খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

চাঁদপুরের কচুয়া এসিল্যান্ডের গণশুনানিতে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে মিসকেস, কমেছে জনদুর্ভোগ 

আহসান হাবীব সুমন | চাঁদপুর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫, ১:০২ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরের কচুয়া এসিল্যান্ডের গণশুনানিতে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে মিসকেস, কমেছে জনদুর্ভোগ 

চাঁদপুরের কচুয়া এসিল্যান্ডের গণশুনানিতে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে মিসকেস, কমেছে জনদুর্ভোগ। ছবি আহসান হাবীব সুমন

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বাপ্পী দত্ত রনির গণশুনানির কারণে জমিজমা সংক্রান্ত মিসকেস দ্রুত সমাধান হচ্ছে । যার ফলে কমেছে জনদুর্ভোগ। পাশাপাশি সেবাদানের চিত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় বিভিন্ন কাজে দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও বর্তমানে তা দ্রুত সময়ে সমাধান হচ্ছে। মামলার নিষ্পত্তি শেষে বাদী-বিবাদীরা খুশি মনে এসি ল্যান্ড কার্যালয় ত্যাগ করেন। সপ্তাহের প্রতি বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনারের ভূমি (এসি ল্যান্ড) কার্যালয়ে বসে এ গণশুনানি। এতে ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতার অবসান হচ্ছে। ফলে সেবাগ্রহীতাদের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। এছাড়াও অফিসে রয়েছে সিটিজেন চার্টার এবং তথ্যসহায়তা কর্মকর্তা। যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উপজেলা ভূমি অফিসে এসে সেবা নিতে পারেন।

কচুয়ার বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে যোগদান করেন। ইতিমধ্যেই তাঁর এ গণশুনানির কারণে প্রায় কয়েক শতাধিক পরিবার উপকৃত হয়েছে। প্রতি বুধবারের এ গণশুনানিতে প্রায় ১০-১৫ টি করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়।

উপকারভোগী উপজেলার জগতপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান এসিল্যান্ড স্যার বাদী ও বিবাদী কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। ভুলক্রমে অন্যের জায়গা আমার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। গণশুনানিতে এসে সমাধান পেয়েছি।

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মী কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এমদাদ উল্লাহ বলেন, নামজারি করতে হলে অনেক টাকা দিয়ে দালাল ধরে নামজারি করতে হতো বর্তমান এসিল্যান্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর দালালের দৌরাত্ব্য কমেছে, মানুষের কাছে নামজারি সহজ হয়েগেছে। মিসকেস বিষয়ে গণশুনানির মাধ্যমে সমাধান করে দিচ্ছে, এতে মানুষ নানা ধরনের হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছেন।…………

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার (এসি ল্যান্ড) বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, ‘গণশুনানির মাধ্যমে যেসব বিষয়ে বেশি মিসকেস পেয়ে থাকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আপোষ বন্টন কম হয়,ওয়ারিশ সম্পত্তি একেকজন ওয়ারিশ নিজেদের মতো ক্রয় বিক্রয় করে দেয় কিন্তু দখলে দেখা যায় অন্যজন থাকে। এই ধরনের সমস্যাগুলো বেশির ভাগ গণশুনানিতে সমাধান করতে হয় । ফলে  ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধান হচ্ছে। তিনি আরো বলেন ওয়ারিশমূলে মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে আপোষবন্টন এবং ক্রয়সূত্রে ভূমি মালিকানা হস্তান্তর করার সাথে সাথে মালিকগণ নিজ নিজ নামে পৃথক নামজারি জমা খারিজ করিয়ে নিলে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও জালিয়াতি উভয়ই হ্রাস পাবে ।

এছাড়াও কচুয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নির্দেশক্রমে কচুয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সরকারি জায়গায় নির্মিত দোকানপাট উচ্ছেদ,জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত ফসলি জমি রক্ষায় মাটি কাটা ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

পেয়ার আলী, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে অভিযানে সালন্দর ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লিটন মোস্তফা ও আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলায় বা অফিসিয়ালভাবে ১৫০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দুজন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক দুই ব্যক্তি এখনও থানায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, মাদকের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা আপস করা হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক|রাজশাহী

​রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা আপন সরকারের বিরুদ্ধে ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে টালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০০০ টাকার জন্য একজন পদপ্রত্যাশী নেতার এমন ‘পাইতারা’ বা টালবাহানায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপন সরকার কলেজের এক ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ধার নেন। ধার নেওয়ার সময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকাটি পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। পাওনাদার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আপন সরকার নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে আসছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:
ভুক্তভোগী জানান, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। ফোন দিলে ধরেন না, আর ধরলেও আজ-কাল বলে ঘোরান। তার মতো দায়িত্বশীল পদের প্রত্যাশীকে এই সামান্য টাকার জন্য এমন পাইতারা করতে দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

​রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
আপন সরকার বর্তমানে বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, যারা ব্যক্তিগত লেনদেন বা সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেন না, তাদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আগেই এমন ‘আমানত খিয়ানত’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নেতা-কর্মীরা।
​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আপন সরকারের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওনাদারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং নৈতিক জায়গা থেকে অতি দ্রুত যেন আপন সরকার তার ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।