খুঁজুন
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

এক রাস্তার শহর নেত্রকোণা,যানজটে জনগণ অতিষ্ঠ

দিলওয়ার খান
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
এক রাস্তার শহর নেত্রকোণা,যানজটে জনগণ অতিষ্ঠ

এক রাস্তার শহর নেত্রকোণা। যেখানে অপরিকল্পিতভাবে চলাচল করছে ইজিবাইক ও মিশুকের মতো ব্যাটারিচালিত যান।
নেত্রকোণা পৌর শহরের মূল রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে দোকানপাট। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর বসে গেছে পণ্যের পসরা।

অপরদিকে রাস্তার দখল নিয়েছে ইজিবাইক। চালকদের কোনও সিগন্যাল জ্ঞান না থাকায় যেভাবে খুশি সেভাবে ইজিবাইক চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠানামা এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অতিমাত্রায় বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু বছরের পর বছর এ রকম চললেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কোনও কোনও সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনিকভাবে অভিযান পরিচালনা করলেও তা আবার অভিযান শেষ করে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের অবস্থায় ফেরত যাচ্ছে। যার দরুন সমস্যা থেকে যাচ্ছে যেমন তেমনই। তাই প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।

নেত্রকোণা পৌরসভা সূত্রে জানা যায় ২৪০০ শত ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও ১৩০০ মিশুক ও১১০০ রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে পৌর কতৃপক্ষ ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী। যেগুলো পৌরশহরে চলাচল করবে এবং টু শিফটে ভাগ করা হয়েছে একদিন হলুদ কালার আর একদিন লাল কালার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে পৌর শহরের আশপাশ এলাকার পৌরসভার বাহিরের অটোরিক্সা, মিশুক ও রিক্সার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে যানযট বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের সংখ্যাও কম নয়।

দিনের বেলায় পৌরশহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে লড়ি, ট্রাকসহ বিভিন্ন বড় বড় যানবাহন। যার দরুণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পৌরশহরের সংকুচিত একমাত্র রাস্তাটি ব্যস্ত থেকে মহাব্যস্ততায় রুপ নেয় অল্পেতেই। সৃষ্টি হয় কঠিন যানজটের। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশের তেমন কোনও তৎপরতা চোখে পরে না। শহরের কয়েকটা পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা যানজট নিরসনে কার্যকর তেমন কোনও ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

এমতাবস্থায় তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পথচারীদের কেউ কেউ দুই পায়ের ওপর ভরসা করলেও অনেকেই তিন চাকার যানের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও অনেকেই মাঝ পথে দীর্ঘ সময় ধরে জ্যামে আটকে থাকেন। তাতে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের পড়তে হয় বিপাকে। ফলে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। শহরের রাজুর বাজার, আখড়ার মোড়, তেরী বাজার, থানার মোড়, ছোটবাজার, মেছুয়া বাজার, বড় বাজার, চক মসজিদ মোড়, মালনীরোড, মোক্তারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্যাম একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সব পয়েন্টগুলোতে ছোট জানের মাঝারি দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মত।

এলাকাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু পয়েন্টে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত দখল করে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। যার ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পথচারীদের জন্যে ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর অবৈধভাবে সুবিধা লুটছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। ফুটপাত দখল করে ফল, কাপড়, জুতা, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। এতে করে একদিকে যেমন সংকুচিত হয়েছে রাস্তা অপরদিকে পথচারীদের হাঁটতে হচ্ছে মুল রাস্তা ধরে। ফলে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথাচারীরা।

জেলার সচেতন সমাজ ও সাধারণ পথচারীরা এসব সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেন, নেত্রকোনায় যেহেতু কোনও বাইপাস সড়ক অদ্যাবধি হয়নি সেহেতু যতটুকু রাস্তা আমাদের রয়েছে ততটুকুর সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে জেলাপ্রশাসকের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রাস্তায় সীমিত যান এবং সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত শহরের মুল সড়ক দিয়ে ট্রাক-লড়িসহ বিভিন্ন বড় বড় যান চলাচল নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।

এমতাবস্থায় নেত্রকোণা পৌর এলাকাকে যানজটমুক্ত রাখতে সীমিত সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল ও ফুটপাতগুলোকে দখল মুক্ত রাখার দাবি পৌরবাসীর।এছাড়া জেলা শহরের বড়বাজার চক মসজিদ মালনী রোড, তেরি বাজার মোড় খেকে ওয়ান ওয়ে রিক্সা চলাচল করলে যানজট কমে আসবে বলে সচেতন মহলের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন জনগণ। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (অটো ও মিশুক) এর হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক|রাজশাহী

​রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা আপন সরকারের বিরুদ্ধে ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে টালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০০০ টাকার জন্য একজন পদপ্রত্যাশী নেতার এমন ‘পাইতারা’ বা টালবাহানায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপন সরকার কলেজের এক ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ধার নেন। ধার নেওয়ার সময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকাটি পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। পাওনাদার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আপন সরকার নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে আসছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:
ভুক্তভোগী জানান, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। ফোন দিলে ধরেন না, আর ধরলেও আজ-কাল বলে ঘোরান। তার মতো দায়িত্বশীল পদের প্রত্যাশীকে এই সামান্য টাকার জন্য এমন পাইতারা করতে দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

​রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
আপন সরকার বর্তমানে বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, যারা ব্যক্তিগত লেনদেন বা সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেন না, তাদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আগেই এমন ‘আমানত খিয়ানত’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নেতা-কর্মীরা।
​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আপন সরকারের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওনাদারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং নৈতিক জায়গা থেকে অতি দ্রুত যেন আপন সরকার তার ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।

মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী হামলায় নারী-শিশুসহ আহত একাধিক

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান জানান, একই এলাকার মৃত বাবন খাঁর ছেলে জাভেদ খাঁ ও তার ছেলে সুজন খাঁ দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হয়রানি করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তার কাছে নগদ চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে এবং ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকে।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় ১১ মার্চ দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় জাভেদ খাঁর নির্দেশে সুজন খাঁ, ইমরান খান, রোমান খান, নাছিমা বেগম, মুনি বেগমসহ আরও ১০–১২ জন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির উঠানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিক মাসুদ হোসেন খান বলেন, হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। পরে লোহার রড দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার মেয়ে ইসমিতা খান মমির চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও বলেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

মাসুদ হোসেন খান বর্তমানে এশিয়ান টেলিভিশনের মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও দায়িত্বে রয়েছেন