খুঁজুন
, ,

শামুক আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, তাহলে খেতে বাধা কেন? আদিবাসীদের খাদ্যসংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রের কাছে দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
শামুক আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, তাহলে খেতে বাধা কেন? আদিবাসীদের খাদ্যসংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রের কাছে দাবি

শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও:বাংলাদেশের আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যুগ যুগ ধরে তাঁরা নদী, খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে আসছেন। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম একটি অংশ হলো শামুক। পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই বিভিন্ন আদিবাসী পরিবারের মানুষ খাল-বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খেয়ে আসছেন। এটি তাঁদের কাছে শুধু একটি খাবার নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

সম্প্রতি নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে শামুক নিধন রোধে প্রশাসনের অভিযানের খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ৪ নভেম্বর চলনবিলের ডাহিয়া ও সাতপুকুরিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পরিবেশকর্মীরা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তিনজন শামুক ব্যবসায়ীকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেজি শামুক উদ্ধার করে চলনবিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়।

প্রশাসনের দাবি, চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অতিরিক্ত শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধ করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগকে আমরা সম্মান করি। আমরাও চাই প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকুক, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাক। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের প্রশ্ন—আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির অধিকার কোথায়?

শামুক শুধু খাবার নয়, আমাদের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ

আমাদের অনেক আদিবাসী পরিবারের মানুষ নিজেদের খাবারের প্রয়োজন মেটাতে খাল-বিল থেকে অল্প পরিমাণে শামুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেই শামুক রান্না করে খেয়ে থাকেন। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্যের অংশ।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, নিজেদের পরিবারের খাবারের জন্য শামুক সংগ্রহ করাও কি অপরাধ? হাজার হাজার কেজি শামুক বাণিজ্যিকভাবে আহরণ করা এবং একটি পরিবার নিজেদের খাবারের জন্য সীমিত পরিমাণে শামুক সংগ্রহ করা কি একই বিষয়?

আমরা মনে করি, এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। বাণিজ্যিকভাবে নির্বিচারে শামুক নিধন বন্ধ করা প্রয়োজন। কিন্তু সেই অজুহাতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সংবিধানে সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং বৈষম্যবিরোধী নীতির কথা বলা হয়েছে।

তাহলে রাষ্ট্র যখন আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে, তখন আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির বিষয়টি কেন যথাযথ গুরুত্ব পাবে না?

আমাদের পোশাক, নাচ, গান, উৎসব ও সামাজিক রীতিনীতিকে যদি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া খাদ্যাভ্যাস কেন সেই স্বীকৃতির বাইরে থাকবে?

আমাদের অস্তিত্ব কি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্যকেও সম্মান করা হবে?

পরিবেশ সংরক্ষণ হোক, খাদ্যসংস্কৃতিও সুরক্ষিত থাকুক

আমরা কখনোই প্রকৃতি ধ্বংসের পক্ষে নই। শামুক জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে শামুক নিধন বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তবে পরিবেশ সংরক্ষণের নামে আদিবাসীদের পারিবারিক খাদ্যসংগ্রহের ঐতিহ্য যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক শামুক আহরণ এবং পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য সীমিত পরিমাণে শামুক সংগ্রহের মধ্যে সুস্পষ্ট আইনি পার্থক্য নির্ধারণ করা হোক।

এ বিষয়ে আদিবাসী সংগঠন, পরিবেশবিদ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রচলিত আইনে কোথায় কী বিধিনিষেধ রয়েছে, তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

আমার প্রতিবাদ, আমার অধিকার, আমার অস্তিত্ব

আজ আমি আমার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও খাদ্যসংস্কৃতির কথা বলার জন্য কলম ধরেছি। এই লেখার কারণে যদি সরকার আমাকে গ্রেফতার করে, জেলে পাঠায়, তাতেও আমি রাজি আছি। আমাদের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও অধিকার নিয়ে কথা বলা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আমি সেই শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।

কিন্তু আমার প্রশ্ন, নিজের জাতির অধিকার ও ঐতিহ্যের পক্ষে কথা বলা কি অপরাধ? আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া ঐতিহ্যবাহী খাবার শামুক খাওয়ার অধিকার কেন বাধাগ্রস্ত হবে? আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? আমাদের কি নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নেই?

