১৭ বছর যাবৎ হসপিটালে অনিয়ম করে যাচ্ছেন ঠিকাদার
রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:-রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার ও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম খাবার সরবরাহের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সরকারি হাসপাতালের খাবার সরবরাহের টেন্ডার।
অভিযোগ উঠেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার সরবরাহের টেন্ডার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, সরকারি হাটের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী হেদায়েতুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বিভিন্ন নামে-বেনামে টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হলেও নানা কৌশল, মামলা এবং প্রশাসনিক জটিলতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। এর সুযোগ নিয়ে একই ব্যক্তি বছরের পর বছর এ কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার কারণে টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হলেও পূর্বের ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে হেদায়েতুল্লাহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে এই কাজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কয়েক মাস আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার এবং পরিমাণে কম খাবার সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা পায়। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও জানা যায়, ২০০৯ সালের পর থেকে হেদায়েতুল্লাহ ৪-৫ জনের নামে দরপত্র কিনে জমা দেন। ফলে যেকোনো একটি নামের মাধ্যমে কাজটি তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তার প্যানেলের সোলাইমান নামের একজন ঠিকাদার কাজটি পান। পরবর্তী বছরে টেন্ডার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পরিকল্পিতভাবে আরেক ঠিকাদার আব্দুল মান্নানকে দিয়ে মামলা করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ঠিকাদার মনির হোসেন বলেন, “প্রায় দুই বছর আগে সঠিক প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করা হলে হেদায়েতুল্লাহ অংশ নিয়েও কাজ পাননি। পরে তিনি তার মেয়ের জামাই আব্দুল মান্নানকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করান। সেই মামলার সুযোগ নিয়ে এখনো আগের ঠিকাদারের নামে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তাকে বারবার টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে হেদায়েতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ঠিকাদার দাবি করে বলেন, “আমি বহু বছর ধরে এই কাজ করে আসছি।” পরে তিনি বিস্তারিত কিছু না বলে ফোন কেটে দেন।
সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও তৎকালীন টেন্ডার কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, “মামলার কারণে চূড়ান্ত দরদাতার নাম অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি। বিষয়টি এখনো বিচারাধীন, তাই রি-টেন্ডারের সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।”
বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলেন, “সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। যোগদানের পর জানতে পেরেছি, মামলা জটিলতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে আছে। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলায় পাঠানো হয়েছে।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মামলা চলমান থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”

