বৃদ্ধাশ্রমের আর্তনাদ
✍🏻 মিলন মার্ডী
তীব্র স্বরে চিৎকার আজ জানালায় ভেসে আসে,
কবাট খোলা নেই তবু ইটের দেওয়ালে তা মেশে।
কাঁদছেন পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে রক্ত করে জল,
ছেলেটি যে তাঁদের ছিল একমাত্র সম্বল।
পড়াশোনা শিখিয়ে ছেলের গলায় ঝুলছে টাই,
ছেলে এখন সাহেব বড়,পিতার যে ঠাঁই নাই।
পিতা-মাতার জোটে না আজ একটা ছেঁড়া জামা-কানি।
এমন শিক্ষা চাননি পিতা, চাননি মা জননী।
বৃদ্ধাশ্রমে কাটছে সময়, পেটে ভীষণ ক্ষুধা-তৃষ্ণা,
ছেলে এখন গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়ায়, পেছনে ফেরে দেখে না।
বৃদ্ধাশ্রমে পিতা-মাতা আজ ক্ষুধার জ্বালায় শেষ,
ছেলের নাকি অট্টালিকায় কাটছে জীবন বেশ।
যে ছেলেটি ঘুমাত রাতে মায়ের উষ্ণ কোলে,
সেই ছেলেটি আজ একলা ঘুমায় বহুতল ভবন জুড়ে।
রাখেনি ছেলে বাবার খবর, রাখেনি বৃদ্ধা মায়ের,
লক্ষ টাকা রোজগার করে লাভ কী হলো তবে?
হাতে আছে নীরব অস্ত্র, দোয়াত-কলম তার,
একটি স্বাক্ষর দিলে নাকি অন্যর জীবন করে চুরমার।
ছেলে এখন ফাস্টফুড খায়, বাসি ভাতে নাকি ফুড পয়জনিং,
বৃদ্ধ মায়ের জোটে না সেটুকুও, জোটে কেবল পোড়া রুটিখানি।
এমন কপাল ক-জনেরই বা হয়, ছেলেকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে?
সবার আগে মানুষ গড়ো, উচ্চশিক্ষা তার পরে।
বৃদ্ধ পিতা-মাতা প্রতিদিন কাঁদেন,
শুকিয়ে গেছে চোখের জল।
রোজ সকালে অপেক্ষায় থাকেন,
ছেলে কি আসবে দেখতে নিয়ে দলবল?
ছেলে নাকি আজ মস্ত নায়ক,
পিতা হয়েছে খল।
শোকের ছায়ায় বৃদ্ধ পিতা-মাতা
জীবন দেয় বিসর্জন।
দশটি মাস যে গর্ভে ধরে মা সয়েছেন যন্ত্রণা,
সেই মায়েরই কান্নার আজ কেউ তো রাখে না নিশানা।
দালানকোঠা, কোটি কোটি টাকা, সবই রবে পড়ে,
পিতা-মাতার দীর্ঘশ্বাস যদি মেশে এ ঘরের ঝড়ে।
সময় যখন জবাব দেবে, সেদিন বুঝবে তুমি
পিতা-মাতার পায়ের নিচেই আসল স্বর্গভূমি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ । ১০:১৩ অপরাহ্ণ