খুঁজুন
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

রাজশাহীতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ২, আহত অর্ধশত

মোহাইমিনুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহীতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাস খাদে, নিহত ২, আহত অর্ধশত

রাজশাহীর খড়খড়ি এলাকায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি ট্রাকের সঙ্গে দুইটি বাসের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় একটি বাস ছিটকে রাস্তার পাশের খাদে পানির মধ্যে উল্টে যায়। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনায় নাসিম ও জুয়েল নামের দুইজন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন অর্ধশত। যাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুত্বর। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নেতবৃন্দ। মহানগর জামায়াতের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার জানান, দুইটি বাসে প্রায় ৯০ জন যাত্রী ছিলেন। যাদের সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ইউনিয়ন শাখা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থক। প্রয়াত জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কবর জিয়ারত করতে পিরোজপুর যাচ্ছিলেন তারা।

তিনি বলেন, দুই বাসের অর্ধশত যাত্রী আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২০ জনকে হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে নাসিম ও জুয়েল নামের দুইজন জামায়াত কর্মী মারা গেছেন। তবে তাৎক্ষনিকভাবে তাদের গ্রামের নাম জানাতে পারেননি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আরিফুল ইসলাম জানান, রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে সামনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি ছিটকে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকটি পিছনের বাসে ধাক্কা খায়। এতে ওই বাসটিরও এক পাশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে আগুন লেগে যায়। পরে দ্রুত যাত্রীরা নেমে গিয়ে আগুন নিয়ে দেয় এবং খাদে পড়ে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া বাস থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা গিয়ে খাদে পড়ে থাকা বাস থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছি। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত সাতজনকে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছি। তবে আমার পৌছার আগে স্থানীয় লোকজন বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কায়সার কামাল দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উভয় উপজেলাতেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪৮৮ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার আপামর জনসাধারণের বিজয়।

তিনি বলেন, এই বিজয় হচ্ছে মানবিকতার বিজয়। আমি আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলেছিলাম, অনেকের হাতে আছে দুর্নীতি বা ভিন্ন ধরনের পতাকা। আর আমাদের হাতে আছে সততার পতাকা,মানবিকতার পতাকা। আমি বলেছিলাম, যদি জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেন, মহান আল্লাহ কবুল করেন আমরা কখনোই কোন বিজয় মিছিল করবো না। আমরা শুকরিয়া নামাজ আদায় করবো। পাশাপাশি আমাদের দলের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা রয়েছেন তারা প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, প্রতিহিংসা ছিলো না। এখন বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ।

তিনি বলেন, বিজয় আমার একার না,এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সর্বস্তরের জনগণের বিজয়।

এদিকে দুর্গাপুর-কলমাকান্দার নানা শ্রেণীপেশার নাগরিক নির্বাচনের এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা এবার অবহেলিত এই জনপদের কাঙ্খিত উন্নয়ন দেখতে চান।

মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী (পীর সাহেব চন্ডিবদী) তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

​নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি মাদারীপুর ও রাজৈরকে বাংলাদেশের ‘ইনসাফ ও উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও জনসেবামূলক কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

​ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

​মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১৪টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন:

​দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল: সকল স্তরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জবরদখল, মাদক ও ঘুষ চিরতরে বন্ধ করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হবে না।

​মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের জন্য ঘুষবিহীন চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে। তদবির নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

​ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে। রাজৈর উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে চিকিৎসাবান্ধব করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

​ দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে পাঁচখোলা ও চরলক্ষীপুরবাসীর যোগাযোগের জন্য দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

​ বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা হবে। সাম্য, মানবিকতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর পার্থক্য দূর করে সবাইকে ‘নাগরিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর।আমার ইশতেহারের আমি যা বলেছি তা পালন করতে না পারি তাহলে আমি দুই বছরের ভিতর পদত্যাগ করব ইনশাল্লাহ।

মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

মাদারীপুর-২ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম।

​সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুর শহরের ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্কের মুক্তমঞ্চে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর আগে ধানের শীষের সমর্থনে শহরে একটি বড় মিছিল বের করা হয়।

​বৃহত্তর স্বার্থে এক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

​সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, “দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে আমি জাহান্দার আলী জাহানের পক্ষে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমি এবং আমার সমর্থকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

​সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

​সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান। বক্তব্য রাখেন:

​কাজী হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য।

​অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হাওলাদার, মিজানুর রহমান মুরাদ, অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠুসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

​পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ

​শকুনি লেক পার্ক এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যারিস্টার শহিদুলের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি একত্রিত হওয়ায় এই আসনে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

​স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই প্রকাশ্য সমর্থনে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নতুন করে উৎসাহ দেখা দিচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।