গোল্ডেন এ প্লাস সংবর্ধনায় ব্যানারে ‘গোন্ডেন’, ‘কৃতী’র জায়গায় ‘কৃতি’
সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে আয়োজন করা হয়েছিল কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছিল শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস, ছিল সম্মাননা স্মারক ও উপহার। কিন্তু এমন একটি আয়োজনের মূল ব্যানারেই চোখে পড়ে দুটি বানান ভুল। ‘গোল্ডেন’ লেখা হয়েছে ‘গোন্ডেন’, আর ‘কৃতী’ শব্দটি লেখা হয়েছে ‘কৃতি’।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ চিত্র দেখা যায়। সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া ২৭০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও অন্যান্য উপহার।
তবে শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপনের এই আয়োজনের মূল ব্যানারেই ছিল বানান নিয়ে অসতর্কতার ছাপ। ব্যানারে ‘Golden A+’–এর বাংলা লেখায় ‘গোল্ডেন’-এর পরিবর্তে লেখা হয় ‘গোন্ডেন’। একই ব্যানারে ‘কৃতী শিক্ষার্থী’ না লিখে লেখা হয় ‘কৃতি শিক্ষার্থী’।
ব্যানারের ভুল দুটি উপস্থিত অনেকেরই নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যেও আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও শিক্ষার মান নিয়ে সচেতন করার উদ্দেশে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের ব্যানারেই এমন ভুল থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ‘কৃতী’ শব্দের অর্থ কৃতিত্বসম্পন্ন বা কৃতিত্ব অর্জনকারী ব্যক্তি। ফলে ‘কৃতী শিক্ষার্থী’ লেখাটিই শুদ্ধ। অন্যদিকে ইংরেজি Golden শব্দের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ ‘গোল্ডেন’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে উপজেলা প্রশাসনের এমন আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানার বা প্রচারসামগ্রী প্রকাশের আগে বানান যাচাই করা জরুরি। সামান্য একটি ভুলও কখনো কখনো পুরো আয়োজনের ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
শিক্ষাবিদ মনতোষ কুমার দে মুঠোফোনে বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার মতো একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আয়োজনে ব্যানারে এমন বানান ভুল হওয়া দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষার শুদ্ধতা ও সঠিক বানান ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুষ্ঠানের ব্যানার প্রকাশের আগে তা ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ছোট একটি বানান ভুলও অনেক সময় বড় একটি বার্তা দেয় আমরা শিক্ষার্থীদের। যে বিষয় শেখাতে চাই, নিজেদের কাজের মধ্যেও তার প্রতিফলন থাকা দরকার।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছে। ব্যানারসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তারাই প্রস্তুত করেছে। তবে ব্যানারে যে বানান ভুল হয়েছে, সেটি আমাদেরও নজরে এসেছে। এত বড় একটি আয়োজনের ব্যানারে এ ধরনের ভুল থাকা সত্যিই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে আসে, তখন ব্যানার পরিবর্তন করার মতো সময় বা সুযোগ ছিল না।
এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিকিং চ্যাম্বুগংয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিকিং চ্যাম্বুগং। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যানারের দুটি বানান ভুল নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। তবে এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি সঠিক বানান ও ভাষার ব্যবহার নিয়েও যে একটি বার্তা দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেই জায়গাটিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

