খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

ওসমান / জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

টেকনাফের আলোচিত সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ একরামুল হক হত্যার অভিযোগে অবশেষে মামলা করতে যাচ্ছে তার পরিবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহত একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

বুধবার সন্ধ্যায় আয়েশা বেগম জানান, ২০১৮ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়। এরপর বিচার চাওয়ার সুযোগ পাননি, মামলাও করতে পারেননি। তবে এবার তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং শিগগিরই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

ক্রসফায়ারে জড়িতদের আসামি করা হবে

আয়েশা বেগম ইঙ্গিত দিয়েছেন, মামলায় র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সেই সদস্যদের আসামি করা হবে, যারা সরাসরি একরাম হত্যায় জড়িত ছিলেন।

২০১৮ সালের ২৬ মে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ একরামুল হক। হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্যরা বিচার চাইতে পারেননি, এমনকি প্রকাশ্যে শোকও প্রকাশ করতে পারেননি। তবে একরামের দুই মেয়ে তাঁদের বাবার প্রতি হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ঘরের দেয়ালে লিখে রেখেছিলেন।

অডিও ক্লিপে ফাঁস হয়েছিল নিষ্ঠুর সত্য

একরাম হত্যার পর তাঁর পরিবারের একটি অডিও ক্লিপ সারাদেশকে নাড়িয়ে দেয়। একরামের প্যান্টের পকেটে থাকা ফোনে তার মেয়ে কল দিলে চাপ লেগে রিসিভ হয়ে যায় এবং সেই মুহূর্তের কথোপকথন নিহতের স্ত্রীর মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়ে যায়। ওই সময় একরামের এক মেয়ে বলেন, ‘আব্বু, তুমি কানতেছ যে!’ এরপর শোনা যায় গুলির শব্দ ও শোরগোল।

শেখ হাসিনার পতনের পর ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার

গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর একরামের পরিবার আশান্বিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আস্থা রেখে এবার তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আয়েশা বেগম বলেন, “এতদিন ভয়ে বিচার চাইতে পারিনি। এবার ন্যায়বিচারের জন্য ঘাতকদের শাস্তি চাই। আমার স্বামী কখনও মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছয় বছর কেটে গেলেও ক্ষতিপূরণ দূরের কথা, কেউ খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। এখন নতুন সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ায় আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে ন্যায়বিচার চাইতে চাইলেও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ফোন করে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। তারা বিচারের আশ্বাস দিলেও কিছুই হয়নি।”

নতুন তদন্ত ও গণমাধ্যমের ভূমিকার বিচার চান আয়েশা

আয়েশা বেগম সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “একরাম হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মিথ্যা’ বয়ান প্রচারের দায়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার কি একরাম হত্যার প্রকৃত বিচার মিলবে? তা সময়ই বলে দেবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

পেয়ার আলী, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে অভিযানে সালন্দর ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লিটন মোস্তফা ও আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলায় বা অফিসিয়ালভাবে ১৫০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দুজন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক দুই ব্যক্তি এখনও থানায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, মাদকের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা আপস করা হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক|রাজশাহী

​রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা আপন সরকারের বিরুদ্ধে ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে টালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০০০ টাকার জন্য একজন পদপ্রত্যাশী নেতার এমন ‘পাইতারা’ বা টালবাহানায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপন সরকার কলেজের এক ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ধার নেন। ধার নেওয়ার সময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকাটি পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। পাওনাদার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আপন সরকার নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে আসছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:
ভুক্তভোগী জানান, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। ফোন দিলে ধরেন না, আর ধরলেও আজ-কাল বলে ঘোরান। তার মতো দায়িত্বশীল পদের প্রত্যাশীকে এই সামান্য টাকার জন্য এমন পাইতারা করতে দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

​রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
আপন সরকার বর্তমানে বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, যারা ব্যক্তিগত লেনদেন বা সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেন না, তাদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আগেই এমন ‘আমানত খিয়ানত’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নেতা-কর্মীরা।
​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আপন সরকারের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওনাদারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং নৈতিক জায়গা থেকে অতি দ্রুত যেন আপন সরকার তার ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।