুক্কু মিয়া একই উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রুক্কু মিয়া তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী রুবিনা ছাড়াও পরে নোয়াখালীতে দ্বিতীয় ও গাজীপুরে তৃতীয় বিয়ে করেন। রুক্কুর সঙ্গে ১১ বছরের সংসার জীবনে রুবিনার ৯ বছর ও ৭ বছরের দুইটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তিনি তাদের ভরণপোষণ দিচ্ছিলেন না। এতে চরম কলহ দেখা দেয়। এই দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২১ সালের ১৪ মে, ঈদের দিন সন্ধ্যায় রুক্কু মিয়া শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে রাতের খাবার শেষে ঘুমন্ত অবস্থায় রুবিনা তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত রুক্কুর ভাই মো. আসান মিয়া বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ওই মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্য শেষে রুবিনা আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছে।

রাবি ডিবেটিং ফোরামের নতুন কমিটি গঠন

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
রাবি ডিবেটিং ফোরামের নতুন কমিটি গঠন

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরাম (RUDF)-এর ১৭তম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে চিফ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাইনান্স বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মোসাঈব ইবনে আনোয়ার।

গত ১৫ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের মাধ্যমে ৬ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও মডারেটর মহোদয়।

কমিটিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রত্যয় সারার শিহাব, রাকিবুল হাসান স্বাধীন, মাফিউল ওয়াহিদ সিহাব, তামিম খান ও সৌকত খান অন্তু।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরাম (RUDF) শিক্ষার্থীদের বিতর্ক শেখানোর জন্য কাজ করে আসছে এবং একই সাথে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।