খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

কবি লতিফুর রহমানের কবিতায় প্রতিবাদের ভাষা, সামাজিক অবক্ষয় ও মানবতার আর্তনাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
কবি লতিফুর রহমানের কবিতায় প্রতিবাদের ভাষা, সামাজিক অবক্ষয় ও মানবতার আর্তনাদ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কবি লতিফুর রহমানের কবিতাগুলি সমাজের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মতো কঠিন বাস্তবতা। ‘নিষ্ঠুর উপাখ্যান’, ‘নির্ঘুম রাত্রি’ এবং ‘নীরব কবিতা’ নামক তিনটি কবিতার মাধ্যমে তিনি বর্তমান সমাজের অস্থিরতা ও অসহায়তার কথা তুলে ধরেছেন।

নিষ্ঠুর উপাখ্যান

নিজেকে আজ বড়ই লাগে নিষ্ঠুর,
কাদের হাতে সঁপেছি এই রাজ্যপুর!
অপরাধীর বিচার না হয়, বোনদের হাহাকার,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙা পথে, এ কেমন আঁধার!

চোখের সামনে দেখি স্ত্রীর লাঞ্ছনা,
ধর্ষিতার আর্তনাদে কাঁপে এ চেতনা।
কোথায় মা-বোনের নিরাপত্তা, কোথায় ভাইয়ের প্রাণ?
এ কোন দেশে বাস করি, এ কেমন অভিমান!

উপদেষ্টার ব্যর্থতায় দেশটা আজ দিশেহারা,
ন্যায়বিচারের বাণী, যেন আজ বড়ই খোঁড়া।
নিরাপত্তার অভাবে জীবন আজ বিপন্ন,
কোথায় শান্তি, কোথায় মনুষ্যত্বের বন্ধন?

ধিক্ আমাকে, ধিক্ আমার এই অক্ষমতা,
রক্ষক হয়েও আজ আমি নীরব শ্রোতা।
কবিতার ছন্দে আজ শুধু বেদনার সুর,
এই নিষ্ঠুর উপাখ্যানের নেই কোনো দূর।

নির্ঘুম রাত্রি

নির্ঘুম চোখে রাত্রি জাগে,
ধর্ষক সমাজের বিষাক্ত ছোবলে,
ঘুমেরাও পালিয়ে বাঁচে।
আসিয়ার কান্না, বোনেদের আর্তনাদ,
হৃদয়ে মাঝে ঝড় তোলে।

চোখের জলে ভাসে স্মৃতি,
কোমল প্রাণের হারিয়ে যাওয়া হাসি।
প্রতিবাদী কন্ঠেরা আজ ক্লান্ত,
তবুও থামে না দীর্ঘশ্বাস।

এই সমাজ, কবে হবে শুদ্ধ?
কবে থামবে এই পাশবিকতা?
কবে বোনেরা নির্ভয়ে হাসবে?
কবে এই রাত্রি হবে শান্তিময়?
কবে আমরা ঘুমাতে পারবো নিশ্চিন্তে?

প্রশ্ন জাগে মনে, উত্তরের আশায়,
নির্ঘুম রাত্রি কাটে অপেক্ষায়।
কবে হবে এই সমাজের পরিবর্তন?
কবে আমরা পাবো সত্যিকারের মুক্তি?

নীরব কবি”তা

কবিতারা আজ বন্দী, নিথর,
অমানবিকতার খাঁচায়।
কবিরাও আজ ভীত, স্তব্ধ,
কলমও যেন কাঁপে ভয়ে।

স্বাধীনতা কি তবে ফাঁকি ছিল?
পশুদের হাতে ছেড়ে দিয়ে?
ধর্ষকের উল্লাসে আজ দেশ কাঁদে,
কবিরা মুখ লুকায় ভয়ে।

কোথায় সে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর?
কোথায় সেই বজ্র নিনাদ?
কেন আজ কবিরা নীরব, স্তব্ধ?
কেন আজ এত বিষাদ?

স্বাধীনতার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার,
মানবতা আজ পরাধীন।
কবিদের কলম হোক হাতিয়ার,
জেগে উঠুক নতুন দিন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আলোচনা সভা

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আলোচনা সভা

শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৩মে) রাতে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে সংগঠনটির কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক,কবি,সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷

এই আলোচনা সভায় সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক সজীম শাইন সভাপতিত্ব ও সদস্য সচিব সৈকত সরকার সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মামুন রণবীর।

এই আয়োজনে আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রশিদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ,শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, শিক্ষাবিদ এম.এ জিন্নাহ, ঢাকাস্থ সুসঙ্গ দুর্গাপুর সমিতির সভাপতি এম.রফিকুল ইসলাম,দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক মোহন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের উপদেষ্টা বিদ্যুৎ সরকার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সজীব, সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সরকার,সুসং সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদের সহ সভাপতি কবি লোকান্ত শাওন, কবি দুনিয়া মামুন, কবি জীবন চক্রবর্তী, সাংবাদিক দিলোয়ার হোসেন তালুকদার,পলাশ সাহা সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন,গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সত্য,ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে নির্ভীকভাবে কাজ করাই সাংবাদিকতার মূল চেতনা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্র,সমাজ ও সকল সচেতন নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদসহ চোরাকারবারি আটক

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদসহ চোরাকারবারি আটক

চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ৮০ বোতল বিদেশি মদসহ এক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে নেত্রকোণার দুর্গাপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত চোরাকারবারি শফিকুল ইসলাম (৩২) জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের গুনাপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ বেপারীর ছেলে।

সোমবার (৪ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে আজ দুপুরের দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে দুর্গাপুরের পূর্ব মাকড়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুর্গাপুর থানার এসআই (নিঃ) নূর ইসলাম ও এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল কাইয়ুম ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাকড়াইল এলাকার নতুন শাহী জামে মসজিদের উত্তরপাশে পাকা রাস্তার ওপর এক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

খবর পেয়ে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আটক ব্যক্তি কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরে আটককৃত ব্যক্তির হেফাজত থেকে পুলিশ তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় তল্লাশি চালিয়ে ৮০ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

জব্দকৃত মদের মধ্যে রয়েছে- ৭৫০ মি.লি. ওজনের ৩৬ বোতল ও ৩৭৫ মি.লি. ওজনের ২৪ বোতল ‘ম্যাকডুয়েলস লাক্সারী ব্লেন্ডেড হুইসকি’ এবং ৩৭৫ মি.লি. ওজনের ২০ বোতল ‘আইস ভদকা’ ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে মদ সংগ্রহ করে দুর্গাপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও ছাত্রদলকে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করবো : ইমরুল কায়েস

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও ছাত্রদলকে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করবো : ইমরুল কায়েস

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ইমরুল কায়েস।

​গত ২ মে রাতে সারাদেশে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের যৌথ স্বাক্ষরে আনন্দমোহন কলেজ শাখার নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

​ইমরুল কায়েসের পদপ্রাপ্তির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

ইমরুল কায়েস বলেন, আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সংগ্রামী সভাপতি ও বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। এই আস্থা ও সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রদলকে একটি সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো। আমি আমার সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠনের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।