খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

পাথরঘাটায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিএনপি’র নেতাকর্মীর সংবাদ সম্মেলন

মাহামুদুর রহমান রনি, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ৭:০১ অপরাহ্ণ
পাথরঘাটায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিএনপি’র নেতাকর্মীর সংবাদ সম্মেলন

পাথরঘাটায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিএনপি'র নেতাকর্মীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি মাহামুদুর রহমান রনি

বরগুনার পাথরঘাটা যুবদল নেতা নাসির হত্যা মামলায় আব্দুস সালামকে আসামি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২৪ জনের নামে ধান কাটা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে সালামের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে সোমবার বেলা সাড়ে বারোটায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।

এর আগে ২৬ জানুয়ারী বরগুনা দ্রুত বিচার আদালতে ও ২৯ জানুয়ারী পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই ঘটনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আব্দুস সালামের স্ত্রী ফারজানা। উভয় মামলার একই ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুবিন।

আব্দুস সালাম পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মঠেরখাল এলাকায় মৃত আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে। তিনি পাথরঘাটা উপজেলা যুবদল নেতা হত্যা মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার আসামি পাথরঘাটা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মামুন জানান, আব্দুস সালাম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সাইদুল ইসলাম সুমন নামে এক ব্যক্তি পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি আমাকে মিমাংসার দায়িত্ব দেন ইউএনও মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান খান। আমি সালামসহ অন্যদের কয়েক দফা বৈঠকের নোটিশ দিয়েও বসাতে পারিনি। এরমধ্যেই আমি সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে সালামের স্ত্রী ফারজানা।

আরেক আসামি পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরাফাত রহমান ওভি বলেন, যুবদল নেতা নাসির হত্যার বিচার চেয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করলে আমাকে ও আমার বাবাকে আসামি করেছে।

সালামের হয়রানি মুলুক একাধিক মামলায় ভুক্তভোগী কালমেঘা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আইউব আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডে আমি একটি ক্যাডেট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করায় আমার বিরুদ্ধে ৫টি, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮টি সহ একাধিক শিক্ষকের নামে আব্দুস সালাম ও তার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে মামলা করিয়েছে। সব শেষ বুধবার ধান কাটা মামলায় আমি সহ আমার মাদ্রাসার শিক্ষকে আসামি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সালাম এলাকায় মামলা সালাম ও ব্যারিস্টার সালাম নামে পরিচিত। তিনি মানুষকে সামান্য বিষয় নিয়ে প্রায় দুই শতাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ মামলা বানিজ্যে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইসমাইল শিকদার এসমে, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান ফাহিম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আল বকর মেসাল প্রমুখ।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক জানান আব্দুস সালাম পাথরঘাটায় মামলা বাজ সালাম হিসেবে পরিচিত। তিনি নিজে ও তার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে নিরিহ মানুষদের হয়রানি করে আসছে। গত পহেলা জানুয়ারি দলীয় প্রোগ্রাম শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবদল নেতা নাসির হত্যা মামলার ইজহার ভুক্ত আসামি এই মামলা বাজ সালাম। যুবদল নেতা হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাথরঘাটা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। আমরা নাসির হত্যা মামলায় দ্রুত সালামকে গ্রেফতারের দাবি করছি।

তিনি আরো জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা এঘটনায় জড়িত নয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আত্মগোপনে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, যুবদল নেতা নাসির হত্যা মামলায় আব্দুস সালাম এজহার নামীয় আসামি। সে পালাতক রয়েছে। সালামের স্ত্রী ফারজানা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে তা তদন্তে রয়েছে।

মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান জানান, একই এলাকার মৃত বাবন খাঁর ছেলে জাভেদ খাঁ ও তার ছেলে সুজন খাঁ দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানি করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তার কাছে নগদ চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে এবং ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় ১১ মার্চ দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় জাভেদ খাঁর নির্দেশে সুজন খাঁ, ইমরান খান, রোমান খান, নাছিমা বেগম, মুনি বেগমসহ আরও ১০–১২ জন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির উঠানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান বলেন, হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। পরে লোহার রড দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার মেয়ে ইসমিতা খান মমির চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও বলেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

মাসুদ হোসেন খান বর্তমানে এশিয়ান টেলিভিশনের মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও দায়িত্বে রয়েছেন

ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার মাদক ও চোরাচালান মালামাল আটক

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকার মাদক ও চোরাচালান মালামাল আটক

দিনাজপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামাল আটক করেছে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি)।
১০ ও ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিরামপুর বিশেষ ক্যাম্প, কাটলা বিশেষ ক্যাম্প, মনিপুর বিওপি ও দাইনুর বিওপি পৃথক পৃথকভাবে মোট ৬টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩,৬৭০ পিস বাংলাদেশি মদ তৈরির বড়ি, ২৮৭ বোতল বাংলাদেশি যৌন উত্তেজক সিরাপ, ২৪ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২০৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ, ৯০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।
আটককৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামালের সিজার মূল্য ৯,১০,৫০০ (নয় লক্ষ দশ হাজার পাঁচশত) টাকা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ও চোরাচালানের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত, আপনাদের পাশে সবসময় আছি — এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত, আপনাদের পাশে সবসময় আছি — এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম

দিনাজপুর সদরের উত্তর ফরিদপুর ও মহাজনপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে রবিবার (৮ মার্চ) জনতা ক্লিনিক মোড়ে দিনাজপুর সদর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি’র সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের ভোটে এমপি হয়েছি। আপনারাই আমাকে তিনবারের মেয়র থেকে এমপি বানিয়েছেন। আমি দিনাজপুর সদরকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সুখে-দুঃখে আগেও যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর সদরের সব রাস্তাঘাট নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে, যাতে জনগণের কোনো ভোগান্তি না থাকে। পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হুদা, ডা. সাইফুর রহমান, মঞ্জুর মুর্শেদ সুমন, এ.আই. মিজানুর রহমান, মোস্তফা কামাল মিলন, মোজাফফর হোসেন, শামসুল আলম চৌধুরী, মিজানুর রহমান, আইয়ুব আলী, মোকসেদুল ইসলাম টুটুল ও সাজ্জাদ হুমায়ুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।