খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসআর টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসআর টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ওষুধ ও সার্জিক্যাল সরঞ্জামসহ এমএসআর (MSR) সামগ্রী ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ওষুধ (আইডি: ১১৫৬২০৩), সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি (আইডি: ১১৫৬২০৪) এবং কেমিক্যাল (আইডি: ১১৫৬২০৭) সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, পিপিআর-২০০৬ ও পিপিআর-২০০৮ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা) উপেক্ষা করে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যক্তির যোগসাজশে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে ‘নন-রেসপনসিভ’ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিজেদের পছন্দের অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ‘রেসপনসিভ’ দেখিয়ে অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি
জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. হারুন অর রশিদ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে জানান, তার প্রতিষ্ঠান সমস্ত শর্ত পূরণ করে দরপত্র দাখিল করলেও কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কিছু ‘ভুঁইফোড়’ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পায়তারা করছে। তিনি অবিলম্বে এই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর উদ্বেগ
এদিকে, এই দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও সংবাদমাধ্যমে একটি অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল সেক্টরে এ ধরনের আর্থিক দুর্নীতি জনসেবাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অসাধু ব্যক্তিদের এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী এই দুর্নীতির হাত থেকে স্বাস্থ্য খাতকে রক্ষার জন্য যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অনুলিপি ও ব্যবস্থা
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এবং প্রকৃত সরবরাহকারীদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

পেয়ার আলী, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে অভিযানে সালন্দর ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লিটন মোস্তফা ও আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলায় বা অফিসিয়ালভাবে ১৫০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দুজন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক দুই ব্যক্তি এখনও থানায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, মাদকের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা আপস করা হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক|রাজশাহী

​রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা আপন সরকারের বিরুদ্ধে ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে টালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০০০ টাকার জন্য একজন পদপ্রত্যাশী নেতার এমন ‘পাইতারা’ বা টালবাহানায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপন সরকার কলেজের এক ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ধার নেন। ধার নেওয়ার সময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকাটি পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। পাওনাদার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আপন সরকার নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে আসছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:
ভুক্তভোগী জানান, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। ফোন দিলে ধরেন না, আর ধরলেও আজ-কাল বলে ঘোরান। তার মতো দায়িত্বশীল পদের প্রত্যাশীকে এই সামান্য টাকার জন্য এমন পাইতারা করতে দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

​রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
আপন সরকার বর্তমানে বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, যারা ব্যক্তিগত লেনদেন বা সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেন না, তাদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আগেই এমন ‘আমানত খিয়ানত’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নেতা-কর্মীরা।
​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আপন সরকারের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওনাদারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং নৈতিক জায়গা থেকে অতি দ্রুত যেন আপন সরকার তার ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।