খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাকসুতে ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

ত্বাসীন সিদ্দিকা রূপা, রাবি
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
রাকসুতে ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেল।

রোববার (১২ অক্টোবর) বেল সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নূর উদ্দীন আবীর।

১০ দফা ইশতেহারগুলো হলো —১৯৬৯ এর ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকবাহিনীর গুলিতে ড. শামসুজ্জোহা স্যারের শহীদ হওয়ার দিনটিকে “জাতীয় শিক্ষক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সেবা উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসের চিকিৎসা কেন্দ্র আধুনিকায়ন, নারী শিক্ষার্থী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীদের সামাজিক সহাবস্থান এবং মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, আবাসন সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাসহ, দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে রাবি রেলস্টেশন সচল করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসকাউন্ট টিকিটের ব্যবস্থা করা ক্যাম্পাস বাসের রুট এবং ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবির বলেন, ‘ আমাদের ইশতেহার ঘোষণা করতে একটু বিলম্ব হয়েছে কারণ—আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে, তাদের মতামত নিয়ে ইশতেহারগুলো সাজিয়েছি। আমরা যে ইশতেহারগুলো দিয়েছি তা কোনোটাই অসম্ভব নয়, শিক্ষার্থীরা যদি আমাদের সাথে থাকেন এবং প্রশাসনের সাথে যদি আমরা সমন্বয় করতে পারি তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই এইগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।

এ সময় ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর, জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন, এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১২টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী ও হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদে মোট ১৭টি হলে ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। পূনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। গণনা শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক :বসতভিটার শেষ সাড়ে সাত শতক জমিটুকু বিক্রি করার সময় মহেন্দ্র নাথ রায়ের বুকটা কেঁপেছিল ঠিকই, কিন্তু সান্ত¡না ছিল একটাই মাতৃহীন ছোট মেয়েটা সুখে থাকবে। তিন লাখ টাকা যৌতুকের মধ্যে আড়াই লাখ শোধ করেছিলেন বিয়ের আসরেই। ভেবেছিলেন, বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য বুঝি স্বজনেরা কোনোদিন হিংস্র হয়ে উঠবে না। কিন্তু সেই ৫০ হাজার টাকাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল ১৭ বছরের রাধা রাণীর প্রাণ। রাধার গর্ভে থাকা চার মাসের অনাগত সন্তানটিও পৃথিবী দেখার আগেই পিষ্ট হলো যৌতুকের নির্মম বলিষ্ঠতায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় রাঘবপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাধার বাবার বাড়ি পীরগঞ্জের জয়কুর গ্রামে সেই বিক্রি করে দেওয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক জীর্ণ দশা। টিনের চাল আর চাটাইয়ের বেড়ার ঘরে অভাবের ছাপ স্পষ্ট। মহেন্দ্র নাথ এক ঘরে থাকতেন, পাশের ঘরে থাকত তাঁর আদরের রাধা। সেই ঘর আজ শূন্য।
রাধার বাবা মহেন্দ্র নাথ বলছিলেন, ‘মৃত্যুর মাত্র দুইদিন আগে স্বামী মিঠুনকে নিয়ে রাধা এসেছিল ওই বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য। আমি বলেছিলাম, বাবা আমি তো নিঃস্ব, একটু সময় দাও, দুই-তিন মাস পর ব্যবস্থা করে দিব। বসতভিটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়েছি, এখন আমার জমিও নেই, মেয়েটাও রইল না।’
গত বছরের আগস্ট মাসে পীরগঞ্জের রাঘবপুর গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক মিঠুন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় রাধার। তখন সে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কাগজে-কলমে ১৮ দেখানো হলেও রাধার বয়স ছিল তখন মাত্র ১৬। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
রাধার বড় ভাই সুভাষ চন্দ্র রায় ও ভাবি মানতা রাণীর অভিযোগ, বাকি টাকার জন্য রাধাকে প্রায়ই মারধর করা হতো, এমনকি দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হতো। একথা জানলে বাবার কষ্ট বাড়বে, তাই শান্ত স্বভাবের মেয়েটি মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৩ এপ্রিল সোমবার সকালে রাঘবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রাধার নিথর দেহ। তাঁর স্বামীর পরিবার থেকে জানানো হয়, গলায় ফাঁস দিয়ে রাঁধা মারা গেছেন।
রাধার বাবার পরিবারের অভিযোগ আরও গুরুত্বর। পুলিশ লাশ উদ্ধারের করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাউকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে লাশ সৎকার করে ফেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ভাই সুভাষ চন্দ্র রায়ের আক্ষেপ, ‘আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশ সৎকারের সময় আমাদের জানানো পর্যন্ত হয়নি, আমরা শেষবারের মতো ওর মুখটাও দেখতে পারলাম না।’
রাধার মৃত্যুতে জয়পুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে শোকের মাতম। প্রতিবেশীরা জানান, ৯ বছর বয়সে মা কালোনি বালাকে হারানো রাধা ছিল অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র। গ্রামের কারো সঙ্গে কোনোদিন উচ্চস্বরে কথা বলেনি সে। সেই মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে এ কথা গ্রামবাসী বিশ্বাস করতে পারছে না। তাদের দাবি, গর্ভবতী একটি মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
মেয়ে হারানোর শোক নিয়ে বাবা মহেন্দ্র নাথ গিয়েছিলেন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে যৌতুকের জন্য নির্যাতনে তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলার মামলা করতে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। মেয়ের বিচার চেয়ে দিশেহারা এই বৃদ্ধ বাবার বলেন, ‘মেয়ে হত্যার বিচার কার কাছে চাইব? যৌতুকের জন্য মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ।’
পীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে শুক্রবার ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন ফোনে বলেন, ‘এবিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। যদি রাধার পরিবার মামলা দিতে চায়। পুলিশ অবশ্যই মামলা নিবে। মামলা নিতে কোনো বাধা নেই।’

বোদায় সংসার নিয়ে টানাপড়েন: স্বামীর অস্বীকৃতিতে অনশনে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
বোদায় সংসার নিয়ে টানাপড়েন: স্বামীর অস্বীকৃতিতে অনশনে স্ত্রী

বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের মাঝগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে সংসার করলেও এখন স্বামী তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করায় অনশনে বসেছেন স্মৃতি আক্তার নামের এক নারী। স্মৃতি আক্তার ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুর ইউনিয়নের মুন্সিহাটের রুহুল আমিনের মেয়ে। সে ছোটো থেকে মামার বাড়ি বোদা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ছিলো। মাহফুজ মাঝগ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে চাকরি করার সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের পরিণতিতে প্রায় তিন বছর আগে তারা বিয়ে করেন এবং সংসার করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের হওয়ার পর প্রায় ৩ বছর তারা ভালোভাবে সংসার করছিলো। গত ৬ মাস থেকে স্মৃতি আক্তারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সম্প্রতি বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর জের ধরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে স্মৃতি স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।
স্মৃতির অভিযোগ, ৩ বছর ভালোভাবে সংসার করেছিলাম। গত ৬ মাস থেকে আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ বিষয়ে মাহফুজের মুঠোফোন নম্বর ০১৯৯৭৮৬৯০৭৯ এ ফোন করলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত স্মৃতি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাণীশংকৈলে জামায়াত নেতার মৃত্যুতে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের গভীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
রাণীশংকৈলে জামায়াত নেতার মৃত্যুতে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের গভীর শোক

রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সভাপতি মহর আলী গত (১৪ এপ্রিল) মঙ্গলবার দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে নেওয়ার পথে পথিমধ্যে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরদিন বুধবার বিরাশি স্কুল মাঠে জানাযা শেষে মমরেজপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী ২ ছেলে,৩ মেয়েসহ অশংখ্য গুনগ্রাহী ও দলীয় নেতা কর্মি রেখে গেছেন।

মরহুমের মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁ জেলা আমির বেলাল উদ্দীন প্রধান,ঠাকুররগাঁ-২ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হাকিম,৩ আসনের মিজানুর রহমান,উপজেলা আমির রফিকুল ইসলাম,শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান,উপজেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম,যুব বিভাগ সভাপতি মোকারম হোসাইনসহ স্থানীয় ব্যাবসায়ী সমিতি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সম্পত্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।