খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

নববর্ষে ঢাকা মাতালেন বাউল আরজ আলী

লাখো মানুষের সামনে আরজ আলীকে গাইতে দেখা এক পরম শান্তি : সংস্কৃতি উপদেষ্টা

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
লাখো মানুষের সামনে আরজ আলীকে গাইতে দেখা এক পরম শান্তি : সংস্কৃতি উপদেষ্টা

বাংলা নববর্ষ মানেই বাঙালির জন্য আনন্দঘন এক নাগরিক উৎসব। নববর্ষ বরণ করতে বাংলাদেশ মুখর ছিলো বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে।

পহেলা বৈশাখে এবার ঢাকার বড় মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বাউল শিল্পী আরজ আলী।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বাস্তবায়নে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজিত কনসার্টে গান গেয়ে সবাইকে মাতিয়েছেন তিনি। জীবনে প্রথমবারের মতো এতো বড় মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে আরজ আলী তার স্বপ্ন ছুঁয়েছেন। এই আয়োজনে একই মঞ্চে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী এবং ব্যান্ডদল গান পরিবেশন করে।

নববর্ষের এই কনসার্টে আরজ আলীর পরিবেশনা দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়েছে বেশ। জাহিদ নীরব ফিচারিং আরজ আলী ও রাকিব হাসানের গানের পরিবেশনায় গলা মিলিয়েছেন হাজারো দর্শক।

বর্ষবরণের এই নন্দিত আয়োজনে ঢাকার বড় মঞ্চে অজপাড়াগাঁয়ের একজন বাউল আরজ আলীকে পেয়ে দর্শকরা তুমুল সাড়া দিয়েছেন। শিল্পীর পরিবেশনা আর দর্শকের চিত্তবিনোদন মিলে সকল উন্মাদনা যেন এক হয়ে গিয়েছিলো মানিক মিয়া এভিনিউতে। তাইতো মুঠোফোনে স্মৃতি ধরে রাখলেন অনেকেই।

নেত্রকোণার সুসঙ্গ দুর্গাপুরের সাদামাটির পাহাড়ের আঙিনা থেকে রাজধানীর মঞ্চ,যাত্রাটা আরজ আলীর কাছে স্বপ্নের মতোই। এই জার্নিতে তার এতদূর আসার পেছনে বড় অবদান রয়েছে শিল্পী রাকিব হাসানের। তিনি এই পথের বাউলকে চিনিয়েছেন রাজপথ। তারপর ঢাকায় একসাথে প্র‍্যাকটিস করা,আড্ডা দেয়া অথবা গানের ফাঁকে কথার ঝড়। অবশেষে এক মঞ্চে দর্শক মাতানো। যেন এক রূপকথার গল্পের মতোই।

এই গল্পের স্বপ্ন সত্যি হবার পথে সহযোগিতা করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। খুব আদুরে ঢঙে তাইতো ফেসবুকে লিখেন “উস্তাদ আরজ আলী”।

ইতিহাস ঐতিহ্যের সুসঙ্গ দুর্গাপুরের পথে প্রান্তরে যে আরজ আলী গান গেয়ে বেড়াতেন আজ তিনি রীতিমতো সেলিব্রেটি। দেশের নানা শ্রেণীপেশার মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এই বাউল শিল্পী। জীবনের অপরাহ্নে এসে তার শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছে যাওয়াটা সত্যিই মানুষের কাছে এক চমৎকার অনুভূতি। সাম্প্রতিক সময়ের আগে কখনোই সেভাবে ঢাকা শহর না দেখা মানুষটি এবার মাতালেন কত শত শহুরে মানুষকে। তাকে দেখলে সবাই এখন গান শুনতে চায়,খুব যত্ন করে তুলতে চায় এক মুহূর্তের সেলফি।

জীবনভর গানকেই ধ্যানজ্ঞান করা আরজ আলী তো দিনশেষে একজন সত্যিকারের সেলিব্রেটি। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন এভাবে – “আরজ আলী চাচাকে লক্ষ মানুষের সামনে গাইতে দেখা চোখের জন্য এক পরম শান্তি। দেশের হাটে-মাঠে-বাটে এরকম হাজার হাজার প্রতিভা আছে। এই শক্তিটাকে কাজে লাগানোর উপায় আছে। আমরা একটা কাঠামো তৈরি করতে পারি যেটা শুধু যে বাংলাদেশের ইমেজ বিল্ডিংয়ে হেল্প করবে তা না, আমাদের শিল্পীরা ভালো রেভিনিউ জেনারেট করতে পারবে।
আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায়,গান হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কালচারাল অ্যাসেট। বাংলাদেশকে বাইরের দুনিয়ায় গানের দেশ হিসাবে প্রজেক্ট করতে পারলে সবচেয়ে বড় কাজ হবে।”

