খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

খুলনায় সেনাবাহিনীর অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের ৫ সদস্য আটক ৫

জিএম দুলাল | খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫, ১১:০২ অপরাহ্ণ
খুলনায় সেনাবাহিনীর অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের ৫ সদস্য আটক ৫

খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে পাঁচ চাঁদাবাজকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর অপারেশন টিম।

ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফ আই ইউ)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মার্চ দুপুরে দৌলতপুর, খান জাহান আলী ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচাবাজার এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়। খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মিনিট্রাক, ইজিবাইক, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল। সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তাদের হাতেনাতে নগদ অর্থসহ আটক করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর অপারেশন টিম আটককৃতদের সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে এবং ১৫২০ ঘটিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সোপর্দ করে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন –
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার বিজয়পুর গ্রামের আঃ সাত্তারের ছেলে ফকির শহিদুল (৩৭), একই জেলার করবি রাখালীগাছি গ্রামের রহমানের ছেলে শেখ সাইফুল ইসলাম (৫০), খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার ঘর্ষণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল মোড়ল (৪৫), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কাকড়া বুনিয়া গ্রামের মোসলেমের ছেলে মনির হোসেন (৫০) এবং খুলনা জেলার হোগলা বুনিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মোস্তফা হাওলাদার (৫০)।

সেনাবাহিনীর এই অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করায় স্থানীয় চালকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছিল, যা তাদের দৈনিক উপার্জনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।খুলনায় সেনাবাহিনীর অভিযানে চাঁদাবাজ চক্রের ৫ সদস্য আটক

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
ধর্ষণের শিকার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট:   নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ঘটনা। শিশুটি মাদরাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে মদন উপজেলার বেসরকারি মেডিকেলে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ বিষয়ে ডাক্তার সায়মা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে
এই গাইনি চিকিৎসক আক্ষেপ করে বলেন, ১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে, যা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।

দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ নামের এক যুবকের ছুরিকাঘাতে ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস নামের অপর যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে পৌর শহরের তেরি বাজার এলাকায় এ ঘটনার ঘটে৷ নিহত কেলিস ওই এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১ টায় তেরি বাজার এলাকায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নূর মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিসকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে প্রেরণ করে ৷ পরে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে।

পুলিশ রাতেই দুর্গাপুরের বাসা থেকে নূর মোহাম্মদের মা নূরনাহার ও তার বোন জামাই মাজেদুল কে গ্রেফতার করে। এরপর পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযান চালিয়ে ওইদিন ভোর রাতে নেত্রকোণার মালনী এলাকা থেকে ঘাতক নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে ও এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে। ঘাতক নূর মোহাম্মদ তেরী বাজার এলাকার মুজিবুর রহমানের ছেলে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেন। ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতা নূর মোহাম্মদ সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন দুর্গাপুরের শাওন

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন দুর্গাপুরের শাওন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার সাজ্জাদ হোসেন শাওন।

গত ২ মে রাতে সারাদেশে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটি প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির-এর স্বাক্ষরে অনুমোদিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের কমিটিও প্রকাশিত হয়।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাহফুজুর রহমান লিপকন। একই কমিটিতে দুর্গাপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন শাওনকে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

পদপ্রাপ্তির পর থেকেই দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন শাওন। তিনি বলেন, আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদল সহ সকল রাজনৈতিক সহযোদ্ধার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য, এর আগে সাজ্জাদ হোসেন শাওন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।