দিনাজপুরের রাকিব: মৌ চাষে তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্য
দিনাজপুরের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের তরুণ রাকিব হাসান রিফাত এখন জেলার উদীয়মান যুব উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা। ২০২১ সালে মাত্র ১০টি মৌবক্স নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজ তার খামারে শতাধিক মৌবক্সে মধু উৎপাদন হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘তারুণ্য হানি ফার্ম’ থেকে উৎপন্ন হচ্ছে খাঁটি মধু, যা সংগ্রহ করা হয় লিচু বাগান, তিলখেত, কালোজিরা ও সরিষার খেত থেকে। এমনকি ড্রাগন ফল বাগানেও মৌবক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করা হচ্ছে।
শুরুতে ১০ কেজি মধু বিক্রি করাই ছিল চ্যালেঞ্জ, আজ সেখানে চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে। এখন এই উদ্যোগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০-২৫ জন যুবক নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। রাকিব নিজে একজন কলেজপড়ুয়া—কে.বি.এম কলেজের ডিগ্রি (পাস) শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।
রাকিব জানান, “পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করার ইচ্ছে থেকেই শুরু। অন্যের খামারে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে শিখেছি। এখন মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করছি। পরিবারকে সহায়তা করতে পারছি, স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”
রাকিবের অনুপ্রেরণায় তার বন্ধু ফিরোজ, মাসুদ, মাহফুজ ও মুন্নাও মৌ চাষ শুরু করেছেন। ফিরোজ বলেন, “প্রতি মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করছি।” মাসুদ যোগ করেন, “শুরুতে ভয় ছিল, সংসার চলবে কি না। এখন বুঝি, এটি লাভজনক পেশা।”
তারা শুধু মধু বিক্রিতেই থেমে নেই, বরং মোমজাত পণ্য তৈরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন। এই তরুণরা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে মৌচাষের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন নিজেরা প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছেন।
বিসিক দিনাজপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম বলেন, “মৌ চাষ তরুণদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খাত। মধুর পাশাপাশি মোমজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে, যা আত্মকর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখছে।”

