৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ওষুধ ও সার্জিক্যাল সরঞ্জামসহ এমএসআর (MSR) সামগ্রী ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ওষুধ (আইডি: ১১৫৬২০৩), সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি (আইডি: ১১৫৬২০৪) এবং কেমিক্যাল (আইডি: ১১৫৬২০৭) সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, পিপিআর-২০০৬ ও পিপিআর-২০০৮ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা) উপেক্ষা করে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যক্তির যোগসাজশে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে ‘নন-রেসপনসিভ’ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিজেদের পছন্দের অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ‘রেসপনসিভ’ দেখিয়ে অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি
জুয়াইরিয়া ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. হারুন অর রশিদ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে জানান, তার প্রতিষ্ঠান সমস্ত শর্ত পূরণ করে দরপত্র দাখিল করলেও কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কিছু ‘ভুঁইফোড়’ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার পায়তারা করছে। তিনি অবিলম্বে এই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর উদ্বেগ
এদিকে, এই দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও সংবাদমাধ্যমে একটি অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল সেক্টরে এ ধরনের আর্থিক দুর্নীতি জনসেবাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অসাধু ব্যক্তিদের এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী এই দুর্নীতির হাত থেকে স্বাস্থ্য খাতকে রক্ষার জন্য যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অনুলিপি ও ব্যবস্থা
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এবং প্রকৃত সরবরাহকারীদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৪:৫০ অপরাহ্ণ