এক রাস্তার শহর নেত্রকোণা,যানজটে জনগণ অতিষ্ঠ
এক রাস্তার শহর নেত্রকোণা। যেখানে অপরিকল্পিতভাবে চলাচল করছে ইজিবাইক ও মিশুকের মতো ব্যাটারিচালিত যান।
নেত্রকোণা পৌর শহরের মূল রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসেছে দোকানপাট। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর বসে গেছে পণ্যের পসরা।
অপরদিকে রাস্তার দখল নিয়েছে ইজিবাইক। চালকদের কোনও সিগন্যাল জ্ঞান না থাকায় যেভাবে খুশি সেভাবে ইজিবাইক চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠানামা এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় অতিমাত্রায় বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু বছরের পর বছর এ রকম চললেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কোনও কোনও সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনিকভাবে অভিযান পরিচালনা করলেও তা আবার অভিযান শেষ করে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের অবস্থায় ফেরত যাচ্ছে। যার দরুন সমস্যা থেকে যাচ্ছে যেমন তেমনই। তাই প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
নেত্রকোণা পৌরসভা সূত্রে জানা যায় ২৪০০ শত ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও ১৩০০ মিশুক ও১১০০ রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে পৌর কতৃপক্ষ ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী। যেগুলো পৌরশহরে চলাচল করবে এবং টু শিফটে ভাগ করা হয়েছে একদিন হলুদ কালার আর একদিন লাল কালার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে পৌর শহরের আশপাশ এলাকার পৌরসভার বাহিরের অটোরিক্সা, মিশুক ও রিক্সার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে যানযট বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের সংখ্যাও কম নয়।
দিনের বেলায় পৌরশহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে লড়ি, ট্রাকসহ বিভিন্ন বড় বড় যানবাহন। যার দরুণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পৌরশহরের সংকুচিত একমাত্র রাস্তাটি ব্যস্ত থেকে মহাব্যস্ততায় রুপ নেয় অল্পেতেই। সৃষ্টি হয় কঠিন যানজটের। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশের তেমন কোনও তৎপরতা চোখে পরে না। শহরের কয়েকটা পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা যানজট নিরসনে কার্যকর তেমন কোনও ভূমিকা রাখতে পারছেন না।
এমতাবস্থায় তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পথচারীদের কেউ কেউ দুই পায়ের ওপর ভরসা করলেও অনেকেই তিন চাকার যানের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও অনেকেই মাঝ পথে দীর্ঘ সময় ধরে জ্যামে আটকে থাকেন। তাতে অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের পড়তে হয় বিপাকে। ফলে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। শহরের রাজুর বাজার, আখড়ার মোড়, তেরী বাজার, থানার মোড়, ছোটবাজার, মেছুয়া বাজার, বড় বাজার, চক মসজিদ মোড়, মালনীরোড, মোক্তারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্যাম একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সব পয়েন্টগুলোতে ছোট জানের মাঝারি দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মত।
এলাকাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু পয়েন্টে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত দখল করে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। যার ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পথচারীদের জন্যে ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর অবৈধভাবে সুবিধা লুটছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। ফুটপাত দখল করে ফল, কাপড়, জুতা, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। এতে করে একদিকে যেমন সংকুচিত হয়েছে রাস্তা অপরদিকে পথচারীদের হাঁটতে হচ্ছে মুল রাস্তা ধরে। ফলে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথাচারীরা।
জেলার সচেতন সমাজ ও সাধারণ পথচারীরা এসব সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেন, নেত্রকোনায় যেহেতু কোনও বাইপাস সড়ক অদ্যাবধি হয়নি সেহেতু যতটুকু রাস্তা আমাদের রয়েছে ততটুকুর সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে জেলাপ্রশাসকের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও রাস্তায় সীমিত যান এবং সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত শহরের মুল সড়ক দিয়ে ট্রাক-লড়িসহ বিভিন্ন বড় বড় যান চলাচল নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।
এমতাবস্থায় নেত্রকোণা পৌর এলাকাকে যানজটমুক্ত রাখতে সীমিত সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল ও ফুটপাতগুলোকে দখল মুক্ত রাখার দাবি পৌরবাসীর।এছাড়া জেলা শহরের বড়বাজার চক মসজিদ মালনী রোড, তেরি বাজার মোড় খেকে ওয়ান ওয়ে রিক্সা চলাচল করলে যানজট কমে আসবে বলে সচেতন মহলের ধারণা। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন জনগণ। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (অটো ও মিশুক) এর হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

