খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে হত্যাকান্ড ও গরু লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন,স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, ৬:২১ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে হত্যাকান্ড ও গরু লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন,স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে খামারের কেয়ারটেকারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাত গরু লুটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দুর্গাপুর উপজেলার ৬ নং কাকৈরগড়া ইউনিয়নের আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল আউয়াল (৩২), রামবাড়ি গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে দোলন মিয়া (২৮) এবং মহর আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৪২)। এর মধ্যে এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, “হত্যা ও ডাকাতিতে ছয় থেকে সাতজন অংশ নেয়। তারা খামারের পাহারাদার জয়নাল উদ্দিনকে সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে হাত, গলায় কালো ফিতা এবং মুখে গামছা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে খামারের সাতটি গরু পিকআপে তুলে নিয়ে যান।”

গত ৫ মার্চ,বুধবার দিবাগত রাতে কাকৈরগড়া ইউনিয়নের শুকনাকুড়ি গ্রামের মাহাবুল হকের খামারে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নাল উদ্দিন (৬৫) উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খামারটিতে কেয়ারটেকার ও পাহারাদার হিসেবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিলেন।

এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের ছেলে জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এরপর পুলিশ গত সোমবার সকালে অভিযুক্ত দোলন মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন বিকেলে আব্দুল মান্নান ও আব্দুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে।

ফার্মের খাবার খেয়ে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ফার্মের খাবার খেয়ে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে

স্টাফ- রিপোর্টার:  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে একটি মুরগির ফার্মে খাবার গ্রহণের পর দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি শ্রমিকরা স্থানীয় ক্লিনিক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের খচা বাড়ি হাট এলাকার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত নথ এগ্রো লিমিটেডের ফার্মে কর্মরত স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা গতকাল দুপুরে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার গ্রহণের কিছু সময় পরই একাধিক শ্রমিকের মধ্যে পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রসহ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভর্তি রোগীদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হলেও চিকিৎসকদের মতে অধিকাংশই শঙ্কামুক্ত।
চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে পুরো এলাকায় এ ঘটনার পর চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাদারগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি: এসো হে বৈশাখ এসো এসো এ স্লোগানে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জামালপুরের মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পৌরসভা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।  বাঙালির ঐতিহ্য পান্তা-ইলিশ খাওয়া শেষে উপজেলা খরকা হলরুমে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  ইউএনও সুমন চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা অফিসার তৌফিকুল ইসলাম খালেক এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, এসিল্যান্ড রাসেল দিও,  প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান,  বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম আজাদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমূখ।

 

এ সময় উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীরমুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,  শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উপজেলা চত্বরে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।  মেলায় ঐতিহ্যবাহী খাবার, লাঠি খেলা, সাপ খেলা, হাড়ি ভাঙা খেলা অনুষ্ঠিত হয়।  

থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলার ধরে হেনস্তার শিকার সাংবাদিককে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ কর্তৃক কলার ধরে হেনস্তার শিকার সাংবাদিককে

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি জাফর ইকবাল।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে চিরিরবন্দর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

লিখিত অভিযোগ ও সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার সকালে মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়ে জিডি করতে থানায় গেলে প্রথমে তিনি কম্পিউটার অপারেটর মো. সেলিমের কাছে যান। সেখান থেকে তাকে ডিউটি অফিসার মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পাঠানো হয়। পরে ডিউটি অফিসার আবার তাকে কম্পিউটার অপারেটরের কাছেই ফিরে যেতে বলেন। এভাবে কয়েক দফা ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তিনি বিরক্ত হয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেন।

এ সময় ডিউটি অফিসার তার প্রেস আইডি কার্ড দেখতে চান। আইডি কার্ড দেখানো হলে সেটি নিয়ে অফিসারের কক্ষে রেখে দেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহসান হাবিবকে ফোনে অবহিত করেন এবং হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ জানান।
এরপর এএসআই আশরাফুল ও এসআই জহুরুল হক ঘটনাস্থলে আসেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আখতারুজ্জামান এসে সাংবাদিক জাফর ইকবালের শার্টের কলার ধরে তাকে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

একজন সংবাদকর্মী হয়েও থানায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে এমন আচরণের শিকার হয়ে তিনি চরম অপমান ও লাঞ্ছনার মুখে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি তিনি সহকর্মী সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। তাদের পরামর্শেই জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম বলেন, “খবর পেয়ে আমি চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”