‘দয়া করে আমায় আর সহনশীলতার পাঠ দিও না’: সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কবির প্রলয়ের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মে, ২০২৬
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ । ১২:২৯ অপরাহ্ণ

সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবার কলম ধরেছেন কবি মো. লতিফুর রহমান। তাঁর সদ্য রচিত ‘নিষ্পাপের আর্তনাদ ও প্রলয়ের ডাক’ কবিতায় ফুটে উঠেছে সভ্যতার মোড়কে ঢাকা সমাজের নগ্ন রূপ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র ক্ষোভ। মোমবাতি মিছিল আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতির আড়ালে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের জন্য কবির এই আর্তনাদ যেন আজ সমগ্র বিবেকবান মানুষের মনের কথা।

​কবিতাটিতে কবি কেবল আক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি চেয়েছেন এক সর্বগ্রাসী দাবানল হয়ে সমাজের সমস্ত কলুষতা পুড়িয়ে ফেলতে। যেখানে ‘রক্ষকের মুখোশের আড়ালে ঘোরে শিকারি নেকড়ে’, সেখানে মেকি শান্তির বদলে এক প্রলয়ংকরী বজ্রপাতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

নিষ্পাপের আর্তনাদ ও প্রলয়ের ডাক

রক্তজবার মতো ফুটফুটে যে ভোরের কথা ছিল,
সেখানে আজ জমাট বাঁধা অমানিশা…
ধুলোয় পড়ে আছে খেলনা পুতুলের ভাঙা হাত-পা,
আর তার পাশেই লুটিয়ে আছে এক ফালি ক্ষতবিক্ষত শৈশব।

যে চোখে বোনা হচ্ছিল প্রজাপতির রঙিন ডানার স্বপ্ন,
সেখানে আজ জমাট বাঁধা ভয়ের হিমশৈল।
সভ্যতার মোড়কে ঢাকা এই পঙ্গু সমাজে,
কোথায় লুকোবে ওই সদ্য ফুটতে চাওয়া কিশোরীটি?

যেখানে রক্ষকের মুখোশের আড়ালে ঘোরে শিকারি নেকড়ে,
আর বিচারের বাণী আইনের চাদরে মুখ ঢেকে ডুকরে কাঁদে।
মোমবাতি মিছিল আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ভিড়ে,
রোজ হারিয়ে যায় ছিঁড়ে যাওয়া স্কুল-ড্রেসের দীর্ঘশ্বাস।

​দয়া করে আমায় আর সহনশীলতার পাঠ দিও না…
আমি আর এই মেকি শান্তির গান গাইতে চাই না।
আমি চাই এক সর্বগ্রাসী দাবানল হয়ে জ্বলতে,
যে লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে যাবে সমস্ত লোলুপ দৃষ্টি!
পুড়ে খাক হবে পিশাচের দল, আর তাদের নীরব ইন্ধনদাতারা।

অভিশপ্ত এই মাটির বুক চিরে,
আমায় উঠে আসতে দিও এক প্রলয়ংকরী বজ্রপাত হয়ে।
গুঁড়িয়ে দিতে চাই ওইসব ক্ষমতার অন্ধ ইমারত,
যেখানে লুকিয়ে থাকে আদিম লালসা আর আস্ফালন।

​তারপর… সব কলুষতা যখন ছাই হয়ে যাবে,
আমায় বরং একবুক পবিত্র জলধারা হয়ে ঝরতে দিও,
ওই চিরঘুমে তলিয়ে যাওয়া ছোট্ট মেয়েটার শিয়রে,
একবুক না-বলা আদর আর স্নেহের শীতল প্রলেপ হয়ে।

 

প্রতিবাদের নতুন ভাষা

স্থানীয় সুধীজন ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, লতিফুর রহমানের এই কবিতাটি সমকালীন সামাজিক অবক্ষয়ের একটি প্রামাণ্য দলিল। এটি কেবল একটি শোকগাথা নয়, বরং ঘুমন্ত সমাজকে জাগিয়ে তোলার একটি তীব্র কশাঘাত। কবিতার শেষ চরণে পুড়ে যাওয়া সমাজের বুকে পুনরায় স্নেহ ও মমতার যে শীতল প্রলেপের কথা বলা হয়েছে, তা একটি সুস্থ ও নিরাপদ আগামী পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের প্রতিবাদী সাহিত্য মানুষের বিবেক জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক : মুহাম্মদ রুবেল মিয়া , নির্বাহী সম্পাদক : এম এইচ আরমান ।  কপিরাইট ©২০১৩-২০২৬ একুশে বার্তা সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন