খুঁজুন
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলানো নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

নুরুন্নবী আদর |তারাগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি।
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ণ
তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলানো নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ০৫নং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) সেবা নিতে এসে অপেক্ষার পর চেয়ারম্যান ও সচিবকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সেবাপ্রার্থীরা ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার (সচিব) কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।

তারাগঞ্জ উপজেলার ০৫ নং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদে গতকাল মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় এই ঘটনা ঘটে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলট ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাহারুল ইসলাম নিয়মিত অফিসে না থাকায় এতে সেবা নিতে এসে অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হয় সেবাপ্রার্থীদের।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন পাইলট। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেবাপ্রার্থীরা তালা লাগাননি। তালা লাগিয়েছেন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করার জন্য তাঁরা এ কাজ করেছে। আমি নিয়মিত পরিষদে আসি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউপি কার্যালয়ে তালা লাগানোর সময়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের তারাগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আক্তারুজ্জামান বলেন, সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আল ইবাদত হোসেন ও সচিব মোজাহারুল ইসলাম প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ কারণে সেবাবঞ্চিত জনগণ ক্ষোভ থেকেই তাঁদের কক্ষে তালা লাগিয়েছে, এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় ছিলো না।

এনসিপি উপজেলার সমন্বয়ক মোতাসিম বিল্লা বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি শত মানুষের জটলা। সেবা না পেয়ে জনতা চেয়ারম্যান ও সচিবের কার্যালয়ে তালা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ইউপি সচিব মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে নারী সদস্য রোকেয়া খাতুনের শ্বশুরের কুলখানিতে আমরা সবাই পায়ে হেঁটে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরাও সেখানে ছিলেন, এটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। আমরা অনুপস্থিত থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ ছিল না। চেয়ারম্যান ও সচিব অনুপস্থিত, এ অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি তৈরি করে দৃষ্টিগোচরে আনার চেষ্টা হয়েছে।

বিষয়টি নজরে আনা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদের তালা লাগানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তাই বেলা সাড়ে তিনটায় তালা ভেঙে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী ওই সময় অনুপস্থিত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতিহিংসা ছিল না, এখন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কায়সার কামাল দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উভয় উপজেলাতেই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪৮৮ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার আপামর জনসাধারণের বিজয়।

তিনি বলেন, এই বিজয় হচ্ছে মানবিকতার বিজয়। আমি আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে বলেছিলাম, অনেকের হাতে আছে দুর্নীতি বা ভিন্ন ধরনের পতাকা। আর আমাদের হাতে আছে সততার পতাকা,মানবিকতার পতাকা। আমি বলেছিলাম, যদি জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেন, মহান আল্লাহ কবুল করেন আমরা কখনোই কোন বিজয় মিছিল করবো না। আমরা শুকরিয়া নামাজ আদায় করবো। পাশাপাশি আমাদের দলের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা রয়েছেন তারা প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, প্রতিহিংসা ছিলো না। এখন বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ।

তিনি বলেন, বিজয় আমার একার না,এই বিজয় দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সর্বস্তরের জনগণের বিজয়।

এদিকে দুর্গাপুর-কলমাকান্দার নানা শ্রেণীপেশার নাগরিক নির্বাচনের এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা এবার অবহেলিত এই জনপদের কাঙ্খিত উন্নয়ন দেখতে চান।

মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী আলী আহমাদ চৌধুরীর ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী (পীর সাহেব চন্ডিবদী) তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন।

​নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি মাদারীপুর ও রাজৈরকে বাংলাদেশের ‘ইনসাফ ও উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও জনসেবামূলক কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

​ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

​মাওলানা আলী আহমাদ চৌধুরী তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১৪টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন:

​দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল: সকল স্তরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জবরদখল, মাদক ও ঘুষ চিরতরে বন্ধ করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি বা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হবে না।

​মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের জন্য ঘুষবিহীন চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে। তদবির নয়, বরং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

​ ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে। রাজৈর উপজেলায় একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং মাদারীপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে চিকিৎসাবান্ধব করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

​ দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণে পাঁচখোলা ও চরলক্ষীপুরবাসীর যোগাযোগের জন্য দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

​ বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখা হবে। সাম্য, মানবিকতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর পার্থক্য দূর করে সবাইকে ‘নাগরিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরো বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর।আমার ইশতেহারের আমি যা বলেছি তা পালন করতে না পারি তাহলে আমি দুই বছরের ভিতর পদত্যাগ করব ইনশাল্লাহ।

মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

এস এম সোহাগ কাজী মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মাদারীপুর-২ জাহান্দার আলীকে সমর্থন দিলেন ব্যারিস্টার শহিদুল, ভোটের সমীকরণে নতুন মোড়

মাদারীপুর-২ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম।

​সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুর শহরের ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্কের মুক্তমঞ্চে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর আগে ধানের শীষের সমর্থনে শহরে একটি বড় মিছিল বের করা হয়।

​বৃহত্তর স্বার্থে এক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

​সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, “দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে আমি জাহান্দার আলী জাহানের পক্ষে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমি এবং আমার সমর্থকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

​সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

​সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান। বক্তব্য রাখেন:

​কাজী হুমায়ুন কবির, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য।

​অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হাওলাদার, মিজানুর রহমান মুরাদ, অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠুসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

​পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ

​শকুনি লেক পার্ক এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যারিস্টার শহিদুলের ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি একত্রিত হওয়ায় এই আসনে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

​স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই প্রকাশ্য সমর্থনে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নতুন করে উৎসাহ দেখা দিচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।