খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হলেন হত্যা মামলার আসামী,জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোণা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হলেন হত্যা মামলার আসামী,জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাম্প্রতিক একটি সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনীতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গত ২২ মে সন্ধ্যার পর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগর এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহতের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে আরও অন্তত ছয়জন আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনার সময় বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ২৪ মে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮০-৯০ জনকে আসামী করে নিহতের ভাই খাইরুল ইসলাম মামলা দায়ের করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমানের পক্ষে তার কর্মী-সমর্থকরা দুর্গাপুর পৌর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিলবোর্ড লাগাতে যান। পরে সেখানে বিএনপির কিছু লোকজন বাধা দেয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে ঘটনা বড় আকার ধারণ করে।

এই ঘটনা বর্তমানে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এই মামলায় পুলিশ ১৬ নং আসামী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে৷ ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় তাজুল ইসলাম ঘটনার সময় দুর্গাপুর উপজেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি তখন নেত্রকোণা সদরে ছিলেন। সেখানকার বিভিন্ন দোকানে ওইসময়ে তার কেনাকাটার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ফলে এটি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তিনি একটি মুদি দোকান ও অপর একটি ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ঔষধ ক্রয় করছিলেন। ফেসবুকে এই ভিডিও শেয়ার করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকরা বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা এই নেক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে। মামলায় ১২ নং আসামী করা হয় দুর্গাপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আল ইমরান সম্রাট গণিকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়,তিনি ঘটনার সময় দুর্গাপুর পৌর শহরে অবস্থান করছিলেন। সেসময় তিনি অন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌর বিএনপির সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করা একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়,সম্রাট গণি দলের সাংগঠনিক কাজে সবসময়ই তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সেদিন রাত পর্যন্ত সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক নানা কাজে খুব ব্যস্ত ছিলেন। মূলত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে।

মামলার ১৭ নং আসামী,যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন গত দেড়মাসেরও বেশি সময় যাবত মানিকগঞ্জে পেশাগত কাজে অবস্থান করছেন। তাকেও এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনার সময় পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সালমান মুক্তাদির দুর্গাপুর শহরের আত্রাখালী ব্রীজ সংলগ্ন নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিয়াজ ইলেকট্রনিকসে ছিলেন। ঘটনা সম্পর্কে তিনি রাতে জেনেছেন। তাকেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। রিয়াজ ইলেকট্রনিকসের পার্শ্ববর্তী দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন,সেদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সালমান মুক্তাদির নিজ দোকানেই ছিলেন। দোকানে কাস্টমারদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন।

এই মামলার আসামী সেকুল মেম্বার ঘটনার সময় একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজা পড়ে এসে তিনি ঘটনা সম্পর্কে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অবগত হন। তাকেও ফাঁসানো হয়েছে এই হত্যা মামলায়। স্থানীয় বাসিন্দা মো: হারুন মিয়া বলেন,সেকুল মেম্বার বরুইগঞ্জ বাজারে আব্দুল জব্বার মেম্বার এর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং দাফন কাফন শেষ হবার পর তিনি বাজারে এসে সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে জানতে পারেন।

বিএনপির দু:সময়ের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে ২৬মে দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার নারী সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার হাজারো নারী অংশগ্রহণ করেন। এতে তারা এই মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি দেবার ঘোষণা দেন।

এই মামলাকে ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসামূলক মনে করছেন নারী নেত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলেন,বিএনপির দু:সময়ের নেতাকর্মীদের নামে একটি কুচক্রী মহল হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের। আমি এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী সোচ্চার ছিল তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মিথ্যা মামলা করেছে। জামাল মাস্টার সহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদের সকলেই সামাজিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তি।
মামলা দিয়ে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করার এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলার বাদী খাইরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুর্গাপুর থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন,এই মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই হত্যা মামলার ব্যাপক তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে৷

ঠাকুরগাঁওয়ে টুম্পা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে টুম্পা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের ঘনি বিষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা মোছা:টুম্পা মনি পিতা:- মোঃ সাদেকুল ইসলাম

মাতা:- মোছাঃ আসমা বেগম
জন্মতারিখ- ২২/১০/১৯৯৩
ঠিকানা:- ঘনি বিষ্ণপুর, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও

