খুঁজুন
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

রাকসু নির্বাচন

নির্বাচনী বিতর্কে নানা প্রতিশ্রুতি ভিপি- জিএস প্রার্থীদের

ত্বাসীন সিদ্দিকা রূপা
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী বিতর্কে নানা প্রতিশ্রুতি ভিপি- জিএস প্রার্থীদের

রাজনৈতিক সচেতন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা, ফ্যাসিবাদী নীতির বাইরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক জায়গাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদার বাস্তবায়ন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, গবেষণা, নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রতি উদ্বুদ্ধ করাসহ নির্বাচনী বিতর্কে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাকসু নির্বাচনের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থীরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই নির্বাচনী বিতর্ক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন রাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার। রাকসু নির্বাচন নিয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ফোরামের (আরইউডিএফ) সহযোগিতায় এই বিতর্কের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

বির্তকের প্রথম সেশনে রাকসুর ৯ জন ভিপি পদপ্রার্থীদের নিয়ে চারটি ধাপের মধ্যে দিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রথম ধাপে সব প্রার্থী তারা নির্বাচিত হলে কী করবেন?, দ্বিতীয় ধাপে তিনটি প্রশ্নের উত্তর, তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সবশেষে ছিল কনক্লুশন। এরপর দ্বিতীয় সেশনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থীদের নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

বিতর্কে অংশ নিয়ে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আমরা যে প্যানেলটি গঠন করেছি সেটি একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল। চাইলে শুধু ছাত্রশিবিরের সদস্যদের নিয়েই প্যানেল গঠন করতে পারতাম, কিন্তু আমরা তা করিনি—বরং বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে প্যানেল দিয়েছি। আমাদের প্যানেলে যেমন ‘জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা’ আছেন, তেমনি আছেন নারী প্রার্থীও। আমরা যে ইশতেহার প্রকাশ করেছি, তা ১২ মাস মেয়াদী হলেও ইনশাআল্লাহ ৬ থেকে ৭ মাসেই অধিকাংশ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

বাম সমর্থিত ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “রাকসুকে আমরা গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখি। জুলাই আন্দোলনেও আমরা ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম। নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও খাদ্যসংকট নিরসন, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেল গঠন এবং রাকসুকে একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেব। আমাদের লক্ষ্য একটি ভয়ভীতিহীন, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তৈরি করা।”

রাকসু নির্বাচনে একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সচেতন শিক্ষার্থীদের জায়গা। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে মুখরোচক ইশতেহার দিইনি। রাকসুর মাধ্যমে যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলোই রেখেছি আমাদের ঘোষণায়।
আমাদের ১২টি বাস্তবসম্মত ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান। নির্বাচিত হলে আবাসন সংকট দূরীকরণ, ভর্তি নীতিমালা সহজীকরণ, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সবচেয়ে বড় বিষয়—এবারের রাকসুর মাধ্যমে উপাচার্য নির্বাচন পুনরায় চালু করা।”

রাকসু ফর র‍্যাডেক্যাল চেইঞ্জ প্যানেলের
ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন,
“রাকসুর মাধ্যমেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক এক্সিলেন্স বা শিক্ষার উৎকর্ষতা অর্জন করতে পারি। এজন্য দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে রাকসুকে প্রকৃত অর্থে সক্রিয় করা সম্ভব।”

স্বতন্ত্র ভিপিপ্রার্থী নোমান ইমতিয়াজ বলেন, “রাকসু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া উচিত। আমার একমাত্র প্রতিশ্রুতি হলো—শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই আবাসন সমস্যার সমাধান জরুরি।”

ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি ভিপি পদপ্রার্থী মাসুদ কিবরিয়া বলেন,
“আমার মতে, প্রতিটি নির্বাচনই রাজনৈতিক। তবে আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন বুঝতে পারে তাদের অধিকারগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে রাকসুকে ব্যবহার করব। রাকসুকে কেন্দ্র করে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণের অংশ।”

