খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করে ফিলিস্তিন বাঁচাতে দুর্গাপুরে সর্বস্তরের মানুষের বিক্ষোভ কর্মসূচি

মামুন রণবীর | জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোণা
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করে ফিলিস্তিন বাঁচাতে দুর্গাপুরে সর্বস্তরের মানুষের বিক্ষোভ কর্মসূচি

বিশ্বব্যাপী ঘৃণিত,নিন্দিত ইসরাইলের ভয়াবহ বর্বরোচিত হামলা, মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাস ও ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর দখলদার, নিরীহ শিশু ও ফিলিস্তিনিদের হত্যা, অমানবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে হেফাজতে ইসলামের আয়োজনে এক বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সহ সর্বস্তরের জনতা।

সোমবার বাদ যোহর দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক প্রতিবাদী আলোচনা সভা শেষে সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় সকলে ব্যানার, প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘গাজা বাঁচাও’, ‘ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ কর’, ‘ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার চাই’— এমন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আলোচনাকালে বক্তারা বলেন,গাজার জনগণের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি চাই, যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলি নেতাদের বিচার চাই।

তারা আরো বলেন,ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ফিলিস্তিনে নারী, পুরুষ,শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করছে। এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা দুর্গাপুরে সকল ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করার ঘোষণা দিচ্ছি।

কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন,ফিলিস্তিন শুধু ইতিহাস নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের স্পন্দন। বহু আঘাত এসেছে, বহু অত্যাচার চলেছে; কিন্তু মুছে যায়নি। ভবিষ্যতে বিজয়ীদের ভূমি হবে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের মাটিতেই ইসরাইলের কবর রচিত হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিন ও এর আশপাশের অঞ্চলকে ‘পবিত্র ভূমি’ আখ্যা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন এতটাই মোবারক স্থান, এখান থেকেই শুরু হয়েছিল নবীজির ইসরা ও মেরাজ। রাসুল (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ইহুদিদের জুলুম, অত্যাচার ও দখলদারিত্ব একদিন শেষ হবে। মুসলমানদের একটি দল তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে এবং বিজয়ী হবে। ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলতে পারবে না।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ দুর্গাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মুফতি হাবিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ রুহুল আমিন সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা অলিউল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুর্গাপুর শাখার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, যুবদল দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক এস এম কাইয়ুম, ডা. তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মুফতি আবু ওয়াক্কাস, মুফতি জামাল উদ্দিন খান কারিমী, মাওলানা মন্জুরুল হক, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মুফতি শাব্বির আহমদ, মুফতি এনায়েত উল্লাহ খান সহ অনেকে।

এই কর্মসূচিতে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর দুর্গাপুর উপজেলা শাখার উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মাওলানা আব্দুর রব।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আটক — ইয়াবা নিয়ে ধোঁয়াশ

পেয়ার আলী, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে অভিযানে সালন্দর ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লিটন মোস্তফা ও আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলায় বা অফিসিয়ালভাবে ১৫০ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দুজন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এদিকে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটক দুই ব্যক্তি এখনও থানায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, মাদকের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা আপস করা হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ধারের ৩০০০ টাকা নিয়ে ৬ মাস ধরে টালবাহানা: প্রশ্নের মুখে ছাত্রদল নেতা আপন সরকারের নৈতিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক|রাজশাহী

​রাজশাহীর বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র নেতা আপন সরকারের বিরুদ্ধে ধারের টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে টালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৩০০০ টাকার জন্য একজন পদপ্রত্যাশী নেতার এমন ‘পাইতারা’ বা টালবাহানায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আপন সরকার কলেজের এক ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা ধার নেন। ধার নেওয়ার সময় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকাটি পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। পাওনাদার বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও আপন সরকার নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে আসছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:
ভুক্তভোগী জানান, “একজন ছাত্রনেতা হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি টাকা দিচ্ছেন না। ফোন দিলে ধরেন না, আর ধরলেও আজ-কাল বলে ঘোরান। তার মতো দায়িত্বশীল পদের প্রত্যাশীকে এই সামান্য টাকার জন্য এমন পাইতারা করতে দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক।”

​রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
আপন সরকার বর্তমানে বাঘা উপজেলা ছাত্রদলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, যারা ব্যক্তিগত লেনদেন বা সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা করতে পারেন না, তাদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আগেই এমন ‘আমানত খিয়ানত’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নেতা-কর্মীরা।
​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আপন সরকারের মন্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাওনাদারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয় বরং নৈতিক জায়গা থেকে অতি দ্রুত যেন আপন সরকার তার ধারের টাকা পরিশোধ করেন।

অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখায় ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি

ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি

আধুনিক ডিজিটাল যুগে রিলস, শোর্টসসহ শর্ট-ফর্ম ভিডিও তরুণদের বিনোদনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহরের কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিডিও দেখার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের সমস্যা এবং ADHD-সদৃশ উপসর্গের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি (ANZUMAN ARA AL ZANNATI) এই ক্রস-সেকশনাল স্টাডিটি পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী ৩০৫ জন কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ADHD উপসর্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে WHO-এর Adult ADHD Self-Report Scale (ASRS v1.1) ব্যবহার করে।

ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর ৪৩.৩% শিক্ষার্থী ADHD-সদৃশ উপসর্গের জন্য পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। যারা দিনে ৪ ঘন্টা বা তার বেশি ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে। অন্যদিকে, যারা দিনে ১ ঘণ্টা বা কম ভিডিও দেখেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৫% শিক্ষার্থী পজিটিভ স্ক্রিনিং হয়েছে।

গবেষক আনজুমান আরা আল জন্নাতি বলেন, “উচ্চ মাত্রার ডিজিটাল ভিডিও দেখার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ডিজিটাল ব্যবহারে সঠিক সীমা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

গবেষণার তথ্যগুলো Zenodo ডেটাসেটে সংরক্ষিত রয়েছে (DOI: 10.5281/zenodo.18959389) এবং Creative Commons Attribution 4.0 International লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।