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা পরিবেশ ধ্বংস করতে চাই না। আমরা নির্বিচারে শামুক নিধনও চাই না। আমরা চাই প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকুক। কিন্তু নিজেদের পরিবারের খাবারের জন্য খাল-বিল থেকে সীমিত পরিমাণে শামুক সংগ্রহ করে খাওয়ার কারণে আদিবাসী মানুষ যেন অযথা হয়রানি কিংবা অযৌক্তিক শাস্তির শিকার না হন।

প্রয়োজনে আমার এই লেখার জন্য আমাকে গ্রেফতার করুন, জেল দিন, শাস্তি দিন—আমি আমার শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবেন না। আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার শামুক খাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্র যেন অযৌক্তিক বাধা প্রদান না করে।

নিজের জাতির অধিকার, মর্যাদা ও সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলা আমার কাছে কোনো অপরাধ নয়; এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি আমার জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রশ্নে নীরব থাকতে চাই না।

সরকারের কাছে আমাদের আবেদন

আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই—

১. আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দিতে হবে।

২. পারিবারিক খাদ্যচাহিদা এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক শামুক আহরণের মধ্যে সুস্পষ্ট আইনি পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে।

৩. পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক অধিকার ও জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

৪. আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৫. জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শেষ কথা: আমাদের খাবার, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অস্তিত্ব

আমরা এই দেশেরই মানুষ। এই দেশের মাটি, জল, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্ক বহু পুরোনো। আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, পোশাক, উৎসব ও জীবনযাপন আমাদের জাতিগত পরিচয়ের অংশ।

আমরা চাই না চলনবিলের শামুক নির্বিচারে নিধন হোক। আবার এটাও চাই না, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাপনের অধিকার উপেক্ষিত হোক।

রাষ্ট্রের কাছে আমাদের আবেদন—পরিবেশ রক্ষা করুন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন, কিন্তু আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক অধিকারকেও সম্মান করুন।

শামুক আমাদের কাছে শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া খাদ্যসংস্কৃতির একটি অংশ। আমাদের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে আমাদের অস্তিত্বকে পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব নয়।

আমাদের দাবি একটাই—প্রকৃতি বাঁচুক, আদিবাসীদের সংস্কৃতি বাঁচুক, আমাদের ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের অধিকার সুরক্ষিত হোক।

হরিপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
হরিপুরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, হরিপুর (ঠাকুরগাঁও): ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে গাঁজা সেবনের অপরাধে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে হরিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল বাইন এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

দণ্ডিত যুবকের নাম মো. মুন্না (২৩)। তিনি হরিপুর উপজেলার দনগাঁও গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য গাঁজা সেবনের অপরাধে হাতেনাতে ধরা পড়েন মুন্না। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা নং-১২৬/২০২৬, তারিখ ০৫/১১/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ মূলে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

মাদক প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন |

রাণীশংকৈলে নারী ভুয়া কবিরাজদের দৌরাত্ম 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
রাণীশংকৈলে নারী ভুয়া কবিরাজদের দৌরাত্ম 

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের লেহেম্বা গ্রামে ৩ কথিত নারী কবিরাজের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- ওই গ্রামের লক্ষ্মী রানী, কল্পনা রানী ও তুফান রানী।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘স্বপ্নে শেখা বিদ্যা’র অধিকারী বলে প্রচার করে আসছেন। জ্বিন-ভূত তাড়ানো, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অমিল, সন্তান না হওয়া, শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা সমস্যার সমাধানের কথা বলে তারা ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজ, তেল ও পানি পড়া দিয়ে থাকেন। এর বিনিময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাস্তবে তাদের এই কথিত বিদ্যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও কার্যকারিতা নেই। তাদের দেওয়া তাবিজ ও পানি পড়ায় কেউ সুস্থ হয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল নারীরা তাদের প্রতারণার প্রধান টার্গেট।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, কুসংস্কারকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ভুয়া কবিরাজি ব্যবসা সমাজে অন্ধবিশ্বাস ছড়াচ্ছে। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক মানুষ প্রতারিত হবে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গীর বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে আরএমপি নিয়োগের লটারি অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
বালিয়াডাঙ্গীর বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে আরএমপি নিয়োগের লটারি অনুষ্ঠিত

নুরনবী,বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন আরএমপি (RMP) কর্মসূচির নারী কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। লটারিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে চাকরিপ্রত্যাশী নারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ পাওয়ার আশায় নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় পুরো ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আরএমপি কর্মসূচির আওতায় ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন থেকে মোট ১০ জন নারীকে লটারির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত নারীরা এলাকার গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় মেরামত সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

লটারি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুল আলম এবং ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন মিয়া (চাবি)। এ সময় উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ, ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লটারি চলাকালে চাকরিপ্রত্যাশী নারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশায় অনেক নারী অধীর আগ্রহে লটারির ফলাফলের অপেক্ষা করেন।

স্থানীয়দের মতে, আরএমপি কর্মসূচি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের নারীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও সচল থাকবে।

সব মিলিয়ে এলজিইডির আরএমপি কর্মসূচির আওতায় বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ১০ জন নারীকে নিয়োগের এ উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।