খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

গভীর রাতে কৃষি খামারের কেয়ারটেকার খুন,৭ গরু লুট

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে কৃষি খামারের কেয়ারটেকার খুন,৭ গরু লুট

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে কৃষি খামারের কেয়ারটেকারকে খুন করে ৭ টি গরু ডাকাতি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার শুকনাকুড়ি এলাকায় বুধবার দিবাগত রাতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জয়নাল উদ্দিন (৬৫)। তিনি কাকৈড়গড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। ওই খামারে তিনি গত আড়াই মাস যাবত কাজ করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়,গভীর রাতের কোন এক সময় একদল দুর্বৃত্ত ওই খামারে গরু চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এসময় তারা কেয়ারটেকার জয়নাল উদ্দিনকে হত্যা করে এবং খামারের ৭টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা বরকত খান বলেন,সকালে খামারে এসে বদলী কেয়ারটেকার হেলাল উদ্দিন খামারের নিত্যদিনের কার্যক্রম দেখতে না পেয়ে ওই কেয়ারটেকারকে ডাক দেয়। তার সাড়াশব্দ না পেয়ে সেখানকার খড় রাখার ঘরের দরজা খুলতেই তাকে মুখবাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকুল আলম তালুকদার বলেন,জয়নাল উদ্দিন সহজ সরল মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। তাকে এভাবে কেন খুন হতে হলো! এমন ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত বোধ করছি। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?

নিহতের স্ত্রী জমিলা খাতুন বারবার বিলাপ করতে করতে বলেন,স্বামীর আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলতো। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার কিভাবে চলবে?
যারা আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

খামার মালিক মাহাবুল হক বলেন,দুর্বৃত্তরা আমার বড় ধরণের ক্ষতি করেছে। আমার কেয়ারটেকারকে হত্যা করেছে। যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র এএসপি আল ইমরানুল আলম বলেন,ইতোমধ্যে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের সকল ইউনিট তৎপর রয়েছে। আমরা খুব দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট:   নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ঘটনা। শিশুটি মাদরাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে মদন উপজেলার বেসরকারি মেডিকেলে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ বিষয়ে ডাক্তার সায়মা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে
এই গাইনি চিকিৎসক আক্ষেপ করে বলেন, ১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে, যা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।

দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ নামের এক যুবকের ছুরিকাঘাতে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নামের অপর যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে পৌর শহরের তেরি বাজার এলাকায় এ ঘটনার ঘটে৷ নিহত কেলিস ওই এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১ টায় তেরি বাজার এলাকায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রেরণ করে ৷ পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে।

পুলিশ রাতেই দুর্গাপুরের বাসা থেকে নূর মোহাম্মদের মা নূরনাহার ও তার বোন জামাই মাজেদুল কে গ্রেফতার করে। এরপর পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযান চালিয়ে ওইদিন ভোর রাতে নেত্রকোণার মালনী এলাকা থেকে ঘাতক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে ও এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে। ঘাতক নূর মোহাম্মদ তেরী বাজার এলাকার মুজিবুর রহমানের ছেলে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতা নূর মোহাম্মদ সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন দুর্গাপুরের শাওন

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন দুর্গাপুরের শাওন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার সাজ্জাদ হোসেন শাওন।

গত ২ মে রাতে সারাদেশে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটি প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির-এর স্বাক্ষরে অনুমোদিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের কমিটিও প্রকাশিত হয়।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহফুজুর রহমান লিপকন। একই কমিটিতে দুর্গাপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন শাওনকে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

পদপ্রাপ্তির পর থেকেই দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন শাওন। তিনি বলেন, আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদল সহ সকল রাজনৈতিক সহযোদ্ধার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য, এর আগে সাজ্জাদ হোসেন শাওন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।