খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

ওসমান / জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

একরাম হত্যার ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে পরিবার

টেকনাফের আলোচিত সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ একরামুল হক হত্যার অভিযোগে অবশেষে মামলা করতে যাচ্ছে তার পরিবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিহত একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

বুধবার সন্ধ্যায় আয়েশা বেগম জানান, ২০১৮ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়। এরপর বিচার চাওয়ার সুযোগ পাননি, মামলাও করতে পারেননি। তবে এবার তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং শিগগিরই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

ক্রসফায়ারে জড়িতদের আসামি করা হবে

আয়েশা বেগম ইঙ্গিত দিয়েছেন, মামলায় র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সেই সদস্যদের আসামি করা হবে, যারা সরাসরি একরাম হত্যায় জড়িত ছিলেন।

২০১৮ সালের ২৬ মে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ একরামুল হক। হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্যরা বিচার চাইতে পারেননি, এমনকি প্রকাশ্যে শোকও প্রকাশ করতে পারেননি। তবে একরামের দুই মেয়ে তাঁদের বাবার প্রতি হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ঘরের দেয়ালে লিখে রেখেছিলেন।

অডিও ক্লিপে ফাঁস হয়েছিল নিষ্ঠুর সত্য

একরাম হত্যার পর তাঁর পরিবারের একটি অডিও ক্লিপ সারাদেশকে নাড়িয়ে দেয়। একরামের প্যান্টের পকেটে থাকা ফোনে তার মেয়ে কল দিলে চাপ লেগে রিসিভ হয়ে যায় এবং সেই মুহূর্তের কথোপকথন নিহতের স্ত্রীর মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়ে যায়। ওই সময় একরামের এক মেয়ে বলেন, ‘আব্বু, তুমি কানতেছ যে!’ এরপর শোনা যায় গুলির শব্দ ও শোরগোল।

শেখ হাসিনার পতনের পর ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার

গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর একরামের পরিবার আশান্বিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আস্থা রেখে এবার তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আয়েশা বেগম বলেন, “এতদিন ভয়ে বিচার চাইতে পারিনি। এবার ন্যায়বিচারের জন্য ঘাতকদের শাস্তি চাই। আমার স্বামী কখনও মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছয় বছর কেটে গেলেও ক্ষতিপূরণ দূরের কথা, কেউ খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি। এখন নতুন সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়ার আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “স্বামী হত্যার বিচার চাওয়ায় আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে ন্যায়বিচার চাইতে চাইলেও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ফোন করে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। তারা বিচারের আশ্বাস দিলেও কিছুই হয়নি।”

নতুন তদন্ত ও গণমাধ্যমের ভূমিকার বিচার চান আয়েশা

আয়েশা বেগম সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, “একরাম হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মিথ্যা’ বয়ান প্রচারের দায়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার কি একরাম হত্যার প্রকৃত বিচার মিলবে? তা সময়ই বলে দেবে।

পিআইও’র দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে মিথ্যা মামলায় সংবাদ সম্মেলন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
পিআইও’র দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে মিথ্যা মামলায় সংবাদ সম্মেলন 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:  ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিআইও’র দ্রুত অপসারণ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টায় সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ এত রাতে অফিস করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।

এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংবাদিক জিয়াউর রহমান।
এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ রানীশংকৈল উপজেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন ও
সাধারণ সম্পাদক, জাফর আলী ও সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌস সহ ৫ জন কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার ।

এসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি জাহিদ অভিযোগ করে বলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার বিগত সরকারের আমল থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই পিআইও

উপজেলা ডাকবাংলোতে প্রায় এক মাস অবস্থান করে ১৪,৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকেও ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও প্রকাশ্যে অফিসে বসে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তথ্য প্রদান না করে সাংবাদিকদের হয়রানি করার দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন
আমার এই কঠিন সময়ে আমার পাশে আমার স্বামীর থাকা সবচাইতে জরুরি ছিল। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাজানো ও মিথ্যা মামলায় আমার স্বামী আজ কারাগারে। আমি এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে আমার স্বামীর মুক্তি ও ওই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও কলম যোদ্ধাদের হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে পিআইও নুরুন্নবী সরকারকে রাণীশংকৈল থেকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তর ডিলার সমিতির নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি সুমন, সাধারণ সম্পাদক অন্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তর ডিলার সমিতির নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি সুমন, সাধারণ সম্পাদক অন্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তর ডিলার সমিতির নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচনে সমিতির সদস্যদের ভোটে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার সুমন সর্দার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার সাব্বির আহমেদ অন্তর।

​নব-নির্বাচিত সভাপতি সুমন সর্দার ডিলার সমিতির দায়িত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও একজন সুপরিচিত মুখ। তিনি বর্তমানে রাজশাহী শাহ মখদুম থানা বিএনপির সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই নতুন নেতৃত্বে ডিলার সমিতির কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​অন্যদিকে, ডিলার সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ অন্তর ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। তিনি বর্তমানে রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে একই কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি ০৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন।

​নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তর ডিলার সমিতির সাধারণ সদস্যদের অধিকার আদায়, ডিলারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সমিতির সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভোটার ও সাধারণ ডিলারবৃন্দ।

দিনাজপুরে র‌্যাব-১৩’র পৃথক অভিযানে ১,১১৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেফতার ১

মাসুদুর রহমান, জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে র‌্যাব-১৩’র পৃথক অভিযানে ১,১১৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেফতার ১

দিনাজপুরে র‌্যাব-১৩ এর পৃথক দুইটি অভিযানে মোট ১,১১৩ বোতল ফেনসিডিলসহ সমজাতীয় অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র‌্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার কোতয়ালী থানাধীন ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পলাতক আসামি মোঃ তোহিমুল ইসলাম ওরফে কেরু বিল্লাল (৩৪)-এর বাড়ির পূর্ব পাশে বসতঘরের দেয়াল সংলগ্ন স্থানে প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে রাখা ৩৯৩ বোতল এসকাফ, ১১৭ বোতল ফেনসিগ্রীপ এবং ১৬৯ বোতল ফেয়ারডিলসহ মোট ৬৭৯ বোতল ফেনসিডিল সমজাতীয় মাদক জব্দ করা হয়।
পৃথক আরেকটি অভিযানে একই দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কোতয়ালী থানাধীন ৭নং উথরাইল ইউনিয়নের নুনাইচ কাকিঁলাদীঘি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে ২৩৪ বোতল আরসিকাফ প্লাস ও ২০০ বোতল ফেনসিগ্রীপসহ মোট ৪৩৪ বোতল ফেনসিডিল সমজাতীয় মাদক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ আইন উদ্দীন (৫২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল এবং মাদক পরিবহনে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করত।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি ও জব্দকৃত আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব-১৩ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।