খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, সন্তানসহ নিরাপত্তাহীনতায় বিধবা নারী

দিনাজপুর শহরে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ভরণ-পোষণ না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক বিধবা নারী।
অভিযোগকারী মোছাঃ হোসনে আরা হাসি (৩৭) দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে মৃত রবিউল ইসলামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, যার বয়স বর্তমানে ১০ বছর।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে ও সন্তানকে শহরের একটি ভাড়া বাসায় রেখে সংসার পরিচালনা করতেন। গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রবিউল ইসলাম স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তার দেবর, স্বামীর প্রথম স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনেরা তাকে এবং তার শিশুসন্তানকে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার পুলহাট এলাকায় অবস্থিত স্বামীর মালিকানাধীন “পূরবী হাসকিং মিল” ও মিলের লাইসেন্স নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে স্বামীর মৃত্যু সনদপত্রও তাকে দেওয়া হচ্ছে না।
হোসনে আরা হাসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও তার ছেলে আইনগতভাবে মৃত রবিউল ইসলামের উত্তরাধিকারী হলেও তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নামে ওয়ারিশ সনদপত্র তৈরি বা প্রস্তুতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া, সন্তানের ভরণ-পোষণ ও নিজের ন্যায্য প্রাপ্য দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি তার শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ভরণ-পোষণ ও সম্পত্তির অংশ দাবি করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মারধর ও খুনজখম করারও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কোতোয়ালী থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
কালকিনিতে গ্রাম আদালতের ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের নিয়ে ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎​উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সাইফ-উল-আরেফীন-এর সভাপতিত্বে সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

‎​সভায় ইউএনও বলেন, গ্রাম আদালতের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ মানুষের জন্য স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের নথি ও রেজিস্টার হালনাগাদ রাখতে হবে। কোনোভাবেই গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা ব্যক্তিগত সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে না; বরং এজলাসে বসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।তিনি আরও জানান, ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা গ্রাম আদালতের রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৬টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন তিনি।

‎​সভায় বিগত তিন মাসের (জানুয়ারি ২০২৬ হতে মার্চ ২০২৬) অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত তিন মাসে কালকিনি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সরাসরি ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত থেকে ২টি মামলা এসেছে। এই সময়ে মোট ৬৬টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

‎​বিগত কোয়ার্টারে সফলভাবে মামলা নিষ্পত্তির জন্য পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়ন (২২টি মামলা) এবং চরদৌলতখান ইউনিয়ন (১৯টি মামলা) পরিষদের হিসাব সহকারীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।

‎​উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “আমি এখন থেকে নিয়মিত প্রতিটি ইউনিয়ন ভিজিট করব এবং সরাসরি রেজিস্টার চেক করব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।”

‎​‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তৃণমূল পর্যায়ে বিচারিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বীরাঙ্গনা টেপরী বেওয়া আর নেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
বীরাঙ্গনা টেপরী বেওয়া আর নেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা টাওয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই। গত সোমবার (১২ মে) রাতে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানা যায়, টেপরী রাণী ছিলেন বলিদ্বারা গ্রামের মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ চলাকালে রাণীশংকৈল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর অভিযানের সময় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেয়া এই নারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব আত্মত্যাগের প্রতীক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সমাজের অবহেলা ও কষ্ট বয়ে বেড়ালেও তিনি মাথা নত করেননি। তাঁর ছেলে সুধীর রায় (৫০) একজন যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত টেপরী রাণী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বেদনা বয়ে নিয়ে গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় তাঁর নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডি আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “জাতির শ্রেষ্ঠ এই সাহসী নারী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।”

স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হলেও টেপরী রাণী ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সংগ্রামী একজন নারী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

রাণীশংকৈলে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বৈশাখী মেলার  উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
রাণীশংকৈলে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বৈশাখী মেলার  উদ্বোধন

জেলা প্রতিনিধি :বাংলার হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও উৎসবের চিরচেনা আবহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা।

বর্ণিল আয়োজন, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৩৩তম বৈশাখী মেলা।

সোমবার (১১ মে) রাত ৯টায় পৌর শহরের ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১০ দিনব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শাহাজাহান আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলার মূল ফটকে ফিতা কেটে এবং মাঠের ভেতরে বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে ঐতিহাসিক এ মেলার উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক সাংসদ জাহিদুর রহমান।