ভিপি পদপ্রার্থী তাওহীদুল ইসলাম বলেন,
“রাকসুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে আমার প্রথম দাবি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন, লাইব্রেরি সংস্কার এবং মানসম্মত গবেষণা পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য রাকসুকে সক্রিয় করা হবে। রাকসুকে কেন্দ্র করে একটি শিক্ষার্থী-অধিকারভিত্তিক আন্দোলনধর্মী কাঠামো তৈরি করতে চাই।”

ভিপি প্রার্থী মাহবুব আলম বলেন,
“রাকসু নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি আমরা একটি ১৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করব যাতে আবাসন সংকট খাদ্যের মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সুবিধা, ও বিভাগভিত্তিক সমস্যা সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি বিভাগে একজন করে প্রতিনিধি রেখে রাকসুর সব দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরুল্লাহ নূর বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক ও প্রাইভেট পলিসি তৈরি করব, যাতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান হয়। মাদক প্রতিরোধে এন্টি-ড্রাগ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম চালু করা হবে, এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে। রাকসুকে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সামাজিক দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চাই।”

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কায়সার কামাল দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উভয় উপজেলাতেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪৮৮ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার আপামর জনসাধারণের বিজয়।

তিনি বলেন, এই বিজয় হচ্ছে মানবিকতার বিজয়। আমি আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলেছিলাম, অনেকের হাতে আছে দুর্নীতি বা ভিন্ন ধরনের পতাকা। আর আমাদের হাতে আছে সততার পতাকা,মানবিকতার পতাকা। আমি বলেছিলাম, যদি জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেন, মহান আল্লাহ কবুল করেন আমরা কখনোই কোন বিজয় মিছিল করবো না। আমরা শুকরিয়া নামাজ আদায় করবো। পাশাপাশি আমাদের দলের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা রয়েছেন তারা প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, প্রতিহিংসা ছিলো না। এখন বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ।

তিনি বলেন, বিজয় আমার একার না,এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সর্বস্তরের জনগণের বিজয়।

এদিকে দুর্গাপুর-কলমাকান্দার নানা শ্রেণীপেশার নাগরিক নির্বাচনের এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা এবার অবহেলিত এই জনপদের কাঙ্খিত উন্নয়ন দেখতে চান।

মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী (পীর সাহেব চন্ডিবদী) তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

​নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি মাদারীপুর ও রাজৈরকে বাংলাদেশের ‘ইনসাফ ও উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও জনসেবামূলক কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

​ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

​মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১৪টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন:

​দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল: সকল স্তরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জবরদখল, মাদক ও ঘুষ চিরতরে বন্ধ করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হবে না।

​মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের জন্য ঘুষবিহীন চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে। তদবির নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

​ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে। রাজৈর উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে চিকিৎসাবান্ধব করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

​ দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে পাঁচখোলা ও চরলক্ষীপুরবাসীর যোগাযোগের জন্য দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

​ বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা হবে। সাম্য, মানবিকতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর পার্থক্য দূর করে সবাইকে ‘নাগরিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর।আমার ইশতেহারের আমি যা বলেছি তা পালন করতে না পারি তাহলে আমি দুই বছরের ভিতর পদত্যাগ করব ইনশাল্লাহ।

মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

মাদারীপুর-২ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম।

​সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুর শহরের ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্কের মুক্তমঞ্চে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর আগে ধানের শীষের সমর্থনে শহরে একটি বড় মিছিল বের করা হয়।

​বৃহত্তর স্বার্থে এক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

​সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, “দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে আমি জাহান্দার আলী জাহানের পক্ষে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমি এবং আমার সমর্থকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

​সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

​সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান। বক্তব্য রাখেন:

​কাজী হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য।

​অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হাওলাদার, মিজানুর রহমান মুরাদ, অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠুসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

​পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ

​শকুনি লেক পার্ক এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যারিস্টার শহিদুলের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি একত্রিত হওয়ায় এই আসনে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

​স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই প্রকাশ্য সমর্থনে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নতুন করে উৎসাহ দেখা দিচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।