ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি; ঠাকুরগাঁওশের হরিপুরে ১৩ই মে ২০২৫-২৬ কৃষি অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” এর আওতায় “পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কংগ্রেসে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। “পার্টনার” প্রকল্প কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার চন্দন কর বলেন, “কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।”উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বর্তমান সময়ে পুষ্টিনির্ভর কৃষি ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পার্টনার প্রকল্প কৃষকদের পুষ্টিনির্ভর কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”উপজেলা ভূমি অফিসার উজ্জ্বল বাইন সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, “গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষিবান্ধব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান তারা।স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা পেয়ে তারা উপকৃত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ । ১০:৪৮ অপরাহ্ণ