নববর্ষের এই কনসার্টে গান পরিবেশন শেষে আরজ আলীর মুগ্ধতা ফুটে ওঠে তার অভিব্যক্তিতে। পরিবেশনা শেষে বললেন,”সকলের প্রতি আমার সালাম। ভালো থাকবেন। আবার দেখা হবে।”

শেকড়ের শিল্পী আরজ আলীর সাথে বারবার দেখা হোক নাগরিক আয়োজনের মঞ্চে অনেক গানের কোলাহলে,এমনটাই চাওয়া অসংখ্য শ্রোতা দর্শকের।

আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি; বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণী দিন মে দিবস। গ্রীষ্মের প্রচন্ড উষ্ণতায় মানুষ থেকে প্রানী সবাই হিমেল ছায়ার সন্ধানে ছুটে চলে। তপ্ত রোদ থেকে নিস্কৃতি পেতে পাখিরা আশ্রয় নেয় গাছের উঁচু মগডালে পত্র-পল্লবের ছায়ায়। বাগানে গাছের ছায়ায় কুকুর ছানারা আশ্রয় নিয়ে একহাত জিহ্বা বের করে গরম যন্ত্রনায় লালা ঝরিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করে। বনের রাজা সিংহ সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার পরও গরম তাকে এতই কাবু করে যে শেষ পর্যন্ত একটু প্রশান্তি খুঁজতে তাকে পানিতে নেমে পড়তে হয়। গরমের নিকট সবাই কাবু হয়ে যখন প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে তখন শ্রমজীবি মানুষগুলোকে এতটুকু পর্যন্ত টলাতে পারেনা গ্রীষ্মের উষ্ণতা।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটা শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত। শ্রমজীবী মানুষের প্রেরণা ও আবেগের দিন এই পয়লা মে। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছিল শ্রমিকরা। তাদের রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৮৯০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তামাম পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই মে মাসের ১ তারিখ নানা আয়োজনে পালন করা হচ্ছে শ্রমিক দিবস। বাংলাদেশও এই দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল পর্যায়ে মে দিবস এখন গুরুত্বসহকারে পালিত হচ্ছে। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। তবে এই দিবসের তাৎপর্য অনেক। এর পেছনে রয়েছে একটি রক্তস্নাত ইতিহাস মে দিবস
আজ থেকে ১২৮ বছর আগের কথা। তখন বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। মালিকেরা নগণ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দরিদ্র মানুষের শ্রম কিনে নিতেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাড়ভাঙা শ্রম দিয়েও শ্রমিক তার ন্যায্য মূল্য পেতেন না। মালিকেরা উপযুক্ত মজুরি তো দিতেনই না, বরং তারা শ্রমিকের সুবিধা-অসুবিধা, মানবিক অধিকার ও দুঃখ-কষ্ট পর্যন্ত বুঝতে চাইতেন না। মালিকেরা তাদের অধীনস্থ শ্রমিককে দাসদাসীর মতো মনে করতেন। আর তাদের সাথে পশুর মতো ব্যবহার করতেন। সুযোগ পেলেই মালিকেরা শ্রমিকের ওপর চালাতেন নানা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন। বলতে গেলে শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকারও তখন রক্ষিত হতো না। মালিকেরা প্রায়শই কাজ ছাড়া শ্রমিকের কোনো কথা শুনতেন না। শ্রমিকের গায়ের ঘাম ও সীমাহীন শ্রমের বিনিময়ে মালিকের সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠত। অথচ তার ছিটেফোঁটাও শ্রমিকের ভাগ্যে জুটত না। পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকের কাটত দুর্বিষহ জীবন। তখন শ্রমিকের জন্য কাজের নির্দিষ্ট সময় যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না মজুরির কোন নিয়ম-কানুন। ফলে শ্রমিকের শ্রমকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে মালিক অর্জন করতেন সীমাহীন সম্পদ।

