খুঁজুন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফুলবাড়িতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মোঃ শাকিরুল ইসলাম দিনাজপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ মার্চ, ২০২৫, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়িতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের ভাটপাইল এলাকার তামিম হ্যাচারী এন্ট্রারপ্রাইজ নামের মুরগির খামারের বিষাক্ত গ্যাসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষির ফসলের ক্ষতিপূরণসহ পরিবেশ রক্ষার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৯ মার্চ) সকাল ১১ টায় তামিম হ্যাচারী এন্ট্রারপ্রাইজ নামের মুরগির খামারের প্রধান ফটকের সামনে এলাকাবাসী ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

 

মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, কামাল পাশা, সাইদুর রহমান, ৪নং বেতদীঘি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আনিছুর রহমান, বর্গাচাষী মো. সাইদুল ইসলাম, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের জমির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল হামিদ, মো. শাকিল, মোজাম্মেল হক, মতিয়ার রহমান, মো. শাহজাহান, মো. রফিকুল, তহির উদ্দীন প্রমুখ।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক রিফাত হাসান মারুফ সাধারণ সম্পাদক সজল খান

 

বক্তারা বলেন, তামিম হ্যাচারী এন্ট্রারপ্রাইজ নামের মুরগির খামারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুরগির বিষ্টার দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এলাকার ক্ষতিজমিতে বিরুপ প্রভাব পড়েছে।

এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মকভাবে বিপর্যয় ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে খামার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে কোনো প্রকার কথা না বলে নিজ খেয়ালখুশি মতো ক্ষমতার দাপটে ফসলের ক্ষতিসহ পরিবেশ ধ্বংস করে চলেছেন খামার কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতিকারণ গ্যাস নিঃসরণ বন্ধসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বক্তারা। তবে এ ব্যাপারে আগামীকে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মরকলিপি প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে তামিম হ্যাচারী এন্ট্রারপ্রাইজ নামের মুরগির খামারের ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি শুরুর পর থেকে মানববন্ধন করার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষতির কথা শোনা যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এসে ক্ষতির বিষয়গুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

ভাঙা মন্দিরে জ্ঞানের আলো, এগিয়ে চলেছে চন্দনা রাণীর পাঠশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ভাঙা মন্দিরে জ্ঞানের আলো, এগিয়ে চলেছে চন্দনা রাণীর পাঠশালা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:-ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে চন্দনা রাণীর “মহলবাড়ি বেদ ও গীতা পাঠশালা”। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই পাঠশালাটি ইতোমধ্যে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোরদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

পাঠশালাটিতে নিয়মিতভাবে বেদ ও গীতা পাঠের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শিষ্টাচার, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে পাঠদান করা হয়। প্রতি শুক্রবার বিকেলে এলাকার বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা এখানে অংশ নেয়। এছাড়াও বৈদিক নিত্যকর্মবিধি, ভজন, নৃত্য, ধ্যানযোগসহ নানা ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা অনার্স দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চন্দনা রাণী নিজের উদ্যোগে গত বছরের মে মাসে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠশালাটির কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে একটি ভাঙা মন্দিরে পরিচালিত এ পাঠশালায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

চন্দনা রাণী বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

বারো বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, এখানে ছুটির দিনে আমাদের ধর্মীয় বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আমাদের ধর্মীয় কাজে আগ্রহ বাড়ছে। এতে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, এ পাঠশালার মাধ্যমে তাদের সন্তানরা শুধু ধর্মীয় জ্ঞানই নয়, বরং শৃঙ্খলাবোধ, ভদ্রতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধও অর্জন করছে।

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা পাঠশালাটির প্রসার ও স্থায়িত্ব কামনা করেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শাহ মো. মশিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে “। সেখানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকুলান না হলে  আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

দিনাজপুর শহরে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ভরণ-পোষণ না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক বিধবা নারী।
অভিযোগকারী মোছাঃ হোসনে আরা হাসি (৩৭) দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে মৃত রবিউল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, যার বয়স বর্তমানে ১০ বছর।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে ও সন্তানকে শহরের একটি ভাড়া বাসায় রেখে সংসার পরিচালনা করতেন। গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রবিউল ইসলাম স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তার দেবর, স্বামীর প্রথম স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনেরা তাকে এবং তার শিশুসন্তানকে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার পুলহাট এলাকায় অবস্থিত স্বামীর মালিকানাধীন “পূরবী হাসকিং মিল” ও মিলের লাইসেন্স নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে স্বামীর মৃত্যু সনদপত্রও তাকে দেওয়া হচ্ছে না।
হোসনে আরা হাসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও তার ছেলে আইনগতভাবে মৃত রবিউল ইসলামের উত্তরাধিকারী হলেও তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নামে ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি বা প্রস্তুতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া, সন্তানের ভরণ-পোষণ ও নিজের ন্যায্য প্রাপ্য দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি তার শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ভরণ-পোষণ ও সম্পত্তির অংশ দাবি করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মারধর ও খুনজখম করারও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালী থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
  • স্টাফ রিপোর্টার, নির্বাচন কমিশন (ইসি) শিগগিরই উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর এসব নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং সিটি করপোরেশন-পৌরসভা নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক সূত্র অনুসারে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে ২০৪টির মতো ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
    উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও একই সময়ের কাছাকাছি বা তার পরে চার ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে সুনির্দিষ্ট তারিখ বা পূর্ণ তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। ইসি সূত্র জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন (জুন মাসে সম্ভাব্য) শেষ হলে উপজেলা-ইউনিয়ন নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
    গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
    দলীয় প্রতীক: বর্তমান সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
    প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। আচরণবিধি ও গেজেট প্রকাশের কাজ চলমান।
    পর্যায়ক্রম: সিটি করপোরেশন → পৌরসভা → উপজেলা পরিষদ → জেলা পরিষদ → ইউনিয়ন পরিষদ।
    নির্বাচন কমিশন শিগগিরই বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটারদের সচেতনতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।