ঢাকামঙ্গলবার , ১০ আগস্ট ২০২১
  1. অপরাধ
  2. অর্থনৈতিক
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্টগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. জেলা/উপজেলা
  12. জোকস
  13. ঢাকা
  14. তথ্য প্রযুক্তি
  15. ধর্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যারা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষ নেবেন তারা দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবেন’

একুশে বার্তা
আগস্ট ১০, ২০২১ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. অনুপম সেনসহ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজেন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন আবারও যেকোনভাবে সিআরবিকে রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সিআরবি রক্ষায় চট্টগ্রামের মানুষ, তথা সারাদেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ। যারা সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করতে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষ নেবেন, তারা চট্টগ্রামের তথা দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নত হবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সিআরবি হচ্ছে চট্টগ্রামের ফুসফুস। এই ফুসফুস রক্ষায় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই। হাসপাতাল হোক সেটা আমরা চাই। তবে সেটা কোনভাবেই সিআরবিতে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআরবি থেকে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানান চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। 

সিআরবি থেকে হাসপাতাল প্রকল্প সরিয়ে নিতে শুরু থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে নাগরিক সমাজ। এরই অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। এতে তিনি বলেন, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের স্থান হিসেবে সিআরবি এলাকাকে বাছাইয়ের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। অনেক কিছু গোপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক জানানো হলে তিনি নিশ্চয় হাসপাতাল প্রকল্প রেলওয়ের অন্য কোনো জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেবেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিআরবি হচ্ছে চট্টগ্রামের ফুসফুস। এখানে গিয়ে নগরবাসী বুকভরে শ্বাস নিতে পারে। এখানে আয়োজন করা হয় পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন অনুষ্ঠান, আয়োজন করা হয় বলী খেলা, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন দিবসে মানুষ এখানে জড়ো হন। সব মিলিয়ে সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সিআরবি এলাকা।

তিনি আরও বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সিআরবিতে ১৯৭টি প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। দুর্লভ ওষুধি গাছ রয়েছে, রয়েছে শতবর্ষী অনেক গাছ। রয়েছে হরেক রকমের পাখির আবাস ও নানা প্রজাতির প্রাণীর আবাসও। তাই এখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে এসব জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এটা হবে দেশের সংবিধান ও পরিবেশ আইন বিরোধী আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানটিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুর রব, শহীদ শেখ নজির আহাম্মদ, শহীদ এমএ মনোয়ার হোসেন, বিমল সিং, ফখরুল আলম, মো. সিরাজউদ্দিন, আলী নূর চৌধুরী, মহিউদ্দিন, নুরন্নবী চৌধুরী ও গঙ্গারামের স্মৃতিস্তম্ভ। শহীদ আবদুর রবের পৈত্রিক বাসস্থান এখানে, সে বাসা থেকে তিনি যুদ্ধে যান। যুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে এখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল হতে পারে না।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে সিআরবিকে কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ জোন ঘোষণা করা হয় এবং এটাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, সিআরবিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে সংবিধানের পরিপন্থী। কিন্তু ইতোমধ্যে এই কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ জোনে খননকাজ শুরু করা হয়েছে, যেটি প্রচলিত আইনেরও পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রেলওয়ের পক্ষে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে একটি হাসপাতাল ও কলেজ নির্মাণের জন্য নোটিশ দিয়ে ইনভাইটেশন চাওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, হাসপাতালটি চট্টগ্রাম রেলওয়ের যে কোনো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার উল্লেখ নাই। পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত গোপন করে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ইউনাইটেড  এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে রেলওয়ে চুক্তিবদ্ধ হলে হাসপাতালের স্থান হিসেবে সিআরবি এলাকাকে নির্ধারিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যা বেইনী। এ কারণে চট্টগ্রামবাসী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী প্রমুখ। 

প্রিয় পাঠক, আপনিও একুশে বার্তা অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন ekusheybartaonline@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

x
%d bloggers like this: