খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাণীশংকৈলে শ্রমিকদের পাওয়া যায় যে হাটগুলোতে 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রাণীশংকৈলে শ্রমিকদের পাওয়া যায় যে হাটগুলোতে 

জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সন্ধানে বের হন শ্রমজীবীরা। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন শহরমুখী হন। আমজুয়ান ইউনিয়ন পরিষদ মার্কেট, মাদ্রাসা মোড়, বন্দর চৌরাস্তা এলাকায় সকাল থেকেই জড়ো হন তারা। শ্রমিকদের এই সমাগমকে অনেকে বলেন মানুষ বিক্রির হাট অথবা শ্রম বিক্রির হাট।

এই হাটে প্রত্যেকের সঙ্গে থাকে কাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কাস্তে, কোদাল, শাবল, দা কিংবা ডালি। এখানে বিক্রি হয় তাদের শ্রম। সকাল ৭ থেকে ১০টা পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে বসে থাকেন শ্রমিকেরা। কেউ আসেন কাজের সন্ধানে,কেউ আসেন কাজের জন্য ডেকে নেওয়ার আশায়।

বুধবার সকালে কথা হয় রাজমিস্ত্রি আব্দুর রশিদের সাথে তিনি বলেন, অভাবের তারনায় মানুষ শ্রমের খোঁজে প্রতিদিন বন্দর চৌরাস্তায় জড়ো হয়। মালিক পক্ষ এখানে মিস্ত্রি খোঁজে আমরা এখান থেকে লেবার নিয়ে কাজে যায়। এরকম শ্রম বিক্রির হাট উভয়ের জন্য উপকার । শ্রমিকের প্রয়োজন হলে কথাও খুঁজতে যেতে হয় না। এদিকে কৃষি কাজের জন্য পৌরশহরের মাদ্রাসা মোড়ে অবস্থান নেয় শ্রমিকরা প্রত্যেকের সঙ্গে নিয়ে আসেন কাস্তে, কোদাল, শাবলসহ নানা সরঞ্জাম। তারা প্রস্তুত থাকে শুধু একজন ক্রেতার অপেক্ষায়। বিশেষ করে চলছে ইরি ধান কাটা ও ভ’ট্টা ভাংঙ্গানোর মৌসুম । শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে কৃষকের, ফসল তুলতে হবে ঘরে একারনে জমে উঠেছে শ্রম বিক্রির হাট।

সুন্দরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, ভোরে বের হই, সারা দিন বসে থাকি। কেউ ডাকলে কাজ পাই, না হলে কোনো আয় থাকে না। বাচোর ইউনিয়নের সামশুল হক ও বাসিয়া রায় বলেন, এই হাটে বসে থাকি শুধু কাজের আশায়। যারা ডাকে, তাদের কাছে দিনভিত্তিক অথবা চুক্তি ভিত্তিক নিজেদের শ্রম বিক্রি করি। কাজ না পেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাই।

গুয়াগাঁও গ্রামের ভন্দু রায় জানান, দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পাই, সেটাও নিয়মিত না। অনেক দিন কোনো কাজই থাকে না। এখন কাজের চেয়ে মানুষ বেশি, তাই আমরা যেন হাটে বসে থাকা পণ্যের মতো হয়ে গেছি। তাছাড়া এ অঞ্চলের অনেক পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে গেছেন বগুড়া, কেউ কুমিল্লা, ফেনী, সিলেট কিংবা ঢাকায় আয়ের আশায়। ঢাকায় থাকা এক শ্রমিকের স্ত্রী আকলিমা বেগম বলেন, এলাকায় কাজ নেই বলেই ওদের বাইরে যেতে হয়। না গেলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ বলেন, উত্তরবঙ্গে শিল্পকলকারখানা না থাকায় অনেক পরিবার শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেক সময় অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যায়।

রানীশংকৈলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
রানীশংকৈলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
 রানীশংকৈল প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল  উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া আনসারডাঙ্গী গ্রামে ভুট্টাক্ষেত থেকে  লামিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ।
নিহত লামিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফির মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) দুপুর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি
পরের দিন ( বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয়রা গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।

হরিপুরে কৃষি উন্নয়নে- কৃষক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
হরিপুরে কৃষি উন্নয়নে- কৃষক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি; ঠাকুরগাঁওশের হরিপুরে ১৩ই মে ২০২৫-২৬ কৃষি অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” এর আওতায় “পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কংগ্রেসে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। “পার্টনার” প্রকল্প কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার চন্দন কর বলেন, “কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।”উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বর্তমান সময়ে পুষ্টিনির্ভর কৃষি ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পার্টনার প্রকল্প কৃষকদের পুষ্টিনির্ভর কৃষি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”উপজেলা ভূমি অফিসার উজ্জ্বল বাইন সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, “গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষিবান্ধব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান তারা।স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা পেয়ে তারা উপকৃত হচ্ছেন।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের নিয়ে ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সাইফ-উল-আরেফীন-এর সভাপতিত্বে সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

‎​সভায় ইউএনও বলেন, গ্রাম আদালতের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ মানুষের জন্য স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের নথি ও রেজিস্টার হালনাগাদ রাখতে হবে। কোনোভাবেই গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা ব্যক্তিগত সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে না; বরং এজলাসে বসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।তিনি আরও জানান, ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা গ্রাম আদালতের রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৬টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন তিনি।

‎​সভায় বিগত তিন মাসের (জানুয়ারি ২০২৬ হতে মার্চ ২০২৬) অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত তিন মাসে কালকিনি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সরাসরি ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত থেকে ২টি মামলা এসেছে। এই সময়ে মোট ৬৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

‎​বিগত কোয়ার্টারে সফলভাবে মামলা নিষ্পত্তির জন্য পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়ন (২২টি মামলা) এবং চরদৌলতখান ইউনিয়ন (১৯টি মামলা) পরিষদের হিসাব সহকারীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

‎​উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “আমি এখন থেকে নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়ন ভিজিট করব এবং সরাসরি রেজিস্টার চেক করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।”

‎​‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তৃণমূল পর্যায়ে বিচারিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।