লাস্যময়ী টুম্পা মনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোকানদার এবং কি ধনী লোককে ফাঁদে ফেলে টাকা নিয়ে টাকা আর দেয় না।টাকা চাইলে পরবর্তীতে উল্টা আরো হুমকি ধামকি দেয়।
এই মহিলা কে বিভিন্নভাবে আবু নামে একজন সহযোগিতা করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা প্রশাসনিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাংশ বলছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত টুম্পার সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলেও টুম্পা এব্যাপার এ কোন বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের আগে যথাযথ প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অনুসরণ জরুরি। তারা বলছেন, এতে যেমন প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে, তেমনি কারও সম্মানহানির ঝুঁকিও কমবে।
প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর আহ্বান অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ডাসারে গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ‎​

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
ডাসারে গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ‎​

মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “গ্রাম আদালতের সকল নথি ও রেজিস্টার সর্বদা হালনাগাদ রাখতে হবে। আমি নিজে এখন থেকে নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করে এই নথিগুলো যাচাই করব।”

‎​ইউএনও আরও জোর দিয়ে বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কোনো মামলা বাইরে সালিশ করা যাবে না। সকল বিচারিক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত এজলাসেই সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতন করতে স্থানীয় হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘আউটরিচ’ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতি মাসে অন্তত পাঁচটি করে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সঠিক বিচার পায়।

‎​সভায় প্রকল্পের ডাসার ও কালকিনি উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন বিগত তিন মাসের (জানুয়ারি ২০২৬ হতে মার্চ ২০২৬) কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত তিন মাসে ডাসার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ৫২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৫২টি মামলাই সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে সর্বমোট ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

‎​বিগত তিন মাসে ১৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে বিশেষ কৃতিত্ব দেখানোর জন্য বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

‎​”অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রান্তিক মানুষের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

চরপাকেরদহ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সাবেক চেয়ারম্যান মজনু মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
চরপাকেরদহ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সাবেক চেয়ারম্যান মজনু মিয়া

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আগামী ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সাবেক সফল চেয়ারম্যান  অবঃ সেনা নায়েক  বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মোঃ মজনু ফকির।  রোববার বিকালে শাহ্ মোঃ মজনু ফকির এর ফেসবুক আইডি থেকে চেয়ারম্যান পদে নিজের অতিত জিবনীসহ একটি স্ট্যাটাস দেন।  ফেসবুক পোস্টে তিনি ইউনিয়নবাসী কে সেবা করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান পদে  জানান দেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন….

প্রিয় ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নবাসী আস সালামু আলাইকুম…….. ।

আমি –
বীর মুক্তিযোদ্ধা – শাহ্ মোঃ মজনু মিয়া

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করছি।

আমার কিছু কথা নিচে বর্ণনা করছি।

অতীতে যা করেছি –

→ আমি জীবনবাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধকরে উপহার দিয়েছি একটি দেশ। সেই স্বাধীন দেশে বাস করে সকল নাগরিক তদের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সশস্ত্র বাহিনীতে আমার জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয়করে দেশ গড়েছি ও দেশের সেবা করেছি।

→ থানা মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার থাকা কালীন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অনেক কাজ করেছি।

→ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সাধ্যমত সকল বৈধ কাজে অংশগ্রহন করেছি ও  নিজের পেনশনের টাকা, মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও সংসারের উপার্জিত টাকার অধিকাংশই সাধারন মানুষের কল্যাণে ও সেবায় ব্যয় করেছি।

→ বর্তমানে মাদারগঞ্জ থানা বিএনপির সফল সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

আল্লাহর রহমতে ও  ইউনিয়নবাসীর প্রিয় ভোটারদের  ভোটে রায় নিয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ পেলে যা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি-

* প্রথমেই মহান আল্লাহ তা আলার প্রতি পূর্ণ আস্তা ও বিশ্বাসের উপর চলমান থাকা।

* ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিচার সহ  সমাজের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা।

* সুদ-ঘুষমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েমের চেষ্টা করা।

* সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ও মাদক ব্যবসা মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

