খুঁজুন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

নেত্রকোণায় ঈদের গরুর মাংস ভাগাভাগি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ২:০১ পূর্বাহ্ণ
নেত্রকোণায় ঈদের গরুর মাংস ভাগাভাগি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০

ঈদের গরুর মাংস ভাগবাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নেত্রকোণার মদনে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০জন আহত হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালিবিন্নী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাওয়ালিবিন্নী গ্রামের লোকজন আলোচনা করে একটি গরু কিনে জবাই ও মাংস ভাগবাটোয়ারার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু মাংস বণ্টন ও গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামের বজলু মিয়া (৬০) এবং মাজু মিয়ার (৪০) লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে এই তর্কবিতর্ক চরম আকার ধারণ করে এবং উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুতুল মিয়া (৪৫), সাদেক (৩৫) এবং জানে আলমের (৩০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও মিডিয়া) হাফিজুল ইসলাম বলেন, গরুর মাংস ভাগাভাগি ও আধিপত্য নিয়েই এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো পক্ষ থেকেই থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাণীশংকৈলে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
রাণীশংকৈলে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের রবিবার (১৯ এপ্রিল) নয়াদিঘী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রীকান্ত (২৫) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত ব্যাক্তি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সিন্দুর্না কোণপাড়া গ্রামের অষ্টম রায়ের ছেলে পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী (লেভার) হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীকান্ত সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন এসময় তাঁর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকেরা এলাকার লোকজনকে ডাকেন। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে শ্রীকান্ত অচেতন হয়ে পড়েন। অন্য শ্রমিকেরা ভেতরে না নেমে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান–  পরিবারের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

ভাঙা মন্দিরে জ্ঞানের আলো, এগিয়ে চলেছে চন্দনা রাণীর পাঠশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
ভাঙা মন্দিরে জ্ঞানের আলো, এগিয়ে চলেছে চন্দনা রাণীর পাঠশালা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:-ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে চন্দনা রাণীর “মহলবাড়ি বেদ ও গীতা পাঠশালা”। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই পাঠশালাটি ইতোমধ্যে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোরদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

পাঠশালাটিতে নিয়মিতভাবে বেদ ও গীতা পাঠের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শিষ্টাচার, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে পাঠদান করা হয়। প্রতি শুক্রবার বিকেলে এলাকার বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা এখানে অংশ নেয়। এছাড়াও বৈদিক নিত্যকর্মবিধি, ভজন, নৃত্য, ধ্যানযোগসহ নানা ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা অনার্স দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চন্দনা রাণী নিজের উদ্যোগে গত বছরের মে মাসে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠশালাটির কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে একটি ভাঙা মন্দিরে পরিচালিত এ পাঠশালায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

চন্দনা রাণী বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

বারো বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, এখানে ছুটির দিনে আমাদের ধর্মীয় বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আমাদের ধর্মীয় কাজে আগ্রহ বাড়ছে। এতে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, এ পাঠশালার মাধ্যমে তাদের সন্তানরা শুধু ধর্মীয় জ্ঞানই নয়, বরং শৃঙ্খলাবোধ, ভদ্রতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধও অর্জন করছে।

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা পাঠশালাটির প্রসার ও স্থায়িত্ব কামনা করেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শাহ মো. মশিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে “। সেখানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকুলান না হলে  আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

দিনাজপুর শহরে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ভরণ-পোষণ না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক বিধবা নারী।
অভিযোগকারী মোছাঃ হোসনে আরা হাসি (৩৭) দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে মৃত রবিউল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, যার বয়স বর্তমানে ১০ বছর।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে ও সন্তানকে শহরের একটি ভাড়া বাসায় রেখে সংসার পরিচালনা করতেন। গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রবিউল ইসলাম স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তার দেবর, স্বামীর প্রথম স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনেরা তাকে এবং তার শিশুসন্তানকে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার পুলহাট এলাকায় অবস্থিত স্বামীর মালিকানাধীন “পূরবী হাসকিং মিল” ও মিলের লাইসেন্স নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে স্বামীর মৃত্যু সনদপত্রও তাকে দেওয়া হচ্ছে না।
হোসনে আরা হাসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও তার ছেলে আইনগতভাবে মৃত রবিউল ইসলামের উত্তরাধিকারী হলেও তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নামে ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি বা প্রস্তুতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া, সন্তানের ভরণ-পোষণ ও নিজের ন্যায্য প্রাপ্য দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি তার শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ভরণ-পোষণ ও সম্পত্তির অংশ দাবি করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মারধর ও খুনজখম করারও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালী থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।