খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

৯৪টি বল্লম ও ৪০টি ককটেলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার: মাদারীপুরে সেনাবাহিনীর বড় সাফল্য

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
৯৪টি বল্লম ও ৪০টি ককটেলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার: মাদারীপুরে সেনাবাহিনীর বড় সাফল্য

মাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে কক টেল, রা মদা, চাপা তিসহ বিপুল পরিমান দেশিয় অ স্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আটক করা সম্ভব হয়নি কাউকেই।

শনিবার রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের গ্রামে মাদারীপুর সদরের সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন শাফিন সারোয়ার এবং ক্যাপ্টেন মোনায়েম শারজিল-এর নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

মাদারীপুর সদরের সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন শাফিন সারোয়ার এবং ক্যাপ্টেন মোনায়েম শারজিল জানান, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার বড়মেহের গ্রামের ইদ্রিস হাওলাদার নিজবাড়ির বাগান ও আশাপাশে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রেখেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ইদ্রিস হাওলাদার ও তার সঙ্গীয় লোকজন। পরে তার বাড়ির আশপাশে তল্লাসি চালিয়ে ৪০টি ককটেল, ৯৪টি বল্লম, ৩৩টি ঢাল, ৪টি চাপাতি, ৩টি রামদা, ২টি চাইনিজ কুড়ালসহ বিপুল পরিমান দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরে খবর দেয়া হয় সদর মডেল থানা পুলিশকে। অভিযুক্ত পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।

২১৪ বছরের লড়াই শেষে পাওয়া লাল-সবুজ পতাকায় আর শোষণ দেখতে চাই না: আল্লামা মামুনুল হক

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
২১৪ বছরের লড়াই শেষে পাওয়া লাল-সবুজ পতাকায় আর শোষণ দেখতে চাই না: আল্লামা মামুনুল হক

মাদারীপুর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাদারীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মাদারীপুরে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

​শোষণের বিরুদ্ধে ২১৪ বছরের সংগ্রাম

​বক্তব্যের শুরুতে আল্লামা মামুনুল হক বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি, তা দীর্ঘ ২১৪ বছরের সংগ্রামের ফসল। ১৯০ বছর ইংরেজদের বিরুদ্ধে, ১০০ বছর কোলকাতার দাদাবাবুদের প্রথা ও দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ২৪ বছর পাকিস্তানের পিন্ডির খান বাহাদুরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।”

​তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ ভেবেছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পেলে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে শুধু শাসক বদলেছে, শোষক বদলায়নি। স্বদেশী শাসকদের হাতেই এদেশের মানুষ গত ১৭ বছর অত্যাচারিত ও শোষিত হয়েছে, হারিয়েছে ভাত ও ভোটের অধিকার।”

​জুলাই বিপ্লব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​২০২৪ সালের রক্তঝরা জুলাই বিপ্লবকে ইতিহাসের এক অনন্য মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখনই ৪ কোটি ছাত্র-ছাত্রী রাজপথে নেমে আসে। প্রায় দেড় হাজার শহীদের রক্ত আর হাজার হাজার ছাত্রের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে পর্দার আড়ালে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু এ দেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রকে ফিরতে দেওয়া হবে না।”

​১১-দলীয় জোটের অঙ্গীকার ও প্রতীক হস্তান্তর

​আল্লামা মামুনুল হক জানান, ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিতে এই ১১-দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। তিনি জোটের মূল লক্ষ্য হিসেবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।

​জনসভা শেষে তিনি মাদারীপুর-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান খানের হাতে ‘রিকশা’ প্রতীক এবং মাদারীপুর-৩ আসনের প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলামের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

​উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

​মাদারীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জোট প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান খান ও রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা সেক্রেটারি এনায়েত হোসেন, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জোট নেতারা।

​বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত নেত্রকোণার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলি

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত নেত্রকোণার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলি

প্রিয়তমা সিনেমার বিখ্যাত ঈশ্বর গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন গীতিকার সোমেশ্বর অলি।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষিত হয়। এই তালিকায় শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোমেশ্বর অলি।

হিমেল আশরাফ পরিচালিত ও আরশাদ আদনান প্রযোজিত শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার বহুল প্রশংসিত গান ঈশ্বর।

এই গান মুক্তির পর থেকেই দর্শক শ্রোতার মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং গানটির কথার গভীরতা ও আবেগপূর্ণ প্রকাশ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

ঈশ্বর গানের মাধ্যমে প্রেম, বেদনা ও আত্মসংঘাতের অনুভূতি সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেন গীতিকার সোমেশ্বর অলি, যা সিনেমাটির গল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সেইসঙ্গে সব শ্রেণীর দর্শকদেরকে এই গান প্রিয়তমা সিনেমা দেখতে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে।

সোমেশ্বর অলি বলেন, রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি অনেক বড় ব্যাপার। এই প্রাপ্তি আরও বড় হয় যখন কাছের মানুষ, বন্ধু, পরিবার, সহকর্মী বা দূরের মানুষরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ নই। সবকিছুতে ইমোশন সংযম বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

অলি বলেন, জুরি বোর্ডের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, কারণ তারা অনেক গানের মধ্যে ঈশ্বরকে যোগ্য মনে করেছেন। সেই সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজক এবং শিল্পীদেরও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলির এই অর্জনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

মাদারীপুরে আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে ৭৬টি অবৈধ ইটভাটা: বিপন্ন পরিবেশ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে ৭৬টি অবৈধ ইটভাটা: বিপন্ন পরিবেশ, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

মাদারীপুর জেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দাপটের সাথে চলছে ৭৬টি অবৈধ ইটভাটা। এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, যার ফলে দূষিত হচ্ছে বাতাস এবং বিলীন হচ্ছে গাছপালা। এছাড়া কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়ায় কমছে ফসলি জমি, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি করছে।

​​সরেজমিনে তদন্ত এবং প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জেলায় ইটভাটার বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

​মোট ইটভাটা: ৯১টি

​বৈধ ইটভাটা: মাত্র ১৫টি

​অবৈধ ইটভাটা: ৭৬টি

​সবচেয়ে বেশি ইটভাটা: সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নে (২৫-৩০টি)

​৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বেশ কয়েকটি ভাটা বন্ধ হলেও অধিকাংশ ভাটা মালিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। হাতেগোনা কয়েকটি ভাটা (যেমন: মেসার্স পিবিএফ ব্রিকস, জননী ব্রিকস ও মোল্লা ব্রিকস-২) নবায়নের জন্য আবেদন করলেও অধিকাংশেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

​পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং ধুলাবালিতে তারা অতিষ্ঠ। বিশেষ করে পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, একটি ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটা থাকায় কৃষি জমি বিলুপ্তির পথে এবং সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

​১. অবৈধ স-মিল: ভাটায় কাঠ কাটার জন্য ভেতরেই বসানো হয়েছে অবৈধ স-মিল।

২. বন উজাড়: বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

৩. মাটি খনন: রাতের অন্ধকারে নদী ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় ভাঙন ঝুঁকি বাড়ছে।

৪. ছাড়পত্রহীন কার্যক্রম: সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর এসব ভাটা চলছে।

​​জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, তারা ইতিমধ্যে দুটি ভাটায় অভিযান চালিয়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত বাকি অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, “নির্বাচনী কাজের ব্যস্ততার মাঝেও আমরা গত মাসে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। সাংবাদিকদের কাছে অবৈধ ইটভাটার তালিকা চাওয়া হয়েছে, তালিকা পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​ এই প্রতিবেদনে স্থানীয় জনমতের প্রতিফলন এবং প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।