খুঁজুন
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভ্রষ্ট নীতির ধ্বংস: সমাজ ও মানবতার আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫, ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
ভ্রষ্ট নীতির ধ্বংস: সমাজ ও মানবতার আর্তনাদ

কবি মো. লতিফুর রহমানের “ভ্রষ্ট নীতির ধ্বংস” কবিতাটি বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবতার বিপর্যয়ের এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। কবিতাটিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি, স্বার্থপরতা এবং নীতিহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

কবিতায় কবি ‘বোন আছিয়ার ক্রন্দসী’র মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সবাই যেন স্বার্থের নেশায় মত্ত, সত্য ও ন্যায়বিচার যেন অন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের বিবেক ও নীতিবোধ আজ বিলুপ্তপ্রায়, যার ফলে জাতি আজ এক গভীর শূন্যতায় নিমজ্জিত।
কবি তার কবিতায় স্বদেশকে ব্যথায় ভরা এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে স্বার্থ ছাড়া কেউ সত্য কথা বলে না, এবং এই ভ্রষ্ট নীতি মানবতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
কবিতায় কবির প্রশ্ন, “বিবেকের দুয়ার খুলবে কবে?” যেন সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে এক গভীর জিজ্ঞাসা। তিনি বলেন, লোভের মোহান্তরের কারণে ভালো মানুষ আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

ভ্রষ্ট নীতির ধ্বংস- মো. লতিফুর রহমান

ঐ দেখো, কথার জালে
স্বপ্নরা আজ বন্দী,
সহজ ভুলে, ব্যথার ছলে
বোন আছিয়ার ক্রন্দসী।

ইস্যুর নেশায় মত্ত সবাই
সত্য যেন অন্ধ,
বিবেক হারায়, নীতি হারায়
জাতি আজ নিঃস্ব রন্ধ্র।

স্বদেশ আমার, ব্যথায় ভরা
অপকর্মে সেরা,
সকল দেশের মাঝে যেন
অন্ধকারের ঘেরা।

স্বার্থ ছাড়া কেউ তো নয়
সত্য বলে কেউ না,
ভ্রষ্ট নীতি ধ্বংস আনে
নীরব মানবতা।

বিবেকের দুয়ার খুলবে কবে?
কে দেবে তার উত্তর?
ভালো মানুষ হারিয়ে গেছে
লোভের মোহান্তর।

দুর্গাপুরে শুরু হচ্ছে হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা-২০২৬

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে শুরু হচ্ছে হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা-২০২৬

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় শুরু হচ্ছে কুরআনের আলো হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা-২০২৬।

তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন শুরু হচ্ছে আগামী ৫ মার্চ। এটি চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর শাখা এই আয়োজন করছে।

দুর্গাপুর পৌর শহরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিদিন সকাল ১০টায় এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত।

গত বছর প্রথমবার এই আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এবার ২য় বারের মতো এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের দীক্ষায় উজ্জীবিত এবং অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চর্চা আরো বৃদ্ধি পাবে।

দুর্গাপুরে ২য় বারের মতো বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা ঘিরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও জনসাধারণের মধ্যে
ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিমতলা মুন্সী হোটেল রোড অবৈধ দখলদারদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
নিমতলা মুন্সী হোটেল রোড অবৈধ দখলদারদের দখলে

দিনাজপুর শহরের নিমতলা এলাকায় মুন্সী হোটেলের পাশের সড়ক ও ফুটপাত বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল রাখার কারণে পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না।
শনিবার (১ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর থেকেই দোকানগুলোর মালামাল ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে রাখা হয়। নিমতলা থেকে খালপাড়া যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে পথচারীদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে চায়ের দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানসহ বিভিন্ন ভ্যারাইটিজ পণ্যের স্টল বসানো হয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের নিচেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে দোকান পরিচালনা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরা।
এদিকে ছবি তুলতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন দোকানদার বাধা দেন। তারা প্রশ্ন তোলেন— “আপনি কী করেন? কেন ছবি তুলছেন?” উত্তরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভা ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সচেতন মহলের মতে, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

মাদারীপুরে মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াল থাবা: নিঃস্ব শত শত পরিবার, মুক্তিপণের নামে চলছে অমানুষিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে মানব পাচারকারী চক্রের ভয়াল থাবা: নিঃস্ব শত শত পরিবার, মুক্তিপণের নামে চলছে অমানুষিক নির্যাতন

মাদারীপুর জেলায়ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে মানব পাচারকারী চক্র। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ বিভুঁইয়ে পাড়ি জমাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভিটেমাটি বিক্রি করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য, উল্টো লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে বন্দি হয়ে সইতে হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। সম্প্রতি মাদারীপুরের এমদাদ ও তার সহযোগীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

​চক্রের মূল হোতা ও তাদের কৌশল

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের মূল হোতা এমদাদুল মাতুব্বর এবং তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন এনামুল হক, লাভলু মাতুব্বর, বাবলু মাতুব্বর, ইঞ্জি বেগম, সুমা আক্তার, মেরাজ তালুকদার ও মজিবর বেপারীসহ আরও কয়েকজন। তারা ইউরোপের দেশ পর্তুগাল বা ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একেকজন বিদেশপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

​আকলিমা নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার ভাগ্নে মোহাম্মদ হাওলাদারকে পর্তুগাল নেওয়ার কথা বলে মোট ২০ লক্ষ টাকা নেয় এমদাদ ও তার গং। পরে পর্তুগাল নিতে ব্যর্থ হয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর নামে আরও ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে। লিবিয়া পৌঁছানোর পর তাকে স্থানীয় মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয় আরও ৩৬ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ৬৬ লক্ষ টাকা খুইয়ে কোনোমতে জানালা ভেঙে পালিয়ে জীবন বাঁচান ওই যুবক।

​একই অভিজ্ঞতার কথা জানান নুরজাহান বেগম। তার ছেলে নুর ইসলাম মাতুব্বরকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ধাপে ধাপে ৫১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। তিনি বলেন, “ছেলের ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখে সুদে ও এনজিও থেকে ঋণ করে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়েছি। দালালদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”

​আরেক ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান এনি জানান, তার ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ তুষারকে লিবিয়ার দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ছেলের জীবন বাঁচাতে সহায়-সম্বল, গবাদি পশু ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে মোট ৫৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

​পাচারকারীদের হুমকি ও আইনি জটিলতা

​ভুক্তভোগীরা যখন নিঃস্ব হয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন এই পাচারকারী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আদালত ও থানায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এমদাদ ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

​বর্তমানে মাদারীপুরের অনেক পরিবার এই দালাল চক্রের কারণে পথে বসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত এই এমদাদ গংদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রশাসন যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

​ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু দালালদের হুমকির মুখে আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা সঠিক বিচার চাই।”