খুঁজুন
, ,

রশিদনগরে বিএনপির মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান

ওসমান / জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
রশিদনগরে বিএনপির মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান

রশিদনগরে বিএনপির মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান

আমরা যদি ফ্যাসিষ্টদের নির্মমতার কথা ভুলে

যাই, সামনে কঠিন দিন অপেক্ষা করছে

কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেছেন, আমরা এখন ফ্যাসিষ্টদের কথা ভুলে যাচ্ছি। আমরা এখন তাদের কথা বলি না। তারা আমাদের সাথে কী রকম নির্মমতা দেখিয়েছে, তা আমাদের মনে নেই। আমরা কেবল নিজেরা নিজেদেরই পেছনে লেগে আছি।

 

তিনি বলেন, আমরা যদি ফ্যাসিষ্ট সরকারের কথা ভুলে যাই, আমাদের আগামিদিনের সাফল্য বাধাগ্রস্থ হবে। আমরা নিজেদেরকেই হারিয়ে ফেলবো। যে কোন কাজে সাফল্য পেতে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া হয় না। আমরা যদি নীতিহীন হয়ে পড়ি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি করতে থাকি, কিভাবে আল্লাহর সাহায্য পাবো!

 

তাঁর মতে, আমাদের শপথ নিতে হবে আওয়ামী ফ্যাসিষ্টদের সাথে আঁতাত করে কোন কিছু করবো না।

 

তিনি মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকালে রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আকতারুল আলম চৌধুরী।

 

রশিদনগরে রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান আরও বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান লন্ডনে বসে নির্দেশনার মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত ও সুশৃংখল হিসেবে পরিচালনা করছেন। তিনি বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন, দলের কোন নেতা-কর্মী যেন দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সাথে জড়িয়ে না পড়েন। অথচ আমাদের তৃণমূলের কতিপয় নেতৃত্ব তাই করে চলেছেন।

 

তিনি নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, আমাদের জন্য সামনে কঠিন সময় আসছে, যদি না আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে না পারি।

 

স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি হামিদ উদ্দিন ইউসুফ গুন্নু, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান, রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজারকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ সিকদার, ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শওকত আলম, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক, রামু বিএনপির আকতার কামাল আজাদ, পিএমখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ, ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির জানে আলম, যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান চৌধুরী ও রামু উপজেলা বিএনপি নেতা ডা. মাহমুদুল হক জনি।

 

এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান আজিজ, মাষ্টার আবু বকর ছিদ্দিক, ওমর ফারুক লিটন, আবুল কাউছাইন চৌধুরী, সাংবাদিক শেফায়েল উদ্দিন, হারুন অর রশিদ প্রমূখ।

 

এই মতবিনিময় সভা শেষে দেড় হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়েঅজন করা হয়। বিএনপি নেতা-কর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ এই ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।

 

ইতোপূর্বে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান দুপুরে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারকুল হাফেজ পাড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

দুর্গাপুরে ১১০ বোতল মাদকসহ নারী আটক, পুলিশ দেখে পালালেন স্বামী

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে ১১০ বোতল মাদকসহ নারী আটক, পুলিশ দেখে পালালেন স্বামী

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে একটি বাড়ি থেকে মাদকসহ এক নারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

উপজেলার বারমারী লক্ষ্মীপুর এলাকায় বসতবাড়িতে মাদক কারবারের গোপন সংবাদ পেয়ে আজ সোমবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় ১১০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদকদ্রব্য এসকাফ সহ মোছা. আমেনা খাতুন (৩৫) নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমেনা খাতুনের স্বামী আবুল কালাম কৌশলে পালিয়ে যান।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার (পশ্চিম) উপপরিদর্শক (এসআই) ইমন পাল ও এসআই মো. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বারমারী লক্ষ্মীপুর গ্রামে আমেনা খাতুনের বসতবাড়িতে হানা দেয়।

এসময় ঘর তল্লাশি করে ১১০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদকদ্রব্য এসকাফ উদ্ধার করা হয় এবং মাদক ব্যবসায়ী মোছা. আমেনা খাতুনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে ডিবির দলটি বাড়িতে পৌঁছালে অপর অভিযুক্ত আবুল কালাম কৌশলে সটকে পড়েন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, আটককৃত নারী ও পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এক দশক ধরে অচল সিনেট অধিবেশন

তিন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিবেশন হলেও ব্যতিক্রম রাবি

সুরাইয়া সিদ্দিকা, রাবি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
তিন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিবেশন হলেও ব্যতিক্রম রাবি

দীর্ঘ ৩৬ বছরের অচলবস্থা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচন। নির্বাচনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও শপথ হয়নি সিনেটের পাঁচ ছাত্র প্রতিনিধির। আইন অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে অকার্যকর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ এই নীতিনির্ধারণী ফোরাম। ইতিমধ্যে, রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি সিনেট অধিবেশন।

