খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

রাজশাহীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

মোহাইমিনুল ইসলাম | রাজশাহী নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (১ মে) উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহীর বিআরইএল অফিসে আয়োজিত এ সভায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এবং বিআরইএল সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য’ এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ১ মে শ্রমিক দিবস বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের সংগ্রাম, অধিকার এবং মর্যাদার প্রতীক। ১৮৮৬ সালের শিকাগো শহরের হে মার্কেট আন্দোলনের মাধ্যমে যে ন্যায্য শ্রমঘণ্টা ও ন্যায্য মজুরির দাবি বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তুলেছিল, তার চেতনা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। অথচ দুঃখজনকভাবে, আজও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রে অধরা থেকে গেছে। দেশে-বিদেশে নানা প্রলোভন ও শোষণের মুখে শ্রমিকেরা বারবার নিপীড়িত হচ্ছেন। বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থনীতির মূলধারা শ্রমিককে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা প্রায়শই অবহেলিত হয়। মুনাফাকেন্দ্রিক এই ব্যবস্থায় শ্রমিকদের পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্য দেয়া হয় না। নিম্ন মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারে বাধা প্রদান এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমিকরা দীর্ঘসময় কাজ করেও তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই চোখে পড়ে না। পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

তারা বলেন, সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনারাই হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ
মিত্র। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক শ্রমব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। আসন্ন শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক সমাবেশ, প্রচারাভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয় সভায়।

সভা শেষে এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, “শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। আমরা ইসলামি শ্রমনীতির আলোকে এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সহ সভাপতি সরকার নাহারুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মীবৃন্দরা।

এশিয়ান টেলিভিশনের নতুন চেয়ারম্যান রূপায়ন গ্রুপের লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ​

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
এশিয়ান টেলিভিশনের নতুন চেয়ারম্যান রূপায়ন গ্রুপের লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ​

বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এশিয়ান টিভি-র পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​পর্ষদ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত

​এশিয়ান টেলিভিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় টেলিভিশনটির সকল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করেন যে, তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এশিয়ান টেলিভিশন গণমাধ্যম জগতে আরও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবে।

​বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও নেতৃত্ব

​নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল দেশের আবাসন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও গণমাধ্যম ও ব্যবসায়ী মহলে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি বর্তমানে:

​জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর চেয়ারম্যান।

​দেশ রেডিও-র চেয়ারম্যান।

​অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর একজন নির্বাচিত পরিচালক।

​আবাসন ও গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্ব এশিয়ান টেলিভিশনের হাল ধরায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনী ও দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তার সৃজনশীল নেতৃত্বে এশিয়ান টেলিভিশন তথ্য ও বিনোদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২১৪ বছরের লড়াই শেষে পাওয়া লাল-সবুজ পতাকায় আর শোষণ দেখতে চাই না: আল্লামা মামুনুল হক

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
২১৪ বছরের লড়াই শেষে পাওয়া লাল-সবুজ পতাকায় আর শোষণ দেখতে চাই না: আল্লামা মামুনুল হক

মাদারীপুর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাদারীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) মাদারীপুরে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

​শোষণের বিরুদ্ধে ২১৪ বছরের সংগ্রাম

​বক্তব্যের শুরুতে আল্লামা মামুনুল হক বাংলাদেশের স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা যে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি, তা দীর্ঘ ২১৪ বছরের সংগ্রামের ফসল। ১৯০ বছর ইংরেজদের বিরুদ্ধে, ১০০ বছর কোলকাতার দাদাবাবুদের প্রথা ও দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ২৪ বছর পাকিস্তানের পিন্ডির খান বাহাদুরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।”

​তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ ভেবেছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পেলে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে শুধু শাসক বদলেছে, শোষক বদলায়নি। স্বদেশী শাসকদের হাতেই এদেশের মানুষ গত ১৭ বছর অত্যাচারিত ও শোষিত হয়েছে, হারিয়েছে ভাত ও ভোটের অধিকার।”

​জুলাই বিপ্লব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

​২০২৪ সালের রক্তঝরা জুলাই বিপ্লবকে ইতিহাসের এক অনন্য মোড় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখনই ৪ কোটি ছাত্র-ছাত্রী রাজপথে নেমে আসে। প্রায় দেড় হাজার শহীদের রক্ত আর হাজার হাজার ছাত্রের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে পর্দার আড়ালে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু এ দেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রকে ফিরতে দেওয়া হবে না।”

​১১-দলীয় জোটের অঙ্গীকার ও প্রতীক হস্তান্তর

​আল্লামা মামুনুল হক জানান, ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বরং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিতে এই ১১-দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। তিনি জোটের মূল লক্ষ্য হিসেবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।

​জনসভা শেষে তিনি মাদারীপুর-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান খানের হাতে ‘রিকশা’ প্রতীক এবং মাদারীপুর-৩ আসনের প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলামের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

​উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

​মাদারীপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জোট প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান খান ও রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা সেক্রেটারি এনায়েত হোসেন, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জোট নেতারা।

​বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত নেত্রকোণার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলি

মামুন রণবীর | নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত নেত্রকোণার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলি

প্রিয়তমা সিনেমার বিখ্যাত ঈশ্বর গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন গীতিকার সোমেশ্বর অলি।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষিত হয়। এই তালিকায় শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সোমেশ্বর অলি।

হিমেল আশরাফ পরিচালিত ও আরশাদ আদনান প্রযোজিত শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার বহুল প্রশংসিত গান ঈশ্বর।

এই গান মুক্তির পর থেকেই দর্শক শ্রোতার মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং গানটির কথার গভীরতা ও আবেগপূর্ণ প্রকাশ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

ঈশ্বর গানের মাধ্যমে প্রেম, বেদনা ও আত্মসংঘাতের অনুভূতি সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেন গীতিকার সোমেশ্বর অলি, যা সিনেমাটির গল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সেইসঙ্গে সব শ্রেণীর দর্শকদেরকে এই গান প্রিয়তমা সিনেমা দেখতে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে।

সোমেশ্বর অলি বলেন, রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি অনেক বড় ব্যাপার। এই প্রাপ্তি আরও বড় হয় যখন কাছের মানুষ, বন্ধু, পরিবার, সহকর্মী বা দূরের মানুষরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ মানুষ নই। সবকিছুতে ইমোশন সংযম বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

অলি বলেন, জুরি বোর্ডের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, কারণ তারা অনেক গানের মধ্যে ঈশ্বরকে যোগ্য মনে করেছেন। সেই সঙ্গে পরিচালক, প্রযোজক এবং শিল্পীদেরও কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কৃতি সন্তান সোমেশ্বর অলির এই অর্জনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।