খুঁজুন
, ,

রাকসুর মেডিক্যাল ক্যাম্পে সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ টাকার সেবা প্রদান

সুরাইয়া সিদ্দিকা, রাবি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
রাকসুর মেডিক্যাল ক্যাম্পে সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে ৪০ লাখ টাকার সেবা প্রদান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মেডিক্যাল ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৫ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী। গত ১১ ও ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এতে ১৬টি বিভাগে প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ (ডিসিআর) এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), রাজশাহী।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের ক্যাম্পে ৩ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন এবং ১ হাজার ৮৬০ জন বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করিয়েছেন। নাক-কান-গলা, লিভার, কিডনি, বক্ষব্যাধি, গাইনি ও মেডিসিনসহ ১৬টি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, রিফ্র্যাকশন টেস্ট ও ফিজিওথেরাপিসহ প্রায় ১৫ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল।
ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের (ডিসিআর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের ক্যাম্পে রোগী পরামর্শ নিয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন। এ ছাড়া ৩৮৭ জন রিপোর্ট-সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়েছেন। ওই দিন ৫০ জন আলট্রাসনোগ্রাম, ৫৩ জন ইসিজি, ৭৫ জন প্রস্রাব পরীক্ষা এবং ৯৮ জন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করিয়েছেন। এ ছাড়া ১০ জন HbA1C (রক্ত পরীক্ষা), ১১ জন CRP (যকৃৎ বা লিভার পরীক্ষা), ৫৫ জন TSH (থাইরয়েড পরীক্ষা) এবং ৩২ জন চোখের লেন্সের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়েছেন। মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের সেবা নিয়েছেন একজন।
চিকিৎসা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
প্রতিবেদনে প্রথম দিনের ক্যাম্পে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা মিলিয়ে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকার সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনের ক্যাম্পে রোগী পরামর্শ নিয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন এবং রিপোর্ট-সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়েছেন ৮৫০ জন। এ ছাড়া ২৫ জন ফিজিওথেরাপি, ৮৫ জন আলট্রাসনোগ্রাম, ৮৩ জন ইসিজি, ১৬০ জন প্রস্রাব ও কিডনি পরীক্ষা এবং ২৯২ জন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করিয়েছেন। এদিন ১৯৫ জন হিমোগ্লোবিন, ২০ জন HbA1C, ২৫ জন CRP, ৮৫ জন TSH এবং ৭৫ জন চোখের লেন্সের পাওয়ার পরীক্ষা করিয়েছেন। এ ছাড়া তিনজন MDT মেডিকেল বোর্ডের সেবা নিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের ক্যাম্পে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকার সেবা দেওয়া হয়েছে বলে ডিসিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দিনের হিসাব অনুযায়ী, মোট সেবার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯০০ টাকা।
মেডিক্যাল ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাকসু শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক ভালো কাজ করছে। মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্যোগটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি তিনটি সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি। চিকিৎসকেরা বেশ সময় নিয়ে আমার কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের ব্যবহারও ছিল খুবই আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানেও রাকসুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাকসুর এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারেন না। মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে তাঁরা সহজেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের কথা শুনছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিসিআরের প্রতিনিধি ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একই জায়গায় চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টভিত্তিক পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের পোর্টেবল ল্যাবে পরীক্ষা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীর বয়স, উচ্চতা, ওজন ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো, রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে জটিলতা ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমানো। এ লক্ষ্যে ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ গত ১৮ বছর ধরে কাজ করছে।’
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, একই ছাদের নিচে একটি সমন্বিত ও অস্থায়ী মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেখাতে চেয়েছি, আন্তরিক উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্টও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া সম্ভব, যা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাতে পারে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের এ ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবাও ঠিকমতো পান না। সেখানে এক জায়গায় এতগুলো সেবা পাওয়া এবং মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়া অবিশ্বাস্য।’
রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমরা দোয়া করি, অসুস্থ শিক্ষার্থীরা এই চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠুক।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নেওয়ার সুযোগ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যারা উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন না, তাঁদের জন্য এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি লাভ করবে।’

মাদারগঞ্জে কালবেলা’র সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে কালবেলা’র সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মোঃ আবু সাঈদ সুজন (৩৬) ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন।

​অভিযোগে কালবেলা’র প্রতিনিধি আকন্দ সোহাগকে (২৭) কে বিবাদী করা হয়েছে। সোহাগ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ আইগেনি পাড়া হোসেন আলী আকন্দের ছেলে।
​অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আবু সাঈদ সুজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এর জের ধরে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সূত্র ধরে আকন্দ সোহাগ সুজনের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার ও অপপ্রচারের হুমকি দেন। পরবর্তীতে সোহাগের ব্যবহৃত নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই বিএনপি নেতার নামে অশ্লীল ও মানহানিকর বিভিন্ন বার্তা ও পোস্ট প্রচার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আনুমানিক ৩ মাস পূর্বে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় আরেকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ হয়েছিল কালবেলার সাংবাদিক আকন্দ সোহাগ এর বিরুদ্ধে। পরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সেটা থেমে যায়। আনুমানিক ২০২২ সালে সাংবাদিকতায় এসেই মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্ভিক সাংবাদিকতা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক জরুরী সভায় ২৭ অক্টোবর/২০২২ ইং তারিখে সভাপতি/ সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে সদস্য এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। বছর দুয়েক পূর্বে নারী সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও নির্লজ্জের মতো জনসম্মুখে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে।
​ভুক্তভোগী আবু সাঈদ সুজন বলেন, “এ ধরনের ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

​তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আকন্দ সোহাগ। মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তাঁর (আবু সাঈদ সুজন) বাড়ি চিনিই না, সেখানে চাঁদাবাজির জন্য কেন যাব? আমি শুধু তাঁর বক্তব্য ফোনের মাধ্যমে নিয়েছিলাম, যার প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে আমি বিচলিত নই এবং এতে আমার কোনো সমস্যা হবে না।”
​এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন
  • বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: ‘মারে ভাসাইয়া জলে, কি ধন লইয়া জাইমু ঘরে। ঘরে গিয়া মা বলিব কারে গো’ গানের তালে তালে সুরমা নদীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছর উপজেলা পরিষদ ঘাটে পৌর শহরের ৪টি প্রতিমা বিসর্জন করা হলেও এবছর বাসিয়া নদীর পানি ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার ফলে সেখানে কোন প্রতিমা বিসর্জন করা হয়নি। পৌর শহরের ওই ৪টি প্রতিমা’সহ লামাকাজী ইউনিয়নের ৪টি মন্ডপের প্রতিমা’সহ ৮টি প্রতিমা দিঘলী গ্রাম এলাকায় সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করেন।
    বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের ৪টি মন্ডপের নেতৃবৃন্দ নিজেদের প্রতিমা নিয়ে প্রজেশন আকারে দিঘলী গ্রামস্থ প্রতিমা বিসর্জন স্থলে গিয়ে ওই এলাকার ৪টি মন্ডপের প্রতিমার সাথে সাথে নিজেদের প্রতিমা বিসর্জন করেন। প্রায় শুকিয়ে যাওয়া বাসিয়া নদীতে পানির পরিমাণ কমে যাওয়াটা যেনে সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে আরেকটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। তাই ৮টি প্রতিমা বিসর্জনে প্রত্যেক মন্ডপের নেতৃবৃন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যান।
    সরকারি বিধি-নিষেধের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের নিয়ম-নীতি মেনে উপজেলা ও পৌর শহরে অনুষ্ঠিত ২৬টি পূজামন্ডপের নেতৃবৃন্দ নিজেদের সুবিধামতো স্থানে প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করে ঘরে ফেরার ফলে সনাতন ধর্মালম্বীদের মনে বইছে আনন্দের বন্যা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয় প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম।
    শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জনের সময় লামাকাজী ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামে সুরমা নদীর তীরে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দু জ্যোতি দে, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সদস্য নিশি কান্ত পাল, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি রুপক কুমার দে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাদল দেব, সুব্রত ধর বাপ্পী, সভাপতি সুনিল কান্তি দে, সহ সভাপতি বিজয় দে, সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে, যুগ্ম সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, কাজল মালাকার, কোষাধ্যক্ষ প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেব, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় পাল বাপন, সহ দপ্তর সম্পাদক মিন্টু মালাকার, প্রচার সম্পাদক অজিত দেব, গণসংযোগ সম্পাদক শুভরাজ চন্দ, সহ গণসংযোগ সম্পাদক বিজয় চন্দ দে, সদস্য সুভাষ চন্দ্র দেব, নেপাল দেব, বিজয় বৈদ্য বারিন্দ্র, অজয় দেব, সৌমিত্র ধর মিশু, ধ্রুব জ্যোতি দে উজ্জল প্রমুখ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
    সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সিলেটের বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ার জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র উপজেলাবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনিল কান্তি দেও সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে।

মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন ও লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন ও লিফলেট বিতরণ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,জামালপুর প্রতিনিধি:জামালপুরের মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে চর সগুনা বাজার থেকে শুরু করেন ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম খান শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোটরসাইকেল শো-ডাউন করেন তিনি। চর সগুনা বাজার, কাহেতপাড়া বাজার, বাংলা বাজার, বীর ঘোষেরপাড়া করিমুজ্জামান মোড়, ঘোষের পাড়া মিলন বাজার, সবিলাপুর আইনলের মোড়, বেলতৈল বাজার, গুদার বাজার, বাগবাড়ী হাইস্কুল মোড় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন পরে নিজবাড়ী প্রাঙ্গণে এসে শো ডাউন শেষ করেন। প্রার্থীর সাথে কর্মী সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি মেলান্দহ উপজেলার ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত থেকেও সমাজ,এলাকা তথা ইউনিয়নবাসীকে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম চালিয়েছেন। ইউনিয়নকে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে সেবা করার লক্ষ্যে আগামী ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম খান সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।