কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের নিয়ে ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সাইফ-উল-আরেফীন-এর সভাপতিত্বে সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভায় ইউএনও বলেন, গ্রাম আদালতের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ মানুষের জন্য স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের নথি ও রেজিস্টার হালনাগাদ রাখতে হবে। কোনোভাবেই গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা ব্যক্তিগত সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে না; বরং এজলাসে বসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।তিনি আরও জানান, ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা গ্রাম আদালতের রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৬টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন তিনি।
সভায় বিগত তিন মাসের (জানুয়ারি ২০২৬ হতে মার্চ ২০২৬) অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত তিন মাসে কালকিনি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সরাসরি ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত থেকে ২টি মামলা এসেছে। এই সময়ে মোট ৬৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
বিগত কোয়ার্টারে সফলভাবে মামলা নিষ্পত্তির জন্য পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়ন (২২টি মামলা) এবং চরদৌলতখান ইউনিয়ন (১৯টি মামলা) পরিষদের হিসাব সহকারীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “আমি এখন থেকে নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়ন ভিজিট করব এবং সরাসরি রেজিস্টার চেক করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তৃণমূল পর্যায়ে বিচারিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