এভাবে শোষণ-নিপীড়ন ও বঞ্চনাই শ্রমিকের ভাগ্যলিখন হয়ে দাঁড়াল। এভাবে মালিকের সীমাহীন অনাচার, অর্থলিপ্সা ও একপেশে নীতির ফলে শ্রমিকদের মনে জমতে শুরু করে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দ্রোহ। ১২ ঘণ্টা কাজ করেও যখন শ্রমিকের সংসার চলত না, স্বজনের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেয়া।
নিজের সত্তার কথা চিন্তা না করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্তকে পানিতে পরিণত করে যারা জীবনের বাঁকে শ্রমের তরীর মাঝি হিসেবে তরীকে তার গন্তব্যে নিয়ে যেতে অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আজ সেই সকল মেহনতি মানুষের প্রতীক মহান মে দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত। মহান দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করবে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের বাঁকে ফিরে দেখি যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মহান মে দিবস সেই সকল মেহনতি শ্রমিকের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নানা বঞ্চনা আর বৈষম্যের শিকার শ্রমিকরা তখনো জানতোনা তারা কিভাবে নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে। তাদের ক্ষোভ শুধু ধুমায়িত হতে থাকে, একের পর এক লাঞ্চনা বঞ্চনা নির্যাতনে যখন শ্রমিক সমাজের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালে প্রথম রাস্তায় নামে শ্রমিক সমাজ। কিন্তু সংগঠিত না থাকায় শ্রমিক মানুষেরা তাদের ন্যয্য অধিকার গুলো আদায় করতে পারেনি। ১৮৮১ সালে শ্রমিকরা তাদের দাবী জোরালো ভাবে তুলে ধরে এবং সে বছরেই ন্যয্য দাবী-দাওয়া আদায়ের লক্ষে আমেরিকা ও কানাডায় গঠিত হয় দুটি শ্রমিক সংগঠন। এই দুটি সংগঠন বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের ন্যার্য দাবি গুলো তুলে ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৪ সালে দু-দেশের শ্রমিক সংগঠন একটি প্রস্তাবনা পাশ করে, এতে বলা হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের কর্মদিবস হবে ৮ ঘন্টা। ৮ ঘন্টার বেশী কোন শ্রমিক কাজ করবেনা। দুটি দেশের শ্রমিক সংগঠনের এই ঘোষনায় উদ্বেলিত হয় শ্রমিক সমাজ। তারা তাদের অবস্থানে থেকে এ ব্যপারে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ৮ ঘন্টার বেশী কাজ না করতে উৎসাহ যোগায়। কিন্তু মালিক ও সরকার পক্ষ শ্রমিকদের এই প্রস্তাবনায় সাড়া না দিয়ে নির্যাতন ও নিপিড়নের পথ বেছে নেয়। এমতাবস্থায় ১৮৮৬ সালের ১ মে মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের প থেকে কতক ন্যয্য দাবি আদায়ে শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দেয়। শিকাগো শহরের ৭ টি সংগঠনসহ ২২ টি শ্রমিক সংগঠন এদিন মিছিলে মিছিলে ‘হে’ মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকে। শ্রমিকদের এই ন্যয্য দাবীর সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ ঐক্যমত না হওয়ায় সমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ গুলি চালালে এতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়। কিন্তু শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্ধু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তবুও তাদের ন্যয্য দাবী থেকে একচুল পরিমানও পিছপা হতে রাজী নয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আর মরিয়া ভাবের নিকট পরাজিত হয় সরকার। মেনে নেয়া হয় সকল দাবী-দাওয়া। পরবর্তীতে মার্কিন সরকার ১ মে কে ‘ল ডে’ হিসেবে ঘোষনা করে। বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায় করে নেয় শ্রমিকরা। তখন থেকেই মে দিবস সকলের নিকট শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনের প্রতিক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শুধু আমেরিকা আর কানাডা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস । বাংলাদেশেও সরকারি ভাবে পালিত হয় মে দিবস |

মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক বৃদ্ধার কানের দুল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে তার কানের লতি ছিঁড়ে দিয়েছে চোর। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গোদাশিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কয়েদভান (৭০) ওই এলাকার মৃত হোসেন আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার শেষে ঘরের জানালার পাশেই খাটের উপর  ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে এক চোর জানালা কেটে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে তার ডান কানের সোনার দুল ধরে টান দেয়। এতে তার কানের লতি ছিঁড়ে যায় এবং দুল নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর নাতি সুজন আহমেদ জানান, তার নানি একা থাকতেন এবং জানালার কাছেই শুয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে চোর জানালা কেটে দুল ছিনিয়ে নেয়। চুরি যাওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এলাকায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু রায়হান বলেন, রাত ৩টার দিকে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার কানের লতি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ক্ষতস্থানে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

 

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান– ঘটনাটি আমাদের  জানা ছিল না।  এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

Admin
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ(জামালপুর প্রতিনিধি):জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ডে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে তেল নিতে আসা ফয়সাল (২৫) ও ওয়াসিম উদ্দিন (৩০) নামে দুই যুবককে নগদ চৌদ্দ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯২ ও ৬৬ ধারায় উভয়কে জরিমানা করা হয় । মাদারগঞ্জের নিশ্চিন্তপুরের ফয়সাল এর কাছ থেকে পাঁচ হাজার ও বাকুরচরের ওয়াসিম এর কাছ থেকে নয় হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ মডেল থানার নবাগত ওসি স্নেহাশিস রায় ,ট্যাগ অফিসার রহুল আমিন ও আইসিটি অফিসারসহ পুলিশ সদস্য পাম্প কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও সুমন চৌধুরী বলেন অনিয়ম কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদেরকে শাস্তি/জরিমানার আওতায় আনা হবে।