জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যা মামলার আসামি কলিন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ
দিনাজপুর শহরের ঘাসিপাড়ার মহসিন আলীর ছেলে নওশাদ ইকবাল কলিন্সের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, একসময় কলিন্স মডার্ন মোড় এলাকার বেলালের ফুলের দোকানে কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে কলিন্সের রাজনৈতিক পরিচয়ও পরিবর্তিত হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি দলটির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দিনাজপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কলিন্স সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দিনাজপুর শহরের চুরিপট্টি ব্রিজের পাশে পোস্ট অফিসসংলগ্ন একটি পুরোনো বাড়ি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাড়িতে একটি পরিবার প্রায় ৪৮ বছর ধরে বসবাস করলেও রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে জায়গাটি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কলিন্সের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি দ্রুত বিচার আইনে চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে। আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, দিনাজপুরের মডার্ন সিনেমা হলের মালিক এম এস পারভেজ গংয়ের সিনেমা হল ও সংশ্লিষ্ট জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে কলিন্সের বিরুদ্ধে। তারা ৭৬ বছর ধরে ক্রয়সুত্রে সি.এস, আর.এস, বি.এস রেকর্ডের মালিক। তারা খাজনা/খারিজ, ট্রেড-লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত বিরোধে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ এবং দেওয়ানি আদালতে মামলা করার মাধ্যমে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ওয়ারিশকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মামলার বাদী করা হয়েছে। বর্তমানে কলিন্সের বড় ভাই তৌফিক ইকবালকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার মাধ্যমে মামলাটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নওশাদ ইকবাল কলিন্সের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

