খুঁজুন
, ,

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মোঃ মাইদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনসহ সারা দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে পিঠিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ঘৃণিত খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামের কচাকাটাতে মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
আজ বুধবার জামায়াতের কচাকাটা থানা শাখার উদ্যোগে মিছিলটি কচাকাটা বাজার মসজিদ থেকে শুরু হয়ে আশপাশের সড়ক ঘুরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেটি শেষ হয়।
মিছিলপরবর্তী প্রতিবাদ সমাবেশে জামায়াতের কচাকাটা থানা শাখার আমির মাওলানা মোঃ এনামুল হক বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। সেদিন ঢাকার পল্টনসহ সারা দেশে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ন্যক্কারজনক, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য ‘মামলা করা হলেও হত্যাকারীদের বিচার করা হয়নি।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনসহ সারা দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে পিঠিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত ঘৃণিত খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও বিচার নিশ্চিত করার আহবান জানান।
মিছিল-সমাবেশে জামায়াতের কচাকাটা থানার সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল বাতেন (বিএসসি), অফিস সেক্রেটারি মোঃ আতাউর রহমান, মাওলানা মোঃ মঈনুল ইসলাম, মোঃ শাহাবুল আলমসহ কচাকাটা থানা শাখার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দুয়ায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, দুই ইউপি সদস্যসহ আটক ৬

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কেন্দুয়ায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, দুই ইউপি সদস্যসহ আটক ৬

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় জুয়া খেলার সময় দুই ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। এসময় জুয়া খেলার তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার গন্ডা বাজারের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন গন্ডা এলাকার হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন (৬০) ও খুররম মিয়া (৫০), মনকান্দা গ্রামের চান্দু মিয়া (৪৫) ও আলী ওসমান (৪২), বীরমহুরী গ্রামের সোহাগ (৪৫) এবং মরিচপুর গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০)।
তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং আলী ওসমান একই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য।

পুলিশ জানায়, গন্ডা বাজারের একটি দোকানে জুয়া খেলার খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় জুয়া খেলারত অবস্থায় ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে দুই ইউপি সদস্যের এমন কান্ডে গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম কল্যাণ বলেন, মাদক ও জুয়া নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। তবে আমার জানামতে, ইউপি সদস্যরা এসব অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়। তারপরও যেহেতু তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন, এখন আইন অনুযায়ী যা হওয়ার, তাই হবে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দিয়ে বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

নেত্রকোণায় ভ্যানের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে অভিনব কৌশলে বিদেশী মদ পাচারকালে আটক ১

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
নেত্রকোণায় ভ্যানের গোপন চেম্বারে লুকিয়ে অভিনব কৌশলে বিদেশী মদ পাচারকালে আটক ১

নেত্রকোণায় ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যানগাড়ির গোপন চেম্বারে লুকিয়ে রাখা ৮৮ বোতল বিদেশী মদের চালানসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার পূর্বধলা থানার বাড়হা বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই মদের চালান জব্দ করা হয়। নেত্রকোণা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃত মাদক কারবারির নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩৬)। তিনি জেলার দুর্গাপুর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মাদকের বড় একটি চালান ওই এলাকা দিয়ে পাচার হতে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে পূর্বধলা থানাধীন বাড়হা বোর্ড বাজারস্থ মাসুম টেলিকমের সামনের রাস্তায় (জারিয়া থেকে শ্যামগঞ্জগামী পাকা সড়ক) অবস্থান নেয়।

এসময় সন্দেহভাজন ব্যাটারিচালিত একটি অটো ভ্যানগাড়ি সেখানে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন অভিযানিক দলের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে ভ্যানগাড়িতে সন্দেহজনক কিছু চোখে না পড়লেও, পরবর্তীতে ব্যাপক তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর চিত্র। দেখা যায়, ভ্যানগাড়ির ড্রাইভিং সিটের নিচে এবং পেছনের অংশে অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন একটি চেম্বার তৈরি করা হয়েছে, যার ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে ভারতীয় দামি মদের বোতল।

এই অভিযানে ৮৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ভ্যানগাড়ির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬ বোতল ‘আইকনিক হোয়াইট’ ব্র্যান্ডের মদ (প্রতিটি ৭৫০ মি.লি. করে ৩৪.৫ লিটার)। আর পেছনের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয় ২২ বোতল ‘রয়েল স্ট্যাগ’ (১৬.৫ লিটার) এবং ২০ বোতল ‘ব্লেন্ডারস প্রাইড’ (১৫ লিটার) ব্র্যান্ডের মদ। মদের পাশাপাশি পাচারকাজে ব্যবহৃত অটো ভ্যানগাড়ি এবং আসামির ব্যবহৃত একটি ‘টিসিএল’ ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করেছে ডিএনসি।

এ ঘটনায় আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডিএনসির পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কচাকাটায় জামায়াত নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
কচাকাটায় জামায়াত নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতার ওপর  হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কচাকাটা থানা জামায়াতে ইসলামী। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টায় মাদারগঞ্জ বাজারে মিছিল করেন। 

মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে হামলার ঘটনায় ফ্যাসিস্টদের দোসর মোঃ আকমল হোসেনসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।

সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল বাতেন (বিএসসি) এর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী  কচাকাটা থানা শাখার জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ এনামুল হক।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কচাকাটা ইউনিয়ন জামায়াতের মোঃ মাহবুবুর রহমান, মাওলানা মঈনুল ইসলাম, মোঃ হাছান আলী ও কামরুজ্জামান এবং বল্লভেরখাস  ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ সোলায়মান আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বল্লভেরখাস  ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ সোলায়মান আলীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কারও ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, হামলাকারী যে দলের হোক না কেন অপরাধীরা যেন পার পেয়ে না যায়, সে জন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা হামলার শিকার নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন। তাদের মতে, ভয়ভীতি বা হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমিয়ে রাখা যায় না। আইনের শাসন, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।