খুঁজুন
, ,

ইএসডিওর সহায়তায় অভাবকে জয় করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আদিবাসী নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ইএসডিওর সহায়তায় অভাবকে জয় করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আদিবাসী নারীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তিক আদিবাসী নারীরা। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, ক্ষুদ্র ঋণ, সরকারি সেবার সঙ্গে সংযোগ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে তাঁদের জীবন। তাঁদেরই একজন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামের আরতি মার্ডি।

একসময় আরতি মার্ডির সকাল শুরু হতো কাজের খোঁজে বের হওয়ার তাড়া দিয়ে। একদিন কাজে যেতে না পারলে সংসারে চুলোয় হাঁড়ি উঠত না। স্বামী ছিলেন দিনমজুর। নিজেদের কোনো ভিটেমাটি না থাকায় খাসজমিতে ছাপড়া ঘর তুলে বসবাস করতেন তাঁরা। এর মধ্যে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে আরতি মার্ডির বাড়িতে রয়েছে তিনটি গাভী, পাঁচটি ছাগল, পাঁচটি হাঁস ও ১৫টি মুরগি। পাশাপাশি তিনি সবজি ও ধান চাষের সঙ্গে পারিবারিক পুষ্টিবাগানও করছেন। এসব কর্মকাণ্ড থেকে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের মোট মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁর গড়ে তোলা সম্পদের মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
আরতির জীবনে পরিবর্তনের শুরু ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ওই সময় ঠাকুরগাঁওয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল (পিপিইপিপি)’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় তিনি ‘প্রসপারিটি বনফুল ইকো গ্রাম কমিটি’র সদস্য হন।
নিয়মিত সভায় অংশ নিয়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, সঞ্চয়, কৃষি ও পশুপালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পান তিনি। করোনাকালে প্রকল্প থেকে আরতি ও তাঁর কমিউনিটির অন্য সদস্যদের ৯ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনেন তিনি। সেই ছোট বিনিয়োগই তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে।
পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের কমিউনিটি মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত হন আরতি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি একটি সরকারি ঘর পান। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও গাভী পালনের জন্য অনুদান পান। তাঁর ছোট ছেলে ইএসডিও থেকে তিন মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি চাষের জন্য প্রকল্প থেকে ১২ হাজার টাকা সহায়তা পান আরতি। ৫৫ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। পরে ইএসডিও থেকে প্রথম দফায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আরও ৫০ শতাংশ জমি বন্ধক নেন। সেখানে সবজির পাশাপাশি ধান চাষ শুরু করেন।
এভাবে সাত দফায় মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তা আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন আরতি। তাঁর এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইএসডিওর পক্ষ থেকে ‘শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা’ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
আরতি মার্ডি বলেন, “একসময় আমাদের সংসারে খুব কষ্ট ছিল। একদিন কাজ না করলে চুলোয় হাঁড়ি উঠত না। ইএসডিওর সহায়তা ও পরামর্শ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে গরু-ছাগল পালন, সবজি ও ধান চাষ শুরু করি। এখন নিজের কিছু সম্পদ হয়েছে। সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। আগে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তা করতে হতো, এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারছি।”
একই ইউনিয়নের নালাডাঙ্গী আদিবাসী এলাকার শান্তি মার্ডির জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। দিনমজুর স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে একসময় অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটত তাঁর। ইএসডিওর পিপিইপিপি প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর বাড়িতে রয়েছে সাতটি গবাদিপশু। পরে প্রকল্পের কর্মীদের পরামর্শে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন। এ কাজে ইএসডিও তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়। সেই অর্থ দিয়ে ঘরসহ ছয়টি সেট নির্মাণ করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন শান্তি।
শান্তি মার্ডি বলেন, “একসময় স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হতো। ইএসডিওর পরামর্শ ও সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি শুরু করি। এখন নিজের উৎপাদিত কেঁচো সার বিক্রি করে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছি। এই আয় সংসারের কাজে লাগছে, পাশাপাশি নিজেরও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এখন আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখি।”
আরতি ও শান্তির মতো আদিবাসী পল্লির মিনতি সরেন, চিন্তামনি মুর্মু, জসপিনা মুর্মু, সখিনা সরেন ও সুমি হাসদার জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। তাঁদের অনেকেই প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিয়ে কৃষি, পশুপালন ও অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন।
ইএসডিও জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলা ও ১৬টি ইউনিয়নে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জীবনমান উন্নয়ন, নিজস্ব ভাষার চর্চা এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ইএসডিওর টেকনিক্যাল অফিসার মো. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
টেকনিক্যাল অফিসার (কমিউনিটি মোবিলাইজেশন) ও টিম লিডার মোছা. মোসলেমা খাতুন বলেন, “আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আরতি মার্ডি ও শান্তি মার্ডির মতো নারীদের পরিবর্তন আমাদের কাজের বড় একটি সাফল্য। তাঁদের দেখে অন্য নারীরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।”
অভাবের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই থেকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর এই গল্পগুলো প্রমাণ করে—সঠিক সুযোগ, প্রশিক্ষণ, পুঁজি ও সহযোগিতা পেলে প্রান্তিক আদিবাসী নারীরাও নিজেদের ভাগ্য বদলে পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

মাদারগঞ্জে কালবেলা’র সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে কালবেলা’র সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মোঃ আবু সাঈদ সুজন (৩৬) ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেন।

​অভিযোগে কালবেলা’র প্রতিনিধি আকন্দ সোহাগকে (২৭) কে বিবাদী করা হয়েছে। সোহাগ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ আইগেনি পাড়া হোসেন আলী আকন্দের ছেলে।
​অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আবু সাঈদ সুজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এর জের ধরে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সূত্র ধরে আকন্দ সোহাগ সুজনের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার ও অপপ্রচারের হুমকি দেন। পরবর্তীতে সোহাগের ব্যবহৃত নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই বিএনপি নেতার নামে অশ্লীল ও মানহানিকর বিভিন্ন বার্তা ও পোস্ট প্রচার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, আনুমানিক ৩ মাস পূর্বে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় আরেকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ হয়েছিল কালবেলার সাংবাদিক আকন্দ সোহাগ এর বিরুদ্ধে। পরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সেটা থেমে যায়। আনুমানিক ২০২২ সালে সাংবাদিকতায় এসেই মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্ভিক সাংবাদিকতা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক জরুরী সভায় ২৭ অক্টোবর/২০২২ ইং তারিখে সভাপতি/ সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে সদস্য এবং সাধারণ সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। বছর দুয়েক পূর্বে নারী সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও নির্লজ্জের মতো জনসম্মুখে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে।
​ভুক্তভোগী আবু সাঈদ সুজন বলেন, “এ ধরনের ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

​তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আকন্দ সোহাগ। মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তাঁর (আবু সাঈদ সুজন) বাড়ি চিনিই না, সেখানে চাঁদাবাজির জন্য কেন যাব? আমি শুধু তাঁর বক্তব্য ফোনের মাধ্যমে নিয়েছিলাম, যার প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে আমি বিচলিত নই এবং এতে আমার কোনো সমস্যা হবে না।”
​এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন
  • বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: ‘মারে ভাসাইয়া জলে, কি ধন লইয়া জাইমু ঘরে। ঘরে গিয়া মা বলিব কারে গো’ গানের তালে তালে সুরমা নদীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছর উপজেলা পরিষদ ঘাটে পৌর শহরের ৪টি প্রতিমা বিসর্জন করা হলেও এবছর বাসিয়া নদীর পানি ব্যাপকহারে কমে যাওয়ার ফলে সেখানে কোন প্রতিমা বিসর্জন করা হয়নি। পৌর শহরের ওই ৪টি প্রতিমা’সহ লামাকাজী ইউনিয়নের ৪টি মন্ডপের প্রতিমা’সহ ৮টি প্রতিমা দিঘলী গ্রাম এলাকায় সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করেন।
    বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের ৪টি মন্ডপের নেতৃবৃন্দ নিজেদের প্রতিমা নিয়ে প্রজেশন আকারে দিঘলী গ্রামস্থ প্রতিমা বিসর্জন স্থলে গিয়ে ওই এলাকার ৪টি মন্ডপের প্রতিমার সাথে সাথে নিজেদের প্রতিমা বিসর্জন করেন। প্রায় শুকিয়ে যাওয়া বাসিয়া নদীতে পানির পরিমাণ কমে যাওয়াটা যেনে সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে আরেকটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। তাই ৮টি প্রতিমা বিসর্জনে প্রত্যেক মন্ডপের নেতৃবৃন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যান।
    সরকারি বিধি-নিষেধের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের নিয়ম-নীতি মেনে উপজেলা ও পৌর শহরে অনুষ্ঠিত ২৬টি পূজামন্ডপের নেতৃবৃন্দ নিজেদের সুবিধামতো স্থানে প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করে ঘরে ফেরার ফলে সনাতন ধর্মালম্বীদের মনে বইছে আনন্দের বন্যা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হয় প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম।
    শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জনের সময় লামাকাজী ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামে সুরমা নদীর তীরে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান, রামসুন্দর সরকারি অগ্রগামী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নবেন্দু জ্যোতি দে, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সদস্য নিশি কান্ত পাল, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি রুপক কুমার দে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাদল দেব, সুব্রত ধর বাপ্পী, সভাপতি সুনিল কান্তি দে, সহ সভাপতি বিজয় দে, সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে, যুগ্ম সম্পাদক গোবিন্দ মালাকার, কাজল মালাকার, কোষাধ্যক্ষ প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেব, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় পাল বাপন, সহ দপ্তর সম্পাদক মিন্টু মালাকার, প্রচার সম্পাদক অজিত দেব, গণসংযোগ সম্পাদক শুভরাজ চন্দ, সহ গণসংযোগ সম্পাদক বিজয় চন্দ দে, সদস্য সুভাষ চন্দ্র দেব, নেপাল দেব, বিজয় বৈদ্য বারিন্দ্র, অজয় দেব, সৌমিত্র ধর মিশু, ধ্রুব জ্যোতি দে উজ্জল প্রমুখ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
    সুষ্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সিলেটের বিশ্বনাথে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ার জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র উপজেলাবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনিল কান্তি দেও সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দে।

মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন ও লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন ও লিফলেট বিতরণ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,জামালপুর প্রতিনিধি:জামালপুরের মেলান্দহে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম খানের মোটরসাইকেল শো-ডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে চর সগুনা বাজার থেকে শুরু করেন ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম খান শত শত কর্মী সমর্থক নিয়ে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোটরসাইকেল শো-ডাউন করেন তিনি। চর সগুনা বাজার, কাহেতপাড়া বাজার, বাংলা বাজার, বীর ঘোষেরপাড়া করিমুজ্জামান মোড়, ঘোষের পাড়া মিলন বাজার, সবিলাপুর আইনলের মোড়, বেলতৈল বাজার, গুদার বাজার, বাগবাড়ী হাইস্কুল মোড় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন পরে নিজবাড়ী প্রাঙ্গণে এসে শো ডাউন শেষ করেন। প্রার্থীর সাথে কর্মী সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তিনি মেলান্দহ উপজেলার ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত থেকেও সমাজ,এলাকা তথা ইউনিয়নবাসীকে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম চালিয়েছেন। ইউনিয়নকে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে এবং ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নে সেবা করার লক্ষ্যে আগামী ৯ নং ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম খান সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।