সিনেটের কোরাম সংকট, সদস্যপদসংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে ঝুলে আছে অধিবেশন আয়োজন। দেশের অন্য তিন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলেও এদিকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম রাবি। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত ওই নির্বাচনে সিনেট প্রতিনিধি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৫৮ জন প্রার্থী। নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ থেকে তিনজন এবং স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে দুইজন নির্বাচিত হন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হলেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, ফজলে রাব্বী মো. ফাহিম রেজা ও আকিল বিন তালেব।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নির্বাচিতরা সিনেট প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। এছাড়াও, শপথ গ্রহণ করার পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বছরে অন্তত একবার সিনেট অধিবেশন আহ্বানের বিধান রয়েছে। কিন্তু রাবিতে সর্বশেষ সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মে। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম সিনেট অধিবেশনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ মে ২২তম অধিবেশনের পর থেকে আর কোনো অধিবেশন হয়নি। ফলে প্রায় এক দশক ধরে সিনেট অধিবেশন ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামে উপাচার্য নির্বাচন, বাজেট অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংশোধন এবং নতুন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানতে চাইলে সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী মো. ফাহিম রেজা বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা দুইটা প্রশাসন পেয়েছি। উভয় প্রশাসনই সিনেট কার্যকর করা নিয়ে উদাসীন। শুধু আশ্বাস দেওয়া পর্যন্তই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। আমরা আশা করেছিলাম যে, কোনো প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া টেবিল নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে আমরা সিনেট অধিবেশন পাব। কিন্তু, প্রশাসনের কোনো সদিচ্ছা দেখিনি। আমরা নির্বাচিত পাঁচজন বিভিন্ন আলোচনা করেছি, তিনজন রাকসু সদস্য হওয়ায় এতদিন সিনেট নিয়ে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছিল না। আমরা খুব শীঘ্রই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে যাব।’
রাকসুর জিএস ও সিনেট প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘সিনেট কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের সাথে বারবার কথা বলছি। বর্তমান প্রশাসন আমাদের কাছে এক মাসের মতো সময় চেয়েছেন। আমরা একটা বড় সীমাবদ্ধতার কথা জানি যে, সিনেটে আওয়ামী আমলের অনেক সদস্য আছেন। তাদেরকে না নিয়ে অধিবেশন কল করলে তারা আবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে সেই সিনেট অধিবেশন বাতিল করে দিতে পারবেন। তবে এগুলো চাইলেই সমাধান করা সম্ভব। প্রশাসন এই বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক না। যেভাবেই হোক আমরা সিনেট কার্যকর করব।’
রাকসুর ভিপি ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘রাকসুর প্যানেলের মধ্যে আমরা তিনজন সিনেট সদস্য থাকায় আমরা প্রত্যেকটা অধিবেশনেই সিনেট নিয়ে কথা বলেছি। এছাড়াও, আমরা পাঁচজন আলাদা ভাবে অসংখ্যবার প্রশাসনের সাথে দেখা করেছি। দুই প্রশাসনই আমাদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে। আমার মনে হয়, প্রশাসন সিনেট অধিবেশন না দেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে—সিনেটে যেসব সিদ্ধান্ত হয়, এগুলো তারা মেনে নিতে পারবে না। প্রশাসন সেগুলোকে অনধিকার চর্চা মনে করবে’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন বলছে যে তোমরা শপথ নেওয়ার পর একবছর পর পর্যন্ত তোমাদের মেয়াদ থাকবে। কিন্তু, আমরা তো কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে নির্বাচিত না, আমরা কি সারাজীবন ক্যাম্পাসে থাকবো নাকি। অনেকের পড়াশোনা শেষ, তারা চলে যাবে। সিনেটের শপথ ও পরবর্তী রাকসু নিয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ ইগনোরেন্স দেখিয়েছে। রাকসুর মেয়াদ শেষ, সিনেট নিয়ে আমরা খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানাব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছিলাম সিনেট অধিবেশন দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো হালনাগাদ করার জন্য বলেছিলাম। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সময় লাগছিল। এরপর তো আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেল।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সিনেট অধিবেশন দেওয়ার জন্য। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত আছেন। সিনেট অধিবেশন করতে গেলে আমাদের আগে কোরাম পূরণ করতে হবে। অনেক সিনেট সদস্য মৃত্যবরণ করেছেন, এছাড়াও বিভিন্ন কারণে অনেক পদ শূন্য হয়ে আছে। বিভিন্ন ইস্যুগুলো সমাধান হওয়ার পর আমরা সিনেট অধিবেশন দিব। যখন বুঝবো যে বিতর্কহীনভাবে অধিবেশন করতে পারব তখনই করব, তার আগে আমি করব না।’

গঠনতন্ত্রে নেই মেয়াদ বাড়ানোর বিধান

রাকসুর মেয়াদ শেষ আজ, বাড়ছে না মেয়াদ

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
রাকসুর মেয়াদ শেষ আজ, বাড়ছে না মেয়াদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর)। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় আজই বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই। সে জন্য আজই রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।’
৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এই প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ আজ শেষ হলো। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই। এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে। আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা কী করতে পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা বলে মনে করি।
দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে বলেই বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভিসি স্যার আমাদের জানিয়েছেন যে পরবর্তী নির্বাচন তিনি দিবেন। কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোন পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে আসলেই নির্বাচন উনি নিরপেক্ষভাবে, স্বতন্ত্রভাবে দিবে না কি সরকারের গ্রীন সিগনালের অপেক্ষায় থাকবে। এটা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়াইছে।