খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাবির অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার জন্য স্মারকলিপি প্রদান

মীর তুহিন, রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
রাবির অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার জন্য স্মারকলিপি প্রদান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত, ইয়ার এডমিশনের অর্থের পরিমাণ কমিয়ে আনা ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক রাবি চ্যাপ্টার। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ছবি: স্মারকলিপি

স্মারকলিপিতে তারা লিখেছেন,
“আমরা লক্ষ্য করেছি, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২৮ এপ্রিল হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং এই মহতী কর্মসূচির জন্য প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে, দুঃখজনক হলেও লক্ষ্যণীয় যে, উক্ত আয়োজনে শুধুমাত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনের বাইরে রাখা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং তাদের এই আয়োজন থেকে বঞ্চিত করার শামিল।

আমরা সোচ্চারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানাই, যেহেতু আবাসিক এবং অনাবাসিক উভয়ের কাছেই দিবস পালনের জন্য সমপরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়, সেহেতু দিবস কেন্দ্রীক যে কোন আয়োজনে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইসাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান আবাসিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসিকতার সুযোগ পায়।

এছাড়া, আরেকটি গুরুতর বিষয় হলো- একজন শিক্ষার্থী যখন কোনো বর্ষে ভর্তি (ইয়ার এডমিশন) হয়, তখন তার নিকট থেকে একই খাতের নামে একাধিকবার অর্থ সংগ্রহ করা হয় (যেমন: ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ তহবিল, সংসদ ফি, খেলাধুলা ফি ইত্যাদি)। এটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, এই অনিয়ম দ্রুততার সাথে পর্যালোচনা করে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ইয়ার এডমিশনের অর্থের পরিমাণ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনতে হবে।”

সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক রাবি চ্যাপ্টারের সভাপতি সালমান সাব্বির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণাধীন ২টি হলের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে উদ্যোগের চেয়ে বাস্তবায়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ইয়ার এডমিশনের সময় একই খাতের নামে একাধিকবার যে অর্থ নেওয়া হচ্ছে তা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় কাজ। আমরা আজ এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছি এবং আশা করি, তারা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব স্যার বলেন, আমি হলের বিষয়ে কথা বলতে তেমন পছন্দ করি না। হলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ; এই বিষয়ে তাদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্ট কাউন্সিল থেকে আমাকে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য ভর্তুকি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এক প্রকার তলা কুড়িয়ে আমাকে দিতে হয়েছে বিধায় হয়তো বেশি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হলে দেওয়ার মত এখন তেমন কোন ফান্ড নাই। হল প্রভোস্টরা যদি এই টাকায় অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে ওনারা আয়োজন করুক; এটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।

উল্লেখ্য “সোচ্চার -টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ” একটি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্যাতন বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।

আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
আজ আন্তর্জাতিক মে দিবস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি; বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণী দিন মে দিবস। গ্রীষ্মের প্রচন্ড উষ্ণতায় মানুষ থেকে প্রানী সবাই হিমেল ছায়ার সন্ধানে ছুটে চলে। তপ্ত রোদ থেকে নিস্কৃতি পেতে পাখিরা আশ্রয় নেয় গাছের উঁচু মগডালে পত্র-পল্লবের ছায়ায়। বাগানে গাছের ছায়ায় কুকুর ছানারা আশ্রয় নিয়ে একহাত জিহ্বা বের করে গরম যন্ত্রনায় লালা ঝরিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা করে। বনের রাজা সিংহ সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার পরও গরম তাকে এতই কাবু করে যে শেষ পর্যন্ত একটু প্রশান্তি খুঁজতে তাকে পানিতে নেমে পড়তে হয়। গরমের নিকট সবাই কাবু হয়ে যখন প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে তখন শ্রমজীবি মানুষগুলোকে এতটুকু পর্যন্ত টলাতে পারেনা গ্রীষ্মের উষ্ণতা।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটা শ্রমিক দিবস হিসেবে পরিচিত। শ্রমজীবী মানুষের প্রেরণা ও আবেগের দিন এই পয়লা মে। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছিল শ্রমিকরা। তাদের রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৮৯০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তামাম পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই মে মাসের ১ তারিখ নানা আয়োজনে পালন করা হচ্ছে শ্রমিক দিবস। বাংলাদেশও এই দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল পর্যায়ে মে দিবস এখন গুরুত্বসহকারে পালিত হচ্ছে। মে দিবস এলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে ঘর্মাক্ত মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি। আর এই মেহনতি মানুষের অধিকারের প্রশ্নটিও সাথে সাথে উঠে আসে এই ঐতিহাসিক দিনে। তবে এই দিবসের তাৎপর্য অনেক। এর পেছনে রয়েছে একটি রক্তস্নাত ইতিহাস মে দিবস
আজ থেকে ১২৮ বছর আগের কথা। তখন বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। মালিকেরা নগণ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দরিদ্র মানুষের শ্রম কিনে নিতেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাড়ভাঙা শ্রম দিয়েও শ্রমিক তার ন্যায্য মূল্য পেতেন না। মালিকেরা উপযুক্ত মজুরি তো দিতেনই না, বরং তারা শ্রমিকের সুবিধা-অসুবিধা, মানবিক অধিকার ও দুঃখ-কষ্ট পর্যন্ত বুঝতে চাইতেন না। মালিকেরা তাদের অধীনস্থ শ্রমিককে দাসদাসীর মতো মনে করতেন। আর তাদের সাথে পশুর মতো ব্যবহার করতেন। সুযোগ পেলেই মালিকেরা শ্রমিকের ওপর চালাতেন নানা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন। বলতে গেলে শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকারও তখন রক্ষিত হতো না। মালিকেরা প্রায়শই কাজ ছাড়া শ্রমিকের কোনো কথা শুনতেন না। শ্রমিকের গায়ের ঘাম ও সীমাহীন শ্রমের বিনিময়ে মালিকের সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠত। অথচ তার ছিটেফোঁটাও শ্রমিকের ভাগ্যে জুটত না। পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রমিকের কাটত দুর্বিষহ জীবন। তখন শ্রমিকের জন্য কাজের নির্দিষ্ট সময় যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না মজুরির কোন নিয়ম-কানুন। ফলে শ্রমিকের শ্রমকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে মালিক অর্জন করতেন সীমাহীন সম্পদ।

এভাবে শোষণ-নিপীড়ন ও বঞ্চনাই শ্রমিকের ভাগ্যলিখন হয়ে দাঁড়াল। এভাবে মালিকের সীমাহীন অনাচার, অর্থলিপ্সা ও একপেশে নীতির ফলে শ্রমিকদের মনে জমতে শুরু করে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দ্রোহ। ১২ ঘণ্টা কাজ করেও যখন শ্রমিকের সংসার চলত না, স্বজনের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেয়া।
নিজের সত্তার কথা চিন্তা না করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্তকে পানিতে পরিণত করে যারা জীবনের বাঁকে শ্রমের তরীর মাঝি হিসেবে তরীকে তার গন্তব্যে নিয়ে যেতে অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আজ সেই সকল মেহনতি মানুষের প্রতীক মহান মে দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত। মহান দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করবে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের বাঁকে ফিরে দেখি যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মহান মে দিবস সেই সকল মেহনতি শ্রমিকের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নানা বঞ্চনা আর বৈষম্যের শিকার শ্রমিকরা তখনো জানতোনা তারা কিভাবে নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে। তাদের ক্ষোভ শুধু ধুমায়িত হতে থাকে, একের পর এক লাঞ্চনা বঞ্চনা নির্যাতনে যখন শ্রমিক সমাজের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালে প্রথম রাস্তায় নামে শ্রমিক সমাজ। কিন্তু সংগঠিত না থাকায় শ্রমিক মানুষেরা তাদের ন্যয্য অধিকার গুলো আদায় করতে পারেনি। ১৮৮১ সালে শ্রমিকরা তাদের দাবী জোরালো ভাবে তুলে ধরে এবং সে বছরেই ন্যয্য দাবী-দাওয়া আদায়ের লক্ষে আমেরিকা ও কানাডায় গঠিত হয় দুটি শ্রমিক সংগঠন। এই দুটি সংগঠন বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের ন্যার্য দাবি গুলো তুলে ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৪ সালে দু-দেশের শ্রমিক সংগঠন একটি প্রস্তাবনা পাশ করে, এতে বলা হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের কর্মদিবস হবে ৮ ঘন্টা। ৮ ঘন্টার বেশী কোন শ্রমিক কাজ করবেনা। দুটি দেশের শ্রমিক সংগঠনের এই ঘোষনায় উদ্বেলিত হয় শ্রমিক সমাজ। তারা তাদের অবস্থানে থেকে এ ব্যপারে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ৮ ঘন্টার বেশী কাজ না করতে উৎসাহ যোগায়। কিন্তু মালিক ও সরকার পক্ষ শ্রমিকদের এই প্রস্তাবনায় সাড়া না দিয়ে নির্যাতন ও নিপিড়নের পথ বেছে নেয়। এমতাবস্থায় ১৮৮৬ সালের ১ মে মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের প থেকে কতক ন্যয্য দাবি আদায়ে শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দেয়। শিকাগো শহরের ৭ টি সংগঠনসহ ২২ টি শ্রমিক সংগঠন এদিন মিছিলে মিছিলে ‘হে’ মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকে। শ্রমিকদের এই ন্যয্য দাবীর সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ ঐক্যমত না হওয়ায় সমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ গুলি চালালে এতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়। কিন্তু শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্ধু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তবুও তাদের ন্যয্য দাবী থেকে একচুল পরিমানও পিছপা হতে রাজী নয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আর মরিয়া ভাবের নিকট পরাজিত হয় সরকার। মেনে নেয়া হয় সকল দাবী-দাওয়া। পরবর্তীতে মার্কিন সরকার ১ মে কে ‘ল ডে’ হিসেবে ঘোষনা করে। বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায় করে নেয় শ্রমিকরা। তখন থেকেই মে দিবস সকলের নিকট শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনের প্রতিক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শুধু আমেরিকা আর কানাডা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস । বাংলাদেশেও সরকারি ভাবে পালিত হয় মে দিবস |

মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ঘুমন্ত বৃদ্ধ মহিলার কানের দুল নিয়ে পালালেন চোর  

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক বৃদ্ধার কানের দুল ছিনিয়ে নিতে গিয়ে তার কানের লতি ছিঁড়ে দিয়েছে চোর। বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গোদাশিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কয়েদভান (৭০) ওই এলাকার মৃত হোসেন আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার শেষে ঘরের জানালার পাশেই খাটের উপর  ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে এক চোর জানালা কেটে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে তার ডান কানের সোনার দুল ধরে টান দেয়। এতে তার কানের লতি ছিঁড়ে যায় এবং দুল নিয়ে পালিয়ে যায় চোর। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর নাতি সুজন আহমেদ জানান, তার নানি একা থাকতেন এবং জানালার কাছেই শুয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে চোর জানালা কেটে দুল ছিনিয়ে নেয়। চুরি যাওয়া গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এলাকায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবু রায়হান বলেন, রাত ৩টার দিকে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার কানের লতি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ক্ষতস্থানে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

 

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান– ঘটনাটি আমাদের  জানা ছিল না।  এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

Admin
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ(জামালপুর প্রতিনিধি):জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করায় দুই বাইক চালককে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ডে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে তেল নিতে আসা ফয়সাল (২৫) ও ওয়াসিম উদ্দিন (৩০) নামে দুই যুবককে নগদ চৌদ্দ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করে মোবাইল কোর্ট। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চৌধুরী।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯২ ও ৬৬ ধারায় উভয়কে জরিমানা করা হয় । মাদারগঞ্জের নিশ্চিন্তপুরের ফয়সাল এর কাছ থেকে পাঁচ হাজার ও বাকুরচরের ওয়াসিম এর কাছ থেকে নয় হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ মডেল থানার নবাগত ওসি স্নেহাশিস রায় ,ট্যাগ অফিসার রহুল আমিন ও আইসিটি অফিসারসহ পুলিশ সদস্য পাম্প কর্তৃপক্ষ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও সুমন চৌধুরী বলেন অনিয়ম কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করলে তাদেরকে শাস্তি/জরিমানার আওতায় আনা হবে।