* নারীর অধিকার বাস্তবায়নঃ সমাজের অর্ধেক নারী তাদের নিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার মাধ্যমে সমাজের সকল উন্নয়ন ও সাধারন কাজে সম্পৃক্ততা করা।

* এলাকার নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারি, বেসরকারি ও সকল সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ সহ নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের জীবন মান স্বাভাবিক করা।

* এলাকার উন্নয়ন যেমন – রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও অবকাঠামোগত আধুনিকতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা। 

* শিক্ষা ক্ষেত্রে – আধুনিক শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান, আইটি ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা, ইসলামী শিক্ষা  ও অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষা সহ শিক্ষার মান, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞান আইটি ও তথ্য প্রযুক্তির সরঞ্জাম সহ সঠিক ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাবতীয় সহযোগীতা ও বাস্তবায়ন করা।

* স্বাস্থ্য খাতে সরকারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে সচল ও সঠিক ভাবে পরিচালনার পাশা পাশি ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল স্থাপন করে জরুরী সেবা প্রদানের উদ্যোগ ও একটি জরুরী এম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্দোগ নেওয়া হবে।

* সামাজিক নিরাপত্তা- প্রতিটি মানুষ সে যে শ্রেনীর হোক, যে পেশারই হোক, সে যে ধর্মেরই হোক প্রত্যকের সামাজিক নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা হবে। কোন পেশী শক্তির কাছে কোন নিরহ ও সাধারন মানুষকে অন্যায়ের শিকার হতে দেওয়া হবে না।

* অত্যাধুনিক আইটি ও নেটওয়ার্ক সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রনে আওতায় আনা হবে।

* ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা খুলে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হবে, বিশেষ করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকের অর্থ জমা রাখা ও বিদেশীদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ সেবার ব্যবস্থা করা।

খেলাধুলাঃ  খেলাধুলার জন্য ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও ওয়ার্ড ভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করা ও খেলার যাবতীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হবে। 

সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিকঃ সুষ্ঠু ধরার সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

→ প্রশিক্ষণঃ সচেতনতামূলক, প্রেরণামূলক, সতর্কতামূলক ও অন্যান্য সকল প্রকার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক ন্যায় নীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থ নিরাপত্তা ও অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

নাগরিক সেবাঃ যেমন- → পরিচয় পত্র, জন্মসনদ, প্রত্যায়ন পত্র, চারিত্রিক সনদ ও অন্যান্য যে কোন প্রয়োজনীয় কাগজ সম্পর্কিত ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দেওয়া হবে।

→গ্রাম আদালত ও শালিশের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ছোট খাটো বিচার গুলোর ন্যায় ভিত্তিক সমাধান করা।

→ জমি-জমা সম্পর্কিত যে কোন সমস্যা ন্যায়বিচার ভিত্তিক স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ, আইন সিদ্ধ উকিল ও প্রতিনিধি গণের সমন্নয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

→ সকল প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে, যারা সাধারন ও খেটে খাওয়া মানুষ যেন সহজভাবে আইনি সহয়তা পায় তার সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হবে।

→ যে কোন জরুরী অবস্থা যেমন- বন্যা, খরা, ঘুর্নিঝড়, ভুমিকম্প, আগুন লাগা ও অন্যান্য যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জরুরী ফান্ড ও সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা করা হবে।

→ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরকারী, বেসরকারী ও প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিকায়ন ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ পূর্বক সেবা নিশ্চিত করা।

ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ সহ অত্র ইউনিয়নের মধ্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গগণ সহ একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ও এলাকা ভিত্তিক উপ কমিটি তৈরি করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘব করে সকল সেবা জন সাধারনের খুব কাছে নেওয়া হবে।

সরকারী সকল অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারী ভাবে সহযোগিতা, নিজ ইচ্ছায় সহযোগীতা ও পারিবারিক ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগীতা ও সুষ্ঠু  বন্টনের  মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা হবে ইনাশাআল্লাহ।

মহান আল্লাহ এই সৎ উদ্যোগকে কবুল করুন আমিন।আমি একজন মানুষের খাদেম হিসেবে জীবনের বাকি সময়ে উপরোক্ত শেষ ইচ্ছাগুলো পূরণ করার জন্য আপনাদের সহযোগীতা ও সমর্থনের জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।