খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

মাদারীপুরে মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াল থাবা: নিঃস্ব শত শত পরিবার, মুক্তিপণের নামে চলছে অমানুষিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াল থাবা: নিঃস্ব শত শত পরিবার, মুক্তিপণের নামে চলছে অমানুষিক নির্যাতন

মাদারীপুর জেলায়ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে মানব পাচারকারী চক্র। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ বিভুঁইয়ে পাড়ি জমাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভিটেমাটি বিক্রি করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য, উল্টো লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে বন্দি হয়ে সইতে হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। সম্প্রতি মাদারীপুরের এমদাদ ও তার সহযোগীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

​চক্রের মূল হোতা ও তাদের কৌশল

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের মূল হোতা এমদাদুল মাতুব্বর এবং তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন এনামুল হক, লাভলু মাতুব্বর, বাবলু মাতুব্বর, ইঞ্জি বেগম, সুমা আক্তার, মেরাজ তালুকদার ও মজিবর বেপারীসহ আরও কয়েকজন। তারা ইউরোপের দেশ পর্তুগাল বা ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একেকজন বিদেশপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

​আকলিমা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার ভাগ্নে মোহাম্মদ হাওলাদারকে পর্তুগাল নেওয়ার কথা বলে মোট ২০ লক্ষ টাকা নেয় এমদাদ ও তার গং। পরে পর্তুগাল নিতে ব্যর্থ হয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে আরও ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে। লিবিয়া পৌঁছানোর পর তাকে স্থানীয় মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় আরও ৩৬ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ৬৬ লক্ষ টাকা খুইয়ে কোনোমতে জানালা ভেঙে পালিয়ে জীবন বাঁচান ওই যুবক।

​একই অভিজ্ঞতার কথা জানান নুরজাহান বেগম। তার ছেলে নুর ইসলাম মাতুব্বরকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ধাপে ধাপে ৫১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। তিনি বলেন, “ছেলের ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখে সুদে ও এনজিও থেকে ঋণ করে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়েছি। দালালদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

​আরেক ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান এনি জানান, তার ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ তুষারকে লিবিয়ার দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ছেলের জীবন বাঁচাতে সহায়-সম্বল, গবাদি পশু ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে মোট ৫৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

​পাচারকারীদের হুমকি ও আইনি জটিলতা

​ভুক্তভোগীরা যখন নিঃস্ব হয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন এই পাচারকারী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আদালত ও থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এমদাদ ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

​বর্তমানে মাদারীপুরের অনেক পরিবার এই দালাল চক্রের কারণে পথে বসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত এই এমদাদ গংদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসন যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

​ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু দালালদের হুমকির মুখে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা সঠিক বিচার চাই।”

ফার্মের খাবার খেয়ে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ফার্মের খাবার খেয়ে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে

স্টাফ- রিপোর্টার:  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে একটি মুরগির ফার্মে খাবার গ্রহণের পর দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি শ্রমিকরা স্থানীয় ক্লিনিক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের খচা বাড়ি হাট এলাকার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নথ এগ্রো লিমিটেডের ফার্মে কর্মরত স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা গতকাল দুপুরে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার গ্রহণের কিছু সময় পরই একাধিক শ্রমিকের মধ্যে পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রসহ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভর্তি রোগীদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হলেও চিকিৎসকদের মতে অধিকাংশই শঙ্কামুক্ত।
চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে পুরো এলাকায় এ ঘটনার পর চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদারগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি: এসো হে বৈশাখ এসো এসো এ স্লোগানে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জামালপুরের মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পৌরসভা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।  বাঙালির ঐতিহ্য পান্তা-ইলিশ খাওয়া শেষে উপজেলা খরকা হলরুমে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  ইউএনও সুমন চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা অফিসার তৌফিকুল ইসলাম খালেক এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, এসিল্যান্ড রাসেল দিও,  প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান,  বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম আজাদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমূখ।

 

এ সময় উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীরমুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,  শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উপজেলা চত্বরে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।  মেলায় ঐতিহ্যবাহী খাবার, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, হাড়ি ভাঙা খেলা অনুষ্ঠিত হয়।  

থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলার ধরে হেনস্তার শিকার সাংবাদিককে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলার ধরে হেনস্তার শিকার সাংবাদিককে

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাফর ইকবাল।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে চিরিরবন্দর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

লিখিত অভিযোগ ও সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার সকালে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে জিডি করতে থানায় গেলে প্রথমে তিনি কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিমের কাছে যান। সেখান থেকে তাকে ডিউটি অফিসার মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়। পরে ডিউটি অফিসার আবার তাকে কম্পিউটার অপারেটরের কাছেই ফিরে যেতে বলেন। এভাবে কয়েক দফা ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তিনি বিরক্ত হয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন।

এ সময় ডিউটি অফিসার তার প্রেস আইডি কার্ড দেখতে চান। আইডি কার্ড দেখানো হলে সেটি নিয়ে অফিসারের কক্ষে রেখে দেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিবকে ফোনে অবহিত করেন এবং হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ জানান।
এরপর এএসআই আশরাফুল ও এসআই জহুরুল হক ঘটনাস্থলে আসেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আখতারুজ্জামান এসে সাংবাদিক জাফর ইকবালের শার্টের কলার ধরে তাকে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

একজন সংবাদকর্মী হয়েও থানায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে এমন আচরণের শিকার হয়ে তিনি চরম অপমান ও লাঞ্ছনার মুখে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি তিনি সহকর্মী সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। তাদের পরামর্শেই জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম বলেন, “খবর পেয়ে আমি চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”