খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

সিডিএ’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

মো মাসুদুর রহমান জন। দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
সিডিএ’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

হাজার বছরের বঞ্চনা, নিগ্রহ, অবহেলার বিরুদ্ধে নারী সমাজকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ডাক দেয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

নারীর প্রতি সকল প্রকার অন্যায়-অত্যাচার-নির্যাতন-দমন-পীড়ন বন্ধকরণ, বৈষম্য দূরীকরণ, অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সর্বক্ষেত্রে সমতা অর্জনের লক্ষ্যে এই দিবস পথ প্রদর্শকের ভূমিকা রাখে এবং নারীকে প্রেরণা এবং আত্মপ্রত্যয়ী হতে সহযোগিতা করে। বিশ্বব্যাপী নারীর সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে ১৯১১ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে এবং জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশে সরকারী-বেসরকারীভাবে দিনটি উদযাপন শুরু হয়। “নারীর প্রতি অন্যায়-নিপীড়ন প্রতিরোধ, নারী তুমি প্রতিবাদী হও” স্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৫ উদযাপন করে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ)। শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে সিডিএ’র কেন্দ্রিয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহন করেন সিডিএ’র বিভিন্ন স্তরের কর্মীবৃন্দ। আলোচনা সভায় সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ’র নির্বাহী পরিচালক শাহ্-ই-মবিন জিননাহ্। নারী দিবস প্রাক্কালে ও পরবর্তীতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মাননা এবং আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে আলোচনা সভার শুভারম্ভ করা হয়। এরপর, সম্মিলিতভাবে গণ-সংগীত পরিবেশন, স্বলিখিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়। কর্মীরা আলাচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশে চলমান নারীর প্রতি সহিংসতা, লাঞ্ছনা, বৈষম্যর শিকারসহ তাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডের নেতিবাচক প্রভাবের ভয়াবহতার চিত্র এবং করনীয় বিষয়টি তুলে ধরেন। সেই সাথে সর্বত্র নারী-পুরুষের বিরাজমান বৈষম্য দূর করে সমতার ঐক্য সৃষ্টি করা এবং নারীদের প্রতি সকলের সংবেদনশীল মনোভাব গড়ে তোলার আহব্বান জানানো হয়। সিডিএ’র কর্ম এলাকা দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে জননারী ঐক্য পরিষদের সদস্যগণ স্ব-উদ্যোগে র‍্যালী, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি উৎযাপন করে এবং সরকার বরাবর স্মারকলীপি প্রদান করা হয়: (ক) নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি ধর্ষণসহ সকল ধরণের নির্যাতন বন্ধ করে দোষীদের দ্রæততম সময়ে বিচার করতে হবে এবং নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরায় ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, (বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৬ ধারা এবং সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ), (খ) সিডও সনদের ৩, ৪, ১১ ও ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সম্পত্তি, স্বাধীনতা ও সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে আদিবাসী-প্রতিবন্ধী-দলিত-তৃতীয় লিঙ্গসহ সকল নারীদের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, (গ) খাসজমি নীতিমালায় ভ‚মিহীন-বিধবা স্বামী পরিত্যাক্তা নারীদের জন্য সক্ষম পুত্র সন্তান থাকার শর্তটি বাতিল করে দুস্থ ভ‚মিহীন নারীদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, (গ) কৃষি কাজে নিয়োজিত নারীদের কৃষক হিসেবে মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে হবে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে মজুরি বৈষম্য বিলোপসহ নারী উদ্দ্যোক্তাদের সুদমুক্ত ব্যাংক ঋন প্রদান করতে হবে, (ঘ) রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংষ্কারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, (ঙ) বিজ্ঞানচর্চায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পেশাগুলোতে নারীদের অগ্রাধিকার এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি; বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণী দিন মে দিবস। গ্রীষ্মের প্রচন্ড উষ্ণতায় মানুষ থেকে প্রানী সবাই হিমেল ছায়ার সন্ধানে ছুটে চলে। তপ্ত রোদ থেকে নিস্কৃতি পেতে পাখিরা আশ্রয় নেয় গাছের উঁচু মগডালে পত্র-পল্লবের ছায়ায়। বাগানে গাছের ছায়ায় কুকুর ছানারা আশ্রয় নিয়ে একহাত জিহ্বা বের করে গরম যন্ত্রনায় লালা ঝরিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করে। বনের রাজা সিংহ সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার পরও গরম তাকে এতই কাবু করে যে শেষ পর্যন্ত একটু প্রশান্তি খুঁজতে তাকে পানিতে নেমে পড়তে হয়। গরমের নিকট সবাই কাবু হয়ে যখন প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে তখন শ্রমজীবি মানুষগুলোকে এতটুকু পর্যন্ত টলাতে পারেনা গ্রীষ্মের উষ্ণতা।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটা শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত। শ্রমজীবী মানুষের প্রেরণা ও আবেগের দিন এই পয়লা মে। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছিল শ্রমিকরা। তাদের রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৮৯০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তামাম পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই মে মাসের ১ তারিখ নানা আয়োজনে পালন করা হচ্ছে শ্রমিক দিবস। বাংলাদেশও এই দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল পর্যায়ে মে দিবস এখন গুরুত্বসহকারে পালিত হচ্ছে। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। তবে এই দিবসের তাৎপর্য অনেক। এর পেছনে রয়েছে একটি রক্তস্নাত ইতিহাস মে দিবস
আজ থেকে ১২৮ বছর আগের কথা। তখন বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। মালিকেরা নগণ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দরিদ্র মানুষের শ্রম কিনে নিতেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাড়ভাঙা শ্রম দিয়েও শ্রমিক তার ন্যায্য মূল্য পেতেন না। মালিকেরা উপযুক্ত মজুরি তো দিতেনই না, বরং তারা শ্রমিকের সুবিধা-অসুবিধা, মানবিক অধিকার ও দুঃখ-কষ্ট পর্যন্ত বুঝতে চাইতেন না। মালিকেরা তাদের অধীনস্থ শ্রমিককে দাসদাসীর মতো মনে করতেন। আর তাদের সাথে পশুর মতো ব্যবহার করতেন। সুযোগ পেলেই মালিকেরা শ্রমিকের ওপর চালাতেন নানা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন। বলতে গেলে শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকারও তখন রক্ষিত হতো না। মালিকেরা প্রায়শই কাজ ছাড়া শ্রমিকের কোনো কথা শুনতেন না। শ্রমিকের গায়ের ঘাম ও সীমাহীন শ্রমের বিনিময়ে মালিকের সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠত। অথচ তার ছিটেফোঁটাও শ্রমিকের ভাগ্যে জুটত না। পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকের কাটত দুর্বিষহ জীবন। তখন শ্রমিকের জন্য কাজের নির্দিষ্ট সময় যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না মজুরির কোন নিয়ম-কানুন। ফলে শ্রমিকের শ্রমকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে মালিক অর্জন করতেন সীমাহীন সম্পদ।

এভাবে শোষণ-নিপীড়ন ও বঞ্চনাই শ্রমিকের ভাগ্যলিখন হয়ে দাঁড়াল। এভাবে মালিকের সীমাহীন অনাচার, অর্থলিপ্সা ও একপেশে নীতির ফলে শ্রমিকদের মনে জমতে শুরু করে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দ্রোহ। ১২ ঘণ্টা কাজ করেও যখন শ্রমিকের সংসার চলত না, স্বজনের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেয়া।
নিজের সত্তার কথা চিন্তা না করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্তকে পানিতে পরিণত করে যারা জীবনের বাঁকে শ্রমের তরীর মাঝি হিসেবে তরীকে তার গন্তব্যে নিয়ে যেতে অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আজ সেই সকল মেহনতি মানুষের প্রতীক মহান মে দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত। মহান দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করবে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের বাঁকে ফিরে দেখি যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মহান মে দিবস সেই সকল মেহনতি শ্রমিকের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নানা বঞ্চনা আর বৈষম্যের শিকার শ্রমিকরা তখনো জানতোনা তারা কিভাবে নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে। তাদের ক্ষোভ শুধু ধুমায়িত হতে থাকে, একের পর এক লাঞ্চনা বঞ্চনা নির্যাতনে যখন শ্রমিক সমাজের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালে প্রথম রাস্তায় নামে শ্রমিক সমাজ। কিন্তু সংগঠিত না থাকায় শ্রমিক মানুষেরা তাদের ন্যয্য অধিকার গুলো আদায় করতে পারেনি। ১৮৮১ সালে শ্রমিকরা তাদের দাবী জোরালো ভাবে তুলে ধরে এবং সে বছরেই ন্যয্য দাবী-দাওয়া আদায়ের লক্ষে আমেরিকা ও কানাডায় গঠিত হয় দুটি শ্রমিক সংগঠন। এই দুটি সংগঠন বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের ন্যার্য দাবি গুলো তুলে ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৪ সালে দু-দেশের শ্রমিক সংগঠন একটি প্রস্তাবনা পাশ করে, এতে বলা হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের কর্মদিবস হবে ৮ ঘন্টা। ৮ ঘন্টার বেশী কোন শ্রমিক কাজ করবেনা। দুটি দেশের শ্রমিক সংগঠনের এই ঘোষনায় উদ্বেলিত হয় শ্রমিক সমাজ। তারা তাদের অবস্থানে থেকে এ ব্যপারে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ৮ ঘন্টার বেশী কাজ না করতে উৎসাহ যোগায়। কিন্তু মালিক ও সরকার পক্ষ শ্রমিকদের এই প্রস্তাবনায় সাড়া না দিয়ে নির্যাতন ও নিপিড়নের পথ বেছে নেয়। এমতাবস্থায় ১৮৮৬ সালের ১ মে মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের প থেকে কতক ন্যয্য দাবি আদায়ে শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দেয়। শিকাগো শহরের ৭ টি সংগঠনসহ ২২ টি শ্রমিক সংগঠন এদিন মিছিলে মিছিলে ‘হে’ মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকে। শ্রমিকদের এই ন্যয্য দাবীর সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ ঐক্যমত না হওয়ায় সমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ গুলি চালালে এতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়। কিন্তু শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্ধু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তবুও তাদের ন্যয্য দাবী থেকে একচুল পরিমানও পিছপা হতে রাজী নয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আর মরিয়া ভাবের নিকট পরাজিত হয় সরকার। মেনে নেয়া হয় সকল দাবী-দাওয়া। পরবর্তীতে মার্কিন সরকার ১ মে কে ‘ল ডে’ হিসেবে ঘোষনা করে। বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায় করে নেয় শ্রমিকরা। তখন থেকেই মে দিবস সকলের নিকট শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনের প্রতিক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শুধু আমেরিকা আর কানাডা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস । বাংলাদেশেও সরকারি ভাবে পালিত হয় মে দিবস |

মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক বৃদ্ধার কানের দুল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে তার কানের লতি ছিঁড়ে দিয়েছে চোর। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গোদাশিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কয়েদভান (৭০) ওই এলাকার মৃত হোসেন আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার শেষে ঘরের জানালার পাশেই খাটের উপর  ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে এক চোর জানালা কেটে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে তার ডান কানের সোনার দুল ধরে টান দেয়। এতে তার কানের লতি ছিঁড়ে যায় এবং দুল নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর নাতি সুজন আহমেদ জানান, তার নানি একা থাকতেন এবং জানালার কাছেই শুয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে চোর জানালা কেটে দুল ছিনিয়ে নেয়। চুরি যাওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এলাকায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু রায়হান বলেন, রাত ৩টার দিকে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার কানের লতি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ক্ষতস্থানে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

 

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান– ঘটনাটি আমাদের  জানা ছিল না।  এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

Admin
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ(জামালপুর প্রতিনিধি):জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ডে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে তেল নিতে আসা ফয়সাল (২৫) ও ওয়াসিম উদ্দিন (৩০) নামে দুই যুবককে নগদ চৌদ্দ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯২ ও ৬৬ ধারায় উভয়কে জরিমানা করা হয় । মাদারগঞ্জের নিশ্চিন্তপুরের ফয়সাল এর কাছ থেকে পাঁচ হাজার ও বাকুরচরের ওয়াসিম এর কাছ থেকে নয় হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ মডেল থানার নবাগত ওসি স্নেহাশিস রায় ,ট্যাগ অফিসার রহুল আমিন ও আইসিটি অফিসারসহ পুলিশ সদস্য পাম্প কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও সুমন চৌধুরী বলেন অনিয়ম কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদেরকে শাস্তি/জরিমানার আওতায় আনা হবে।