খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে শিশু ঊর্মির হার্টের সফল অপারেশন,পরিবারে বইছে আনন্দ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে শিশু ঊর্মির হার্টের সফল অপারেশন,পরিবারে বইছে আনন্দ

জন্ম থেকেই শিশু সামিয়া আক্তার ঊর্মির হার্টে সমস্যা। সে হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈড়গড়া ইউনিয়নের ঊর্মির বাবা আবুল হাশেম প্যারালাইজড রোগী। ফলে তার পক্ষে শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভবপর ছিলনা।

দারিদ্র্যতার সঙ্গে যুদ্ধ করা পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা জেনে ঊর্মির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তার উদ্যোগে গত ২৮ জুন ঊর্মিকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এ ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৯ জুন সফলতার সাথে শিশুটির হার্টের অপারেশন সম্পন্ন হয়।

বুধবার (২ জুলাই) ঊর্মিকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানান,শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত। কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ণ সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফিরতে পারবে।

ঊর্মির হার্টের সফল অপারেশন সম্পন্ন হবার খবরে তার পরিবার খুব খুশি। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বলেন, মানবিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে ঊর্মির সুচিকিৎসা সম্পন্ন হচ্ছে। এটি অনেক বড় পাওয়া। তিনি উদ্যোগ না নিলে ঊর্মির সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। আমরা কায়সার কামাল সাহেবের জন্য দোয়া করি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই শিশু ঊর্মির পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ তার হার্টের সফল অপারেশন হলো। তার পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত ইতোপূর্বে হার্টে সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়া শিশু আবদুল্লাহ এবং তাইবার হার্ট অপারেশনের ব্যবস্থা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার উদ্যোগে সফল অপারেশনের পর এই দুই শিশুই এখন সুস্থভাবে চলাফেরা করছে।

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদসহ চোরাকারবারি আটক

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদসহ চোরাকারবারি আটক

চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ৮০ বোতল বিদেশি মদসহ এক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে নেত্রকোণার দুর্গাপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত চোরাকারবারি শফিকুল ইসলাম (৩২) জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের গুনাপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ বেপারীর ছেলে।

সোমবার (৪ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেষে আজ দুপুরের দিকে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে দুর্গাপুরের পূর্ব মাকড়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুর্গাপুর থানার এসআই (নিঃ) নূর ইসলাম ও এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল কাইয়ুম ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাকড়াইল এলাকার নতুন শাহী জামে মসজিদের উত্তরপাশে পাকা রাস্তার ওপর এক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

খবর পেয়ে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আটক ব্যক্তি কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরে আটককৃত ব্যক্তির হেফাজত থেকে পুলিশ তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় তল্লাশি চালিয়ে ৮০ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

জব্দকৃত মদের মধ্যে রয়েছে- ৭৫০ মি.লি. ওজনের ৩৬ বোতল ও ৩৭৫ মি.লি. ওজনের ২৪ বোতল ‘ম্যাকডুয়েলস লাক্সারী ব্লেন্ডেড হুইসকি’ এবং ৩৭৫ মি.লি. ওজনের ২০ বোতল ‘আইস ভদকা’ ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে মদ সংগ্রহ করে দুর্গাপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও ছাত্রদলকে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করবো : ইমরুল কায়েস

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও ছাত্রদলকে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করবো : ইমরুল কায়েস

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ইমরুল কায়েস।

​গত ২ মে রাতে সারাদেশে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের যৌথ স্বাক্ষরে আনন্দমোহন কলেজ শাখার নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

​ইমরুল কায়েসের পদপ্রাপ্তির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

ইমরুল কায়েস বলেন, আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সংগ্রামী সভাপতি ও বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। এই আস্থা ও সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রদলকে একটি সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো। আমি আমার সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠনের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

 ইটের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ : ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবন্ধী একটি  পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
 ইটের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ : ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবন্ধী একটি  পরিবার
  • ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে চলাচলের রাস্তায় ইটের দেয়ালের ব্যরিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে একটি পরিবারকে। ফলে বাসায় বৃদ্ধদের চিকিৎসার ওষুধ না নিতে পারা, ছেলে-মেয়েদের স্কুল মাদ্রাসায় না পাঠাতে পেরে এবং ঘর থেকে বের হতে না পারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাবার সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ অবস্থায় দ্রুতই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
  • জানাযায়, পাকিস্তান পিরিয়ডে তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমার মুন্সিপাড়া গোরস্থান সংলগ্ন প্রায় ৯ শতাংশ জমি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ত্রাণ হিসেবে পান মো হাবিব। পরবর্তীতে হাবিবের দুই ছেলে আব্দুল নাইম ৩ শতাংশ এবং আব্দুল আজিজ (মুন্না) ৬ শতাংশ করে নেন। সময় যাবার সাথে সাথে অব্দুল আজিজ মুন্নার পরিবার আব্দুল নাইমের পরিবারের সে ৩ শতাংশ জমিও কেড়ে নেবার পায়তারা করে। এর পর থেকেই শুরু হয় আব্দুল নাইমের পরিবারের ওপর নির্যাতন। ২০১৬ সালে দুই পরিবারের মাঝে এ ধরনের সমস্যা দেখে এলাকাবাসীই উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় মেম্বার এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে একটি সালিশ এর ব্যবস্থা করে এবং সেখানে একটি সমাধান দিয়ে দুই পরিবারের কর্তাবৃন্দের কাছেই লিখিত নেয়া হয়। তবে সে সালিশকে উপেক্ষা করে পুনরায় সে জমি কেড়ে নেবার পায়তারা শুরু করে আব্দুল আজিজের পরিবার এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। যার ফলশ্রুতিতেই গত দু সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে আব্দুল নাইমের পরিবারটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারটির ছোট থেকে বড় সকলেই অনেক কষ্ট করে সে ইটের দেয়ালের ব্যারিকেড পার হয়ে তাদের অতিপ্রযোজনীয় কাজ গুলো সারছেন। পরিবারের শিশুরা কোনদিন স্কুল মাদ্রাসায় যেতে পারছে কোননি পাছেনা। মহিলারা জীবনের ঝুকি নিয়ে অন্যের দেয়ালে ঝুলে পার হচ্ছেন সে ব্যারিকেড।

ভুক্তভোগী পরিবারের রানী আক্তার জানান, আমার শশুর বাড়ি এটি। এখানে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখায় আমরা যেমন তেমন ভাবে বেঁচে আছি। আমার সন্তানদের নিয়ে কি করবো আর তাদের মুখে খাবার তুলে দেবোই বা কিভাবে আর তাদের স্কুল মাদ্রাসাতেই পাঠাবো কিভাবে জানিনা। যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি, দেখাযাক আল্লাহ কপালে কি রেখেছেন।

রানী আক্তারের ৯ বছরের ছেলে মিরাজ আলম বলে, আমি মাদ্রাসায় হেফজ পড়ছি। প্রতিদিন যেতে পারিনা। কেউ সাহায্য না করলে রাস্তা পার হতে পারিনা। আমাদের খুব ভয় লাগে এভাবে। কবে যে আবার আগের মত মাদ্রাসায় যেতে পারবো জানিনা।

রাস্তা বন্ধ করে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে না পেয়ে ছোট ছেলে মন্টির সাথে কথা হলে তিনি ইটের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধের বিষয়টি স্মীকার করে বলেন, এ বিষয়ে যেনো কেউ সমাধানে আসে এ জন্যই আমরা এ রাস্তা বন্ধ করেছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপন প্রসঙ্গে তিনি এরিয়ে যান।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (এসিল্যান্ড) ভূমি কর্মকর্তার স্মরনাপন্ন হতে বলেন।
সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভূমি) আশাদুল হক এর স্মরনাপন্ন হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে পথ বন্ধ করা আইনত অন্যায়, কেউ যদি এমন করে থাকে